[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



শিক্ষার্থীদের পাশে থাকেন রাবি ছাত্রলীগ নেতা ‘মানিক-দা’


প্রকাশিত: August 10, 2016 , 8:44 pm | বিভাগ: আপডেট,ফিচার,রাজশাহীর ক্যাম্পাস


RU Manik

মনিরুল ইসলাম নাঈম, রাবি : পুরো নাম মানিক কুমার শিকদার। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) মাদার বখশ হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি। স্বচ্ছ ইমেজ ও নিজ যোগ্যতাবলে এরই মধ্যে যিনি জায়গা করে নিয়েছেন সবার মণিকোঠায়। সুখে-দুঃখে অন্যের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে পরিচিতি পেয়েছেন সবার ‘মানিক-দা’ হিসেবে।

ছোটবেলা থেকেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক মানিক। স্কুল-কলেজে সেভাবে রাজনীতি করার সুযোগ না পেলেও বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরু থেকেই সক্রিয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ছাত্রলীগের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। যার ফলস্বরূপ গতবছর কাউন্সিলের পর তাকে দায়িত্ব দেয়া হয় মাদার বখশ হলের সভাপতি হিসেবে। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই হলে নতুন ধারার রাজনীতি চালু করেন তিনি।

ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের বহু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে যখন সিট বাণিজ্য, ডাইনিং-ক্যান্টিনে বাকি খাওয়া, মারপিট, ছাত্রী লাঞ্ছনাসহ বিস্তর ‘অভিযোগ’, সেখানে মানিক কুমার শিকদার একেবারে আলাদা। আর এই জায়গাতেই তার অনন্যতা। সিট বাণিজ্যের সাথে কখনোই জড়িত হননি মানিক। উল্টো দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের হলে সিট পাইয়ে দিতে সহায়তা করেছেন।

অন্যরা যখন নিজ স্বার্থ চরিতার্থ করতে ব্যস্ত, তখন মানিক মানবসেবার মহান ব্রত নিয়ে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

ইতিহাস বিভাগের আনিসুর রহমান। তিনি ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, ‘গরীব পরিবারের সন্তান হিসেবে বাইরে থাকাটা খুবই কষ্টসাধ্য ও ব্যয়বহুল ছিল। দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও হলে উঠতে পারছিলাম না। মানিকদা’র দয়ায় হলে উঠতে পেরে এখন অনেক ভালো আছি।’

আনিসুর রহমান নামের ওই শিক্ষার্থী আরো বলেন, ‘আমার অর্থনৈতিক দৈন্যতার কথা মানিকদা’কে জানানোর পর তিনি প্রোভস্টকে বলে হলের ছাত্রকল্যাণ তহবিল থেকে আমার বৃত্তির আশ্বাস দিয়েছেন। এছাড়া হলের ডাইনিং-এ কম টাকায় খাওয়ার ব্যবস্থাও করে দিয়েছেন। আমি আজীবন মানিকদা’র কাছে কৃতজ্ঞ থাকবো।’

হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের কাছেও মানিকদা প্রিয় একটি নাম। সবার সুখে-দুঃখে পাশে থাকাটা এক ধরনের সৌভাগ্য মনে করেন মানিক। সাধারণ শিক্ষার্থীরা সাধারণত মিছিল-সমাবেশে যেতে চান না। সভাপতি হিসেবে এদিক থেকে যথেষ্ট লিবারেল মানিকদা।
কাউকে জোরপূর্বক মিছিল-সমাবেশে নিয়ে যান না তিনি।

হলের একজন আবাসিক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, ‘অতীতে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নেতাকর্মী রুমে রুমে এসে জোরপূর্বক মিছিলে নিয়ে যেতো। অনেক সময় ক্লাস-পরীক্ষাও মানতো না। বর্তমানে সেটা অনেক কমে গেছে।’

রাজনীতির পাশাপাশি সাংস্কৃতিক চর্চাতেও মানিকের ভূমিকা অগ্রগণ্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘অরণি’র সভাপতি ছিলেন তিনি। বর্তমানেও তিনি বিভিন্নভাবে শিল্প-সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতা করে যাচ্ছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগ থেকে সদ্য পড়াশোনা শেষ করা মানিক একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেন। যেখানে কোনো অন্যায় থাকবে না। থাকবে না কোনো ভেদাভেদ। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগকেও একটি সুন্দর ও স্বচ্ছধারার সংগঠনরূপে দেখতে চান মানিক। এজন্য তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতির যথাযথ উদ্যোগ কামনা করেন।

 

 

রাবি//এমইএন, ১০ আগস্ট(ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// এফআর