[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



রাবিতে নিয়োগ ছাড়াই চাকরি করছেন দীর্ঘদিন!


প্রকাশিত: August 9, 2016 , 4:40 pm | বিভাগ: আপডেট,এক্সক্লুসিভ,ক্যাম্পাস,পাবলিক ইউনিভার্সিটি,রাজশাহীর ক্যাম্পাস


ru-logo

মনিরুল ইসলাম নাঈম,রাবি: ‘২০১১ সালে বাবা চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার পরে ইসলামের ইতিহাস বিভাগ থেকে আমাকে চাকরিতে যোগ দিতে বলা হয়।
তাই সংসারের হাল ধরতে যোগ দেই সেমিনার লাইব্রেরীয়ান হিসেবে। তখন আমাকে বলা হয়েছিল কিছু দিনের মধ্যেই চাকরি স্থায়ী হবে। অথচ পাঁচ বছর হতে চলেছে এখানো চাকরি স্থায়ী হয়নি। সংসারের সহযোগিতা করাতো দূরে থাক, উল্টো বাবা-মা শ্যাযাগত হওয়া অবস্থায় আমি তাদেরই বোঝায় পরিণত হয়েছি।’

এভাবেই চোখের পানি মুছতে মুছতে কথা গুলো বলছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সেমিনার লাইব্রেরিয়ান তাহেরা খাতুন।’

শুধু তাহেরা খাতুন নয়, এই রকম দশ-পনের বা বিশ বছর ধরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বাবা-মায়ের পরিবর্তে বা উত্তরাধীকারী সূত্রে (পোষ্য কোটায়) চাকরিতে প্রবেশ করলেও এখনো তাদের চাকরী স্থায়ী হয়নি। বিভাগ থেকে সামান্য সগযোগিতা নিয়েই চলছে তাদের মানবেতর জীবন-যাপন। রাজনৈতিক কারণে তাদের চাকরি স্থায়ী হচ্ছে না বলে কয়েকজন অভিযোগ করেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ বলছেন, ‘বিভিন্ন জটিলতার কারণে তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হচ্ছে না।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের নিন্মমান অফিস সহকারী মো. আহসান ২১ বছর, নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের সেমিনার লাইব্রেরিয়ান মো. রফিকুল আলম ১০ বছর, একই বিভাগের সেমিনার বেয়ারার জিল্লুর রহমান বাচ্চু ৯ বছর, অর্থনীতি বিভাগের অফিস সহকারী রফিকুল ইসলাম ১২ বছর, সঙ্গীত বিভাগের নিন্মমান অফিস সহকারী মোবিন উদ্দিন আহমেদ ১১ বছর, একই বিভাগের সেমিনার বেয়ারার মো. সাদ্দাক আলী ১২ বছর, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সেমিনার বেয়ারার গোলাম হোসেন ৮ বছর, ভাষা বিভাগের কম্পিউটার অপারেটর জেবুন্নেসা শিমু ৫ বছর, ইংরেজি বিভাগের নিন্মমান অফিস সহকারী মাসুম আহমেদ ১১ বছর।

একই বিভাগের কর্মচারী মনিরুজ্জামান ১১ বছর, দর্শন বিভাগের অফিস সহকারী সলেমান আলী ১০ বছর, জেনেটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের নিন্মমান অফিস সহকারী সিরাজুল ইসলাম ১ বছর, এগ্রোনমী এন্ড এগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন বিভাগের নিন্মমান অফিস সহকারী জিয়াউর রহমান ১২ বছর, এনিমেল হাজবেন্ড্রী এন্ড ভেটেরিনারি সায়েন্স বিভাগের ল্যাব এটেন্ডেন্ট আমিনুল ইসলাম ১২, একই বিভাগের নিন্মমান অফিস সহকারী শাহারুল ইসলাম ১২ বছর, ক্রপ সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি বিভাগের অফিস সহকারী সোহরাব হোসেন ১২ বছর, ম্যাটেরিয়ালাস এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ল্যাব এটেন্ডেন্ট মো. রকিবুল হাসান ১২ বছর, ফাইন্যান্স বিভাগের কম্পিউটার অপরেটার জিয়াউল করিম ১ বছর প্রমুখ।

এই তালিকার অধিকাংশ পোষ্য কোটায় চাকরিতে যোগদান করেছে, তবে ব্যতিক্রম দুই-একজন আছে। সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায় স্থায়ী/অস্থায়ী কোন রকম নিয়োগ ছাড়াই বিভাগের সামান্য কিছু অর্থে সেবা দিয়ে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়কে। এদের সংখ্যা প্রায় অর্ধশতাধিক বলে জানা যায়।

বাবার পরিবর্তে চাকরিতে যোগদানকারী ভাষা বিভাগের কম্পিউটর অপারেটর জেবুন্নেসা শিমু বলেন, ‘আমরা বেশ কয়েকবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে চাকরি স্থায়ী করার জন্য আবেদন করেছি, কিন্তু কোন ফল হয়নি। প্রশাসন কতজনকে বিভিন্নভাবে সাহায্য সহযোগিতা করছে, অথচ আমাদের দিকে তাকানোর কেউ নেই। বাবার পরিবর্তে চাকরিটা পেয়েছি, ভেবেছিলাম হয়ত খুব তাড়াতাড়িই চাকরিটা স্থায়ী হয়ে যাবে। কিন্তু পাঁচ বছরেও সেটা হয়নি।’

চাকরি স্থায়ী না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের নিন্মমান অফিস সহকারি আহসান জানান, ‘আমি ইন্টার পাশ কারার পর ১৯৯৫ সাল থেকে এখানে আছি। দলীয় কারণে আমাদের চাকরি এখন পর্যন্ত স্থায়ী হয়নি। আমি জানিনা যে শিক্ষকদের মধ্যে এত গ্রুপিং কেনো। আমাদের বিষয়গুলো যখনই উপরে যায় তখন দলীয় পরিচয়টা আগে দেখা হয়।’

বেতন কিভাবে দেয়া হয় জানতে চাইলে নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি ড. মো. আদিল হাসান চৌধুরী বলেন, ‘বিভাগের নিজস্ব ফান্ড এবং শিক্ষার্থীরা সেমিনারের বই ফটোকপি থেকে আদায়কৃত অর্থের মাধ্যমে সামান্য কিছু সহযোগিতা করে থাকি।’

বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি প্রফেসর মুহম্মদ মিজানউদ্দিন বলেন, ‘উত্তরাধীকার সূত্রে চাকরি পাওয়া এই ব্যাক্তিদের নিয়োগ দিতে গেলে নানা প্রশ্নের সম্মুখিন হতে হয়। এছাড়া রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতা তো আছেই। তবে দীর্ঘদিন ধরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ করে যাচ্ছে, আশা করি আমাদের মেয়াদের মধ্যেই তাদের নিয়োগ সম্পন্ন করতে পারবো।’

 

ঢাকা, ০৯ আগস্ট (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এফআর