[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



আনিসুল হককে ক্ষমা চাইতে হবে!


প্রকাশিত: August 9, 2016 , 1:08 am | বিভাগ: অপিনিয়ন,আপডেট,প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি


arif

আরিফ চৌধুরী শুভ : এ অপমান সহ্য করার মতো না। আমি চার নাম্বার অবস্থানে থাকা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ‘স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ’ এর সচেতন শিক্ষার্থী হিসেবে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। প্রতিবাদ জানাচ্ছি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে।

কথা সাহিত্যিক ও গদ্যলেখক এবং প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক আনিসুল হককে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সস্পকিত তার বির্তকিত লেখা ‘‘বিশ্ববিদ্যালয় কুয়োর ব্যাঙ বানাবে না’’ কলাম এর জন্যে নি:শর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহবান জানাচ্ছি।

অনেক বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন দিকে যেমন শিক্ষায় সচেতনতায় আর অবকাঠামোগত দিক থেকে চাহিদার তুলনায় পিছিয়ে থাকতে পারে। তার মানে এই নয় যে সাড়ে ৫ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যত যেই সকল প্রতিষ্ঠানের উপর নির্ভর করছে আনিসুল হক সেগুলোকে সমহারে কুয়ো আর ব্যাঙ বানিয়ে ফেলবেন।

অবাক হয়েছি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে তার চিন্তাধারার বিকাশ দেখে। আজ থেকে আমারা সবাই রংপুরে আনিসুল হকের কুয়োর ব্যাঙ।

আনিসুল হকের বাসার টয়লেট, আঙ্গিনা, ড্রংয়িং রুম, সোফা, শোবার ঘর, বাসার ঘর, খাবার খর, রান্না ঘর এর বর্নণা যদি দিতেই হয়, মানুষকে জানাতেই হয় তার এই সব আছে তাহলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে উদাহরণ কেন? তার বাড়ির আসবাবপত্র যতই দামি হোক না কেন, তা কখনই একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (হোক সেটা সরকারি কিংবা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়) ভিসি, প্রক্টর, রেজিস্ট্রার, প্রেসিডেন্ট, শিক্ষার্থী এবং ক্লাসরুমের সাথে তুলনা করা যায় না। এটি কি জ্ঞানের অপরিপক্কতার পরিচয় নয়?

টাকা বেশি দিলে জিপিএ ৪ পাওয়া যায় আর কম দিলে ২.৫ এই তত্ত্ব আনিসুল হক কোথায় পেয়েছেন? আনিসুল হককে আমি অত্যন্ত ক্ষুদ্ধভাবে বলতে চাই, আপনি এমন একটা সময়ে এই লেখা লিখেছেন যখন সরাদেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি মানুষের বিরূপ দৃষ্টি উঠা নামা করছে।

প্রথম আলোতে আপনি যা লিখবেন তাই ছাপা হবে তা আমরা জানি। কিন্তু ঘরপোড়ার ভেতর আলু পোড়া দেওয়া নিশ্চই বুদ্ধিমান আর বিবেকবানের কাজ হতে পারে না। কিন্তু আপনার এই লেখা নিয়ে আমি দ্বিমত পোষণ করছি।

এমন সময়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আপনি এমন একটি চিত্র তুলে ধরলেন যখন দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে মানুষ ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কি সত্যিকারে জঙ্গি বানাচ্ছে, না বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার জন্যে জঙ্গি তকমায় টোপ হিসেবে নিরীহ শিক্ষার্থীদের ব্যবহারে উঠে পড়ে লেগেছে কোন পক্ষ।

আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফসর ড. এম ফিরোজ অাহমেদতো আনিসুল হকেরও শিক্ষক। একাধারে তিনি একজন বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী, গবেষক, এবং বিশাল ব্যক্তিত্বের অধিকারী ও সজ্জন মানুষ। শেষ কথা তিনি একজন সুশিক্ষক। অামার খুব জানতে ইচ্ছে করে, তিনি কি আনিসুল হককে বুয়েটে থাকতে টাকার বিনিময়ে সার্টিফিকেট দিয়েছেন? না হলে আনিসুল হক সমহারে সব বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে এভাবে বলতে পারেন কিভাবে?

একজন শিক্ষক যখন বুয়েটে শিক্ষকতা করেন তখন তিনি শুদ্ধ শিক্ষকতা চর্চা করেন আর বেসরকারিতে আসলেই অশুদ্ধ পাঠদান দেন এমনতো হতে পারে না। তাহলে শিক্ষার্থী একা কেন, শিক্ষকও দায়ী থাকেবন। এ দায় একা কেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নেবে? উত্তর দেবেন আনিসুল হক।

যদি আনিসুল হকের কথা সত্যি হয় তাহলে বলবো বুয়েটের শিক্ষা ব্যবস্থায়ও গলদ আছে। যেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে দেখিয়ে তিনি তকমাটা আমাদের দিকে ছুঁড়েছেন সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরও শিক্ষা ব্যবস্থায় গলদ আছে। বেশিদিন আগের কথা নয়, প্রশ্নফাঁস আর সন্ধ্যাকালিন কোর্স চালু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন অনুষদের সার্টিফিকেট বিক্রি করার কারণে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমেছেন এবং আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে সে বিষয়। তাদের নিয়ে আনিসুল হকের মাথাব্যাথা নাই কেন?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের কারণে কিছুদিন আগে শিক্ষার্থীরা ড. জাফর ইকবালের যে হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন আনিসুল হক কি সেটি ভুলে গেছেন?

হলের বারান্দায় থেকে শিক্ষার্থী হাফিজুর নিউমিনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন সেটি কি ভুলে গেছেন? কারা করেছিল বর্ষবরণে শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানি? কারা পুরান ঢাকার বিশ্বজিৎকে নিমর্ম ভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছিল? আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে, কারা ড. এমাজ উদ্দিনকে অপমান করেছে? কারা বর্তমান ভিসির রুমে তালা মেরেছে কিছুদিন আগে?
সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. জাফর ইকবালের স্ত্রী ইয়াসমিন ইকবালের গায়ে কারা হাত দিয়েছিল সেদিন? কি এমন পরিস্থিতি দেখে সেদিন ড. জাফর ইকবাল বলেছিলেন, ‘আমার গলায় দড়ি দিয়ে মরা উচিত?’।

এভাবে হাজারও উদাহরণ দিলে দেওয়া যায় কিন্তু প্রশ্ন হল নিশ্চই তারা কেউ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী না। আনিসুল হকের কথা অনুযায়ী তারাতো স্বাস্থ্যসম্মত অবকাঠামোতে থেকে পরিপুষ্ট সুশিক্ষা পাচ্ছে।

আর আনিসুল হকের সাত রং লাগানো টিনের ঘরের সোফার অতিথি আর আমরা আনিসুল হকের রংপুরের দামি বাসার পুসকুনির ব্যাঙ।

কবি সাহিত্যিকরা ব্যাঙ্গের শব্দে ছন্দ খুঁজে পেলেও অনিসুল হক পান জঙ্গি। ব্যাঙ্গের গেঙ্গর গেঙ্গর ডাক শুনতে অনেকের ভালো লাগে না। নিশ্চয় আমার এই কথাগুলোও অনিসুল হকের ভালো লাগতে নাও পারে। কিন্তু তার কলামটি পড়ে মনে হচ্ছে এই রাষ্ট্রও আমার জন্যে বোঝা? না হয় আমি রাষ্ট্রের জন্যে? আমার এই শিক্ষা ব্যবস্থার জন্যে দায়ি কে? আমি, আনিসুল হক, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নাকি রাষ্ট্র?

আমিও নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হয়েছি ২০০৯-১০ এ। দু্ই টাকা বাস ভাড়া নিয়ে যখন ৪ জন ছাত্র মারা গেল তখন রুচিশীল চিন্তা ভাবনা নিয়ে ক্যাটগরি পরিবর্তন করেছি।

হয়েছি সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। আনিসুল হকও একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। তার মানে এই নয় যে, আমি আপনার কুয়োর ব্যাঙ হয়ে গেছি। আপনার কুয়োয় অনেক পানি থাকতে পারে কিন্তু তাতে মাছ চাষের চিন্তা করুন বাঙ না। আপনার এভাবে ভাবার সাহস দেখে বিষ্মিত হলাম।

২০১৫-১৬ অর্থবছরে সরকার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফির উপর ৭.৫% ভ্যাট বসিয়ে যখন শিক্ষাকে বিভক্ত করার চিন্তা করেছে তখন আনিসুল হক কই ছিলেন? তখন কি তিনি আমাদের মতো কুয়োর ব্যাঙ এর সর্দার ছিলেন নাকি তার কুয়োই ছিল না। এই ব্যাঙগুলোই পেরেছে রাস্তায় উঠে আসতে। ইতিহাস রচনা করতে।

তিনি কি জানেন না শিক্ষায় কোন পার্থক্য হতে পারে না। শিক্ষা কোন উপকরণ না। কই তিনি তো ভ্যাটের বিরুদ্ধে তখন কোন লেখাই লেখলেন না। এতই যদি দেশপ্রেমিক আর সুশিল হন তাহলে কাউকে হেও করে নয়, যুক্তি দিয়ে সংশোধনের সুযোগ দিন। এক পক্ষীয় লেখা নয়, সামগ্রিকভাবে দেখুন, লেখুন। সেই ভ্যাটের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিবাদটি আমিই শুরু করেছি। বিজয় হাওয়ার পরে আপনি আনিসুল হকও সেলফি তুলেছেন আমার সাথে।

প্রশ্ন হলো সাড়ে পাঁচলাখ শিক্ষার্থীর এ সফলতা বিশ্বের ইতিহাসে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সেটি কি আনিসুল হক ভুলে গেছেন?

এমন একটি বিষয় নিয়ে আমি যখন আনিসুল হকের কথার প্রতিবাদ করছি ঠিক তখন সিঙ্গাপুরের মাটিতে লিডারশিপ এওয়ার্ড হাতে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করছেন আমার ইউনিভার্সিটির ভিসি ফিরোজ আহমেদ।

আমরা গর্বিত এমন মহান মানুষকে নিয়ে যিনি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বের দরবারে উঁচু করেছেন। উঁচু করেছেন বাংলাদেশকেও।

আমরা লজ্জিত আনিসুল হকের মতো লেখকদের ভিন্ন দৃষ্টি ভঙ্গির জন্যে। আশা করি সকলের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে। ক্ষমা চাইবেন আনিুল হক।

 

 

আরিফ চৌধুরী শুভ
সাংবাদিক ও লেখক
স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ

 

 

ঢাকা, ০৯ আগস্ট (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//জেএন