[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



‘আনিসুল হকের লেখার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ: নি:শর্ত ক্ষমা দাবি’


প্রকাশিত: August 9, 2016 , 11:41 pm | বিভাগ: আপডেট,ইভেন্ট,প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি


novet corner
লাইভ প্রতিবেদক: ‘বিশ্ববিদ্যালয় কুয়োর ব্যাঙ বানাবে না’ শীর্ষক লেখাটি প্রত্যাহার ও জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে সাংবাদিক সম্মেলন ও মানববন্ধন করেছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমন্ডির নো ভ্যাট চত্বরে সাংবাদিক সম্মেলন ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় শিক্ষার্থীরা দুই দফা দাবি করেন। (এক) ১২ আগস্টের মধ্যে ওই লেখা ও এর সব বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে। (দুই) বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর, ভাইস চ্যান্সেলর, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী, কর্তৃপক্ষ, আন্তর্জাতিক ব্যক্তিসহ গোটা ছাত্রসমাজ ও জাতির কাছে সাংবাদিক সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।
সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফারুক আহমাদ আরিফ। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন আরিফ চৌধুরী শুভ, ইসহাক আহমেদ রায়হান, জহুরুল ইসলাম ছনি, নাদিম আহমেদ প্রমুখ। সাংবাদিক সম্মেলন ও মানববন্ধনে স্টেট, স্টামফোর্ড, ইস্টার্ন, অতীশ দিপঙ্কর, ইউডা ও ড্যাফোডিলের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। লিখিত বক্তব্যে ফারুক আহমাদ আরিফ বলেন, গত ৫ আগস্ট শুক্রবার দৈনিক প্রথম আলো’র সম্পাদকীয় পাতায় আনিসুল হক-এর ‘বিশ্ববিদ্যালয় কুয়োর ব্যাঙ বানাবে না’ শীর্ষক গদ্য কার্টুন আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে।
লেখাটিতে তিনি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর, শিক্ষার্থী, ক্লাসরুম, দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানকে হেয় প্রতিপন্ন ও তাচ্ছিল্য করে যে লেখা লেখেছেন ওই লেখাটির বিভিন্ন বিষয় আমাদের কাছে অপমানজনক, আপত্তিকর ও কান্ডজ্ঞানহীনতার পরিচায়ক বলে মনে হয়েছে।
সম্মেলনে বলা হয় , আনিসুল হকের লেখায় তার মায়ের তিন কাঠা জমিতে ঢেউটিনের বাড়িতে পাঁচটা ঘর। একটা স্টোররুম। দুইটা বাথরুম। একটা রান্নাঘর। তার আদর্শ প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম হবে উত্তর-দক্ষিণ-পূর্ব-পশ্চিম বিশ্ববিদ্যালয়। তবে যেহেতু বাংলা চলে না তাই ইংরেজি নাম হবে ওরিয়েন্টাল, অক্সিডেন্টাল ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ট কেমব্রিজ, হারবার্ড, বারান্দাকে রিসেপশন কাম ওরিয়েন্টেশন হল, ড্রয়িংরুমকে ড. কুদরাত-এ-খুদা রেজিস্ট্রার হল, অন্যটি সেমিনার ও ক্লাস, ছোট তিন রুমের একটাতে ওয়ারেন বাফেট বিজনেস ডিপার্টমেন্ট, একটাতে বিল গেটস আইটি ডিপার্টমেন্ট, আরেকটাতে ঐশ্বরিয়া বচ্চন ডিপার্টমেন্ট, স্টোররুমে চাল, গম, জুতার বাক্সের পরিবর্তে সেখানে স্টিফেন হকিং ল্যাবরেটরি কাম কম্পিউটার হল, রান্নাঘরকে স্টিভ জবস গ্রিন টেকনোলজি রিসার্চ সেন্টার, বাড়ির উঠানকে টিএসসি, ক্যানটিন কাম মিংলিং কাম ব্রেইন স্টর্মিং সেন্টার, বাড়ির পেছনের বাগানটা কাজী অর্গানিক রিসার্চ সেন্টার, জমি ও বাড়ির মালিক হওয়ায় পদাধিকার বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি, পিএইচডি না পাওয়ায় ভাইস চ্যান্সেলর বানানো হবে টিভি চ্যানেলের মালিককে বা হোমিওপ্যাথি ডাক্তার ধরে ড. করে, পোস্ট মডার্ন পদ্ধতিতে বাথরুমে নীল পর্দা ঝুলিয়ে ক্লাস নেয়া, মেইল করে ক্লাসনোট পাঠিয়ে দেয়া, অনলাইনে পরীক্ষা। বেশি টাকায় এ প্লাস, মাঝারি টাকা দিলে বি, বা বেশি টাকা দিলে ৪, কম টাকা দিলে ২.৫। তার বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট যে ছাত্র বেরোবে, তার চেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে-ঘাটে-মলে-টিএসসিতে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পাঁচ বছরের হাঁটাহাঁটিতে অনেক ভালো মানুষ হবে, বড় মানুষ হবে। যে সব কথা বলা হয়েছে তা বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে দেশ-বিদেশের সম্মানীত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে হেয়প্রতিপন্ন করা হয়েছে।

 

 

আরিফ বলেন, লেখার মাধ্যমে ১, ঢালাওভাবে সবগুলো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে শিক্ষাদানের অনুপযুক্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। ২. বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর পদে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ-এর মহামান্য রাষ্ট্রপতির আসীন হওয়ার বিষয়টিকে কটাক্ষ করেছেন। ৩. স্বনামধন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও কিছু ক্ষেত্রে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসা শিক্ষকরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভিসি হিসেবে মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত ও নিযুক্ত হওয়ার পরও তাদেরকে ‘হোমিওপ্যাথির ডাক্তারের’ সঙ্গে তুলনা করেছেন। একই প্রসঙ্গে তিনি টেলিভিশনের মতো জনপ্রিয় গণমাধ্যমের মালিকদেরও ছোট করেছেন। ৪. তার লেখার বিভিন্ন স্থলে তিনি যেভাবে ও যে প্রসঙ্গে ড. কুদরাত-এ-খুদা, ওয়ারেন বাফেট, স্টিফেন হকিং, স্টিভ জবস প্রমুখের নাম উল্লেখ করেছেন, এতে তাঁদের মতো প্রাত:স্মরণীয় ব্যক্তিরাও অপমানিত হয়েছেন।

novet arif

৫. তার ভাষ্যমতে, প্রতিটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েই শিক্ষার্থীরা টাকার বিনিময়ে তাদের জিপিএ বা গ্রেড কিনে নেয়; তার দাবি : শিক্ষার্থীরা বেশি টাকা দিলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ প্লাস বা ৪, মাঝারি টাকা দিলে বি আর কম টাকা দিলে ২ দশমিক ৫ Ñ এই হিসেবে গ্রেডিং করে থাকে। এই বক্তব্যের মাধ্যমে সত্যিকার অর্থে মেধাবী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, আমাদের সম্মানিত শিক্ষকমন্ডলী এবং সার্বিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অভিভাবক হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)-কেও চূড়ান্তভাবে অপমানিত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, একটি স্বাধীন, সার্বভৌম, গণতান্ত্রিক ও আধুনিক সময়ের রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের দায়িত্ব ছিলো দেশের সব নাগরিকের শিক্ষার সব দায়িত্ব নেওয়া। নানা সীমাবদ্ধতার কারণে এখনো হয়তো আমাদের দেশটি সেই দায়িত্বটুকু পালন করতে পারছে না। এই অবস্থায় বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সবার জন্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

 

 

গুটিকয় বিশ্ববিদ্যালয় যদি শুধুই ব্যবসার লক্ষ্যে গড়ে উঠেও থাকে, সেখানেও ছেলে-মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ যে তৈরি হয়েছে এটি তো অস্বীকার করা যাবে না। অন্যদিকে, আমাদের দেশে এমনিই পাবলিক-প্রাইভেট দ্বন্দ্ব রয়েছে; পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পর্যাপ্ত সিট না থাকা ও সেশনজটসহ নানা কারণে অনেক ছেলে-মেয়েও বেসরকারি এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে পড়ালেখা করছে। কিন্তু বাংলাদেশের সামাজিক ব্যবস্থা শুরু থেকেই এই দুই ধরনের বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একটি বিভাজন তৈরি করেছে যা শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার এবং হয়তো গোটা জাতির জন্যেও ক্ষতিকর বলে আমরা মনে করি। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে যেখানে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্যে নানাভাবে উৎসাহিত করে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো উচিত, সেখানে এ ধরনের অপরিণত, অযৌক্তিক, ভিত্তিহীন এবং শত্রুভাবাপন্ন ও একপেশে মন্তব্য গোটা দেশের শিক্ষাব্যবস্থার জন্যে হুমকিস্বরূপ।

 

সংবাদ সম্মেলনে আরিফ আরও বলেন, প্রথম আলো কিংবা আনিসুল হকের বিরুদ্ধে আমাদের কোন অভিযোগ নেই। সকল অভিযোগ সেই লেখাটির প্রতি। তাই উপর্যুক্ত পেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে আমরা দেশের বিবেকবান সাংবাদিক সমাজের মাধ্যমে গোটা রাষ্ট্র ও জাতির সহযোগিতা কামনা করছি।

 

ঢাকা, ০৯ আগস্ট (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এএম