[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



চারটি প্রাথমিক স্কুল বেদখল: মদ, জুয়া ও পতিতাদের আড্ডাস্থল


প্রকাশিত: August 9, 2016 , 11:15 pm | বিভাগ: আপডেট,এক্সক্লুসিভ,ক্যাম্পাস,সিলেটের ক্যাম্পাস,স্কুল


sylhet, bianibazar

 

আশরাফুল ইসলাম শান্ত, সিলেট: স্কুলের বিল্ডিং এ চলে মাদকের আড্ডা। নেশায় বুদ বুদ হয়ে বখাটেরা ঘুরে বেড়ায়। হর-হামেশাই চলে নেশা ও মাদক বেচাকেনা। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গেই জোড়ায় জোড়ায় প্রবেশ করে রাতের দেহদানকারীরা। বলার সাহস কারো নেই। এক কথায় অসামাজিক কাজের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। এমন অভিযোগ উঠেছে সিলেট জেলার বিয়ানী বাজারের চারটি স্কুলকে ঘিরে।

স্কুলের বিল্ডিং আছে। ছাত্র নেই। অবকাঠামো আছে কিন্তু নেই কোন ছাত্র ও শিক্ষক। সংশ্লিস্টরা জানান, ১৫ বছর আগে বিয়ানীবাজারে সরকারি টাকায় নির্মাণের পর পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে ৪টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ওইসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনটিতে গরুর খামার গড়ে তোলা হয়েছে।

এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনের তেমন আগ্রহ নেই। উপজেলা নির্বাহি অফিসারসহ কর্মকর্তারা জানলেও কোন উদ্যোগ নেয়নি কেউ। এ প্রসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাছুম মিয়া ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় নির্দেশনা এলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, এর বাইরে আমরই বা কি করার আছে।

আবার কোনটি রাতের আঁধারে মাদকাসক্তদের আড্ডাখানা আর অনৈতিক কাজের আস্তানায় পরিণত হয়েছে। প্রায় ১৫ বছর ধরে স্কুলগুলো বন্ধ থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

এলাকাবাসী আরও জানান,এসব স্কুলগুলো হলো উত্তর শ্রীধরা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আভংগী বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সারপারের টেকইকোনা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ও শেখলাল বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
সরজমিন দেখা যায় রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বেদখল হয়ে গেছে ওইসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমি। স্কুলের আসবাবপত্র, চেয়ার-টেবিল খোয়া গেছে অনেক আগেই। কোন কোন স্কুল প্রাঙ্গণ দখলে নেয়ার পাশাপাশি গোচারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে। আবার কোনটির মাঠ দখল করে বেড়া দিয়ে ক্ষেত-খামার করা হচ্ছে।
এলাকাবাসী জানান, ওইসব স্কুলের জন্য স্থানীয় লোকজন চাঁদা তুলে নির্দিষ্ট পরিমাণ জমি ক্রয় করে সরকারের নামে জমি রেজিস্ট্রি করে দিয়েছিলেন। এজন্য এলাকার লোকজনকে ৫-১০ লাখ টাকা গুনতে হয়। ১৯৯৫-৯৬ অর্থবছরে ওইসব স্বল্পব্যয়ী স্কুলগুলোর ভবন সাড়ে তিন লাখ থেকে পাঁচ লাখ টাকা খরচ করে নির্মাণ করা হয়।
ওই ভবন নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে শিক্ষা বিভাগের কার্যক্রম। মুড়িয়া ইউনিয়নের আভংগী বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনটি মুড়িয়া হাওরের একপ্রান্তের মাটির তৈরি উঁচু ঢিবির ওপর দাঁড়িয়ে আছে।

ইউপি চেয়ারম্যান আবুল খায়ের ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, আভংগী গ্রামে কোন স্কুল না থাকায় ওই গ্রামের ছাত্রছাত্রীদের অপর গ্রামে অবস্থিত তাজপুর-আভংগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যেতে হয়। সরকার স্কুলটিকে সরকারি না করায় অর্থনৈতিক টানাপোড়নে বন্ধ হয়ে যায়।

স্কুলটি প্রতিষ্ঠার পর কয়েক বছর স্থানীয় ব্যক্তিরা টাকা তুলে শিক্ষকদের বেতন দিয়ে স্কুলটি চালু রেখেছিলেন। কিন্তু বন্ধ স্কুলগুলোর কোন তথ্যই উপজেলা শিক্ষা অফিসে নেই।

ওই এলাকার পার্শ্ববর্তী টেকইকোনা বেসরকারি স্কুলের চিত্র খুবই করুণ। রাতের বেলা ওই স্কুল ভবনে বসে জুয়া আর মাদকাসক্তদের আসর। স্কুলের সামনের মাঠজুড়ে সবজি চাষ করা হচ্ছে। ভবনের সবগুলো দরজা-জানালা খোলা। স্থানীয়রা জানান, স্কুলটি সরকারিকরণের জন্য সরকারের সংশিষ্ট দপ্তরে আবেদন-নিবেদন করে কোনো লাভ হয়নি।
শিক্ষকদের মাসিক বেতন ছিল মাত্র পাঁচ ‘শ টাকা। বেতনের ওই টাকা সরকার থেকে পাওয়া বন্ধ হয়ে গেলে তারা অন্যত্র চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্কুলটিও বন্ধ হয়ে যায়।
মাথিউরা ইউনিয়নের শেখলালে অবস্থিত বেসরকারি স্কুলটির একই দশা। স্কুল ভবনটি কখনও গরুর খোঁয়াড়, কখনও ধান মাড়াই, কখনও ধানের খড় রাখার কাজে ব্যবহার করা হয়। ভবনের একটি কক্ষ স্থানীয় লোকজন একটি সামাজিক সংগঠনের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করেন।
বিভিন্ন সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভবনের চাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মুফতি শিব্বির আহমদ ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, সরকারের লাখ লাখ টাকা ব্যয় করে নির্মিত স্কুল ভবনটি রক্ষণাবেক্ষণ না থাকাতে বেওয়ারিশ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

 

সিলেট, ০৯ আগস্ট (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এএম