[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



নকলার রাস্তায় সারি সারি তাল গাছ


প্রকাশিত: August 9, 2016 , 8:07 pm | বিভাগ: ট্যুরিজম এন্ড এনভায়রনমেন্ট,ফিচার


sherpur-2

রফিক মজিদ : ‘তাল গাছ এক পায়ে দাড়িয়ে/সব গাছ ছাড়িয়ে’, ‘ঐ দেখা যায় তাল গাছ/ ঐ আমাদের গাঁ, ঐ খানেতে বাস করে/কানা বগি’র ছাঁ,’ এসব ছড়া’র সাথে আমরা কম বেশি সবাই পরিচিত। তাল গাছের সাথে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য জড়িয়ে আছে যুগ যুগ ধরে। শুধু ছাড়াই নয়, এই তাল গাছ নিয়ে রয়েছে ছড়া-গান, নানা গল্প-উপ্যনাস।

বাস্তবে, প্রচন্ড গরমে কঁচি তালের শাঁস বা বীচি খাওয়ার মজাই আলাদা। এছাড়া তালের রস, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী তালের পিঠাসহ নানা পিঠা-পুলি ও বিভিন্ন মুখরোচক খাবারের নাম শুনলেই জিভে পানি এসে যায়। সেইসাথে ‘তালের পাখা’ বা তাল গাছের পাতার পাখা, তাল পাতার বাশিঁ, তাল গাছে বাবুই পাখি’র বাসাসহ নানা পাখ-পাখালি’র শিহরণ জাগানো কলরব কথা বলে শেষ করা যাবে না।

কিন্তু এ আধুনিক যুগে এসে জলবায়ু পরিবর্তন সহ নানা বিবর্তনে গ্রাম বাংলার এ তাল গাছ প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। সমাজে এ কথা প্রচলন রয়েছে যে, তাল গাছের বৃদ্ধি অনেক ধীর গতি বলে তালের চারা রোপন করে ওই গাছের তাল খাওয়া নাকি ভগ্যের ব্যপার। যার ফলে বর্তমানে ফোর-জি ইন্টারনেটের যুগে এ তাল গাছ রোপনে কারো কোন আগ্রহ নেই। হাই ব্রীড যত ফলদ ও বনজ গাছ আছে সেসব গাছের চারা রোপন নিয়েই ব্যস্ত সবাই।

কিন্তু এর ব্যতিক্রমি উদ্দ্যোগ নেয়া হয়েছে শেরপুরের নকলায়। স্থানীয় সাংসদ ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী এই ফোর-জি গতির যুগেও ধীর গতিতে বেড়ে ওঠা তাল গাছকে দেখছে ভিন্ন ভাবে। তার পরিকল্পনায় নেয়া হয়েছে রাস্তার দুই পাশে তাল গাছ রোপনের প্রকল্প।

sherpur

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানাগেছে, একটি তাল গাছ পরিবেশ বান্ধবের পাশাপাশি মাটির ভাঙ্গন রোধ করে, বিশেষ করে রাস্তার পাশের মাটি বর্ষা বা বন্যার পানিতে শত ভাঙ্গনের মুখেও রাস্তা ভাঙ্গনে রোধ করে তাল গাছের শিকড়।

এছাড়া তাল গাছে বিলুপ্ত প্রায় বাবুই পাখিসহ নানা প্রজাতির পাখি আস্তানা গড়ে উঠে। সব চেয়ে লাভের বিষয় হলে অনেকটা অযত্নে অবহেলায় বেড়ে ওঠা এই তাল গাছ থেকে পাকা তালের পাশপাশি বর্তমানে অপরিপক্ক বা কাঁচা তালের বীচি বা শাঁসের ব্যপক চাহিদা হয়ে উঠেছে।

একটি তাল গাছে যে পরিমানের তাল ফলন হয় তাতে বছরে প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকার তালের শাঁস বিক্রি করার পর আরো কয়েক হাজার টাকার পাকা তাল বিক্রি করা সম্ভব বলে জানালেন কৃষি বিভাগ।

আর তাই বেগম মতিয়া চৌধুরীর পরিকল্পনায় বাংলদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগীতায় তার নির্বাচনী এলাকা শেরপুরে নকলায় প্রাথমিক ভাবে গত ৫ থেকে ৬ বছর আগে বিভিন্ন গ্রামীণ রাস্তার পাশে পরীক্ষামূলক কয়েক শত তাল গাছের চারা রোপন করে ব্যপক সাফল্য দেখতে পায়।

এরই ধারাবাহিকতায় নকলা উপজেলার উরফা ইউনিয়নের উরফা-পিছলা কুড়ি ব্রীজ পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার সড়কের দুই পার্শ্বে ১০ থেকে ১৫ ফুট দুরত্বে প্রায় তিন হাজার তালের চারা রোপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে দের কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে প্রায় ১ হাজার চারা রেপানের কাজ শেষ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে চারা উৎপাদন করে আগামী এক মাসের মধ্যেই এ রোপন কাজ শেষ করা হবে বলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানাগেছে।

এদিকে চারা রোপনের সময় স্থানীয় গ্রামবাসীর শতস্ফুর্ত অংশ গ্রহন এবং নিজেদের জমিতেও তাল গাছের চারা রোপনে উদ্দ্যোগী হতে দেখা গেছে। এ তাল গাছের চারা উৎপাদনে সহযোগীতা করেছে জামালপুর জেলার হার্টিকালচার সেন্টার।

হার্টিকালচার বিভাগ সূত্রে জানাগেছে, বর্তমানে তাদের উৎপাদিত একটি তাল গাছ পরিপূর্ণ হতে বা গাছে তাল ধরতে সময় নেয় ৮ থেকে ১০ বছর। এরপর নিয়মিত ভাবে প্রতি বছর তাল ধরতে থাকবে। এ সময়ের মধ্যে কোন রকম সার বা কিটনাশকের প্রয়োজন হয়না। তাল গাছ রোপনে কোন খরচ নেই। যে কোন মাটির সড়কের ঢালুতে মাটি খুড়ে তাতে সামন্য কিছু গোবর সার ছিটিয়ে চারা রোপন করা যায়। তবে চারা রোপনের পরপরই পানির সাথে সামন্য কিটনাশক ছিটিয়ে দিলে নানা ধরণের পোঁকার আক্রমন থেকে রক্ষা পাবে এবং চারাগুলো দ্রুত বর্ধনশীল হবে।

বর্তমানে সারা দেশে তাল গাছের সংকট থাকায় এবং তালের চাহিদা বিশেষ করে অপরিপক্ক কাঁচা তালের শাঁস বা বীচি’র ব্যাপক চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ভবিষ্যতে তাল গাছের কদর আরো বাড়বে বলে ধারনা করছে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ।

তাল গাছের সকল লাভের অংশ বাদ দিলেও গাছ যখন পরিপূর্ণ হবে তখন রাস্তার দু’পাশের সারি সারি তাল গাছের সৌন্দর্যও আর দেশিয় নানা পাক-পাখালির কলতানে মন ভরে যাবে। ফিরে আসবে গ্রাম বাংলার চিরচেনা ঐতিহ্য রূপ। আর তখন ওই গ্রামে এসব দৃশ্য দেখতে ছুটে আসবে শহরবাসী ও ভ্রমন বিলাসীরা ।

এ তাল গাছ রোপনের বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. আশরাফ উদ্দিন জানান, মাননীয় কৃষি মন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী তার নিজস্ব পরিকল্পনায় এ তাল গাছ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। তার স্বপ্ন নকলা উপজেলার প্রতি গ্রামের রাস্তার দু’পাশ দিয়ে তাল গাছ রোপন করে জীববৈচিত্র ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি পরিবেশ বান্ধব এ তাল গাছ থেকে সাধারণ গ্রামবাসী বাড়তি আয়ের পথও সুগোম হোক।

রফিক মজিদ : ‘তাল গাছ এক পায়ে দাড়িয়ে/সব গাছ ছাড়িয়ে’, ‘ঐ দেখা যায় তাল গাছ/ ঐ আমাদের গাঁ, ঐ খানেতে বাস করে/কানা বগি’র ছাঁ,’ এসব ছড়া’র সাথে আমরা কম বেশি সবাই পরিচিত। তাল গাছের সাথে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য জড়িয়ে আছে যুগ যুগ ধরে। শুধু ছাড়াই নয়, এই তাল গাছ নিয়ে রয়েছে ছড়া-গান, নানা গল্প-উপ্যনাস।

বাস্তবে, প্রচন্ড গরমে কঁচি তালের শাঁস বা বীচি খাওয়ার মজাই আলাদা। এছাড়া তালের রস, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী তালের পিঠাসহ নানা পিঠা-পুলি ও বিভিন্ন মুখরোচক খাবারের নাম শুনলেই জিভে পানি এসে যায়। সেইসাথে ‘তালের পাখা’ বা তাল গাছের পাতার পাখা, তাল পাতার বাশিঁ, তাল গাছে বাবুই পাখি’র বাসাসহ নানা পাখ-পাখালি’র শিহরণ জাগানো কলরব কথা বলে শেষ করা যাবে না।

কিন্তু এ আধুনিক যুগে এসে জলবায়ু পরিবর্তন সহ নানা বিবর্তনে গ্রাম বাংলার এ তাল গাছ প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। সমাজে এ কথা প্রচলন রয়েছে যে, তাল গাছের বৃদ্ধি অনেক ধীর গতি বলে তালের চারা রোপন করে ওই গাছের তাল খাওয়া নাকি ভগ্যের ব্যপার। যার ফলে বর্তমানে ফোর-জি ইন্টারনেটের যুগে এ তাল গাছ রোপনে কারো কোন আগ্রহ নেই। হাই ব্রীড যত ফলদ ও বনজ গাছ আছে সেসব গাছের চারা রোপন নিয়েই ব্যস্ত সবাই।

কিন্তু এর ব্যতিক্রমি উদ্দ্যোগ নেয়া হয়েছে শেরপুরের নকলায়। স্থানীয় সাংসদ ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী এই ফোর-জি গতির যুগেও ধীর গতিতে বেড়ে ওঠা তাল গাছকে দেখছে ভিন্ন ভাবে। তার পরিকল্পনায় নেয়া হয়েছে রাস্তার দুই পাশে তাল গাছ রোপনের প্রকল্প।

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানাগেছে, একটি তাল গাছ পরিবেশ বান্ধবের পাশাপাশি মাটির ভাঙ্গন রোধ করে, বিশেষ করে রাস্তার পাশের মাটি বর্ষা বা বন্যার পানিতে শত ভাঙ্গনের মুখেও রাস্তা ভাঙ্গনে রোধ করে তাল গাছের শিকড়।

এছাড়া তাল গাছে বিলুপ্ত প্রায় বাবুই পাখিসহ নানা প্রজাতির পাখি আস্তানা গড়ে উঠে। সব চেয়ে লাভের বিষয় হলে অনেকটা অযত্নে অবহেলায় বেড়ে ওঠা এই তাল গাছ থেকে পাকা তালের পাশপাশি বর্তমানে অপরিপক্ক বা কাঁচা তালের বীচি বা শাঁসের ব্যপক চাহিদা হয়ে উঠেছে।

একটি তাল গাছে যে পরিমানের তাল ফলন হয় তাতে বছরে প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকার তালের শাঁস বিক্রি করার পর আরো কয়েক হাজার টাকার পাকা তাল বিক্রি করা সম্ভব বলে জানালেন কৃষি বিভাগ।

আর তাই বেগম মতিয়া চৌধুরীর পরিকল্পনায় বাংলদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগীতায় তার নির্বাচনী এলাকা শেরপুরে নকলায় প্রাথমিক ভাবে গত ৫ থেকে ৬ বছর আগে বিভিন্ন গ্রামীণ রাস্তার পাশে পরীক্ষামূলক কয়েক শত তাল গাছের চারা রোপন করে ব্যপক সাফল্য দেখতে পায়।

এরই ধারাবাহিকতায় নকলা উপজেলার উরফা ইউনিয়নের উরফা-পিছলা কুড়ি ব্রীজ পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার সড়কের দুই পার্শ্বে ১০ থেকে ১৫ ফুট দুরত্বে প্রায় তিন হাজার তালের চারা রোপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে দের কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে প্রায় ১ হাজার চারা রেপানের কাজ শেষ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে চারা উৎপাদন করে আগামী এক মাসের মধ্যেই এ রোপন কাজ শেষ করা হবে বলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানাগেছে।

এদিকে চারা রোপনের সময় স্থানীয় গ্রামবাসীর শতস্ফুর্ত অংশ গ্রহন এবং নিজেদের জমিতেও তাল গাছের চারা রোপনে উদ্দ্যোগী হতে দেখা গেছে। এ তাল গাছের চারা উৎপাদনে সহযোগীতা করেছে জামালপুর জেলার হার্টিকালচার সেন্টার।

হার্টিকালচার বিভাগ সূত্রে জানাগেছে, বর্তমানে তাদের উৎপাদিত একটি তাল গাছ পরিপূর্ণ হতে বা গাছে তাল ধরতে সময় নেয় ৮ থেকে ১০ বছর। এরপর নিয়মিত ভাবে প্রতি বছর তাল ধরতে থাকবে। এ সময়ের মধ্যে কোন রকম সার বা কিটনাশকের প্রয়োজন হয়না। তাল গাছ রোপনে কোন খরচ নেই। যে কোন মাটির সড়কের ঢালুতে মাটি খুড়ে তাতে সামন্য কিছু গোবর সার ছিটিয়ে চারা রোপন করা যায়। তবে চারা রোপনের পরপরই পানির সাথে সামন্য কিটনাশক ছিটিয়ে দিলে নানা ধরণের পোঁকার আক্রমন থেকে রক্ষা পাবে এবং চারাগুলো দ্রুত বর্ধনশীল হবে।

বর্তমানে সারা দেশে তাল গাছের সংকট থাকায় এবং তালের চাহিদা বিশেষ করে অপরিপক্ক কাঁচা তালের শাঁস বা বীচি’র ব্যাপক চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ভবিষ্যতে তাল গাছের কদর আরো বাড়বে বলে ধারনা করছে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ।

তাল গাছের সকল লাভের অংশ বাদ দিলেও গাছ যখন পরিপূর্ণ হবে তখন রাস্তার দু’পাশের সারি সারি তাল গাছের সৌন্দর্যও আর দেশিয় নানা পাক-পাখালির কলতানে মন ভরে যাবে। ফিরে আসবে গ্রাম বাংলার চিরচেনা ঐতিহ্য রূপ। আর তখন ওই গ্রামে এসব দৃশ্য দেখতে ছুটে আসবে শহরবাসী ও ভ্রমন বিলাসীরা ।

এ তাল গাছ রোপনের বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. আশরাফ উদ্দিন জানান, মাননীয় কৃষি মন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী তার নিজস্ব পরিকল্পনায় এ তাল গাছ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। তার স্বপ্ন নকলা উপজেলার প্রতি গ্রামের রাস্তার দু’পাশ দিয়ে তাল গাছ রোপন করে জীববৈচিত্র ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি পরিবেশ বান্ধব এ তাল গাছ থেকে সাধারণ গ্রামবাসী বাড়তি আয়ের পথও সুগোম হোক।

 

ঢাকা, ০৯ আগস্ট (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এফআর