[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



আমি একটা কুয়োর ব্যাঙ বলছি


প্রকাশিত: August 12, 2016 , 12:53 pm | বিভাগ: অপিনিয়ন,আপডেট


arif-live-3

আরিফ চৌধুরী শুভ : আমরা জঙ্গি না, জঙ্গির বিরুদ্ধে আমরা সোচ্চার আছি ছিলাম এবং থাকেবো। সেই সাথে আমরা এ দাবিও করছি বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়নে জাতীয় শিক্ষনীতির পরিবর্তন এখনই দরকার। এক বাবার দুই সন্তানের জন্যে দুই আইন থাকা কতটা যুক্তিযুক্ত?

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা শিক্ষার্থীর মাথাপিছু যে বাজেট বছরে সরকার দেয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের যতই টিউশন ফি দিয়ে একজন শিক্ষার্থী পড়ুক না কেন তার চেয়ে বেশি হতে পারে না। একজন জনগণের টাকায় পড়ে নিজেকে বাঘ মনে করে আর আরেকজন বাবার রক্ত বেচার টাকা দিয়ে পড়ে কুয়োর ব্যাঙ উপাধি পায়।

তার হয় মেধাবি মুখ, ক্যাম্পাস স্টার আর আমরা থাকি হীন দৃষ্টির কালো ছায়ায় নিমজ্জিত হয়ে। ধিক এই দৃষ্টিভঙ্গিকে।

আমরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষা আর আদর্শ নিতে আসি, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো আর ল্যাব না থাকলে সেই দায়ভার শিক্ষার্থীর কেন? মালিকপক্ষও কেন সেটি একা নেবে? মৌলিক অধিকার পূরণে ব্যর্থতার জন্যে সরকারকেও দায়ের অংশ নিতে হবে।

মালিকপক্ষতো ফাঁকি দিতে চাইবে কিন্তু তা দেখার দায়িত্ব কি অভিভাবক, শিক্ষার্থী না শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের? যদি সরকার মনে করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সামান্য শিক্ষার্থীর উচ্চ শিক্ষার সুযোগ দিয়ে তার দায়িত্ব শেষ তাহলে ঘোষণা দিয়ে দিক বেসরকারি শিক্ষার্থীদের রক্ত যে যেমন পারে চুষে খাবে। পারলে ভ্যাট আন্দোলনের মতো আমরা রাস্তায় নেমে ঠেকাবো।

যেহেতু তারা বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করে ঠেকেছে সেহেতু তারা উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে কখনো বলির পাঠা হবে, কখনো জঙ্গি হবে আবার কখনো হবে কুয়োর ব্যাঙ। যে যেমন পারে বলুক তাদের। কার সমস্যা তাতে? কে এসে নাক গলাবে কিসের অধিকারে? নাক গলাতে হলে আগে অধিকারের দাবি প্রতিষ্ঠিত করতে হয়।

সরকার বা শিক্ষা মন্ত্রনালয় কি সেই অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন? কারো জন্যে বাজেট কোটি কোটি টাকা আর কারো প্রতি ভ্রুক্ষেপই নাই। তাহলে কেনই বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে দক্ষ জনশক্তি আশা করেন?

যারা আজ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা দাঁড় করিয়ে শিক্ষার্থীদের জঙ্গি বা অযোগ্য হিসেবে প্রমাণ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন হয় তাঁরা সত্যিকার অর্থে বেসরকারি উচ্চ শিক্ষার বিরোধী না হয় এটা উচ্চ শিক্ষার সংকোচনে সুগভীর চক্রান্ত। কোথাও না কোথাও তার শিকড় লুকিয়ে আছে। বিজ্ঞদের মুখ দিয়ে কালক্রমে সেটি সমাজে প্রতিষ্ঠিত করাই তাদের লক্ষ্য। নতুবা দেশের ৬৫% শিক্ষার্থীর উচ্চ শিক্ষার একমাত্র স্থানকে ছোট করে দেখা কোন দুর্বল কারণ হতে পারে না।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী সাম্প্রতিক জঙ্গি ঘটনাগুলোর সাথে জড়িত যে প্রমাণ দেওয়া হচ্ছে, তাতে আমরা মর্মাহত। প্রশ্ন হল সাড়ে পাঁচলাখ শিক্ষার্থীর সবাই কি জঙ্গি? কিন্তু মহড়া দিয়ে হামলার চিত্র এখন পর্যন্ত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে নাই। এই প্রমাণ গুণাক্ষরেও কেউ দিতে পারবে না।

অথচ ৬ আগস্ট সোহরাব হাসান প্রথম আলোর সম্পাদকীয়তে লেখেছেন গত সাড়ে সাত বছরে কেবল ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ৫৫ জন তরুণকে জীবন দিতে হয়েছে। তারাও আমাদের মতো উচ্চশিক্ষা নিতে এসেছিল। কিন্তু ফিরেছে লাশ হয়ে। আমরা শিক্ষায়, অবকাঠামো, ল্যাব কিংবা পাবলিকের মতো দক্ষ হতে পারি না, পাই না সরকারি বাজেট কিন্তু আমরা জীবন নিয়ে উচ্চ শিক্ষাটাতো শেষ করতে পারি।

যখন দেশে এত পরিমাণ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছিল না তখন দেশের শিক্ষার্থীরা নিজেদের উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন পূরণ করতে ভারত, মালেশিয়া কিংবা উন্নত বিশ্বে পাড়ি জমাতো। গ্রামের কৃষকের সন্তানটি তখন একখণ্ড জমি বিক্রি করে উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন দেখার সাহস পেত না। বড়জোর ডিগ্রি করে পোস্ট অফিসের কেরানি কিংবা হাইস্কুলের মাস্টার হওয়ার স্বপ্ন দেখতো। কিন্তু এখন কি তা দেখে?

তখন দেশের যে অর্থ সেটি চলে যেত বিদেশে। বৈরী পরিবেশে বহু শিক্ষার্থীর উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন তখন স্বপ্নই থেকে যেত কাগজে কলমে। না হতে পারতো কেরানি, না হতো ব্যারিষ্টার। কিন্তু কষ্ট হলেও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হবার পর দেশের অর্থ দেশেই থাকছে বরং লেবারের পরিবর্তে একটি শিক্ষিত জনসম্পদ পাচ্ছে বাংলাদেশ। হয়তো যেভাবে বাংলাদেশের দরকার সেভাবে তারা তৈরি হয়ে উঠছে না। এটা আমাদের জাতীয় সমস্যা নয় কি? তাই এগিয়ে যাবার পথে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ব্যক্তিগত মতবাদকে সামগ্রিক ভাবে দেখাটা কি যুক্তিযুক্ত?

এদেশে চাহিদার তুলনায় বিশ্ববিদ্যালয় আরো থাকা দরকার কিন্তু সেটির মান কিভাবে উন্নয়ন করা যায় তার মডেল দেখানোর চেয়ে একটি নিম্ম চিন্তার বহি:প্রকাশ ঘটিয়ে উচ্চ শিক্ষাকে কলঙ্কিত করা একধরণের অপরাধ। শিক্ষার্থী আর শিক্ষকদের কথা বাদ দিলেও পাদধিকার বলে এই অপরাধ করা হয়েছে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, এবং শিক্ষামন্ত্রীর সাথেও।

জাতীয় স্বার্থে এর বিপক্ষে গণজোয়ার ঘটলে বিশাল বিপ্লব ও হয়ে যেতে পারে। সেটি হওয়ার আগে আমার ব্যক্তিগত উপলব্ধি ক্ষমা চাওয়াটা অমূলক হবে না। আশা করি প্রিয় আনিসুল হক সাহেব শিক্ষার্থীদের মনে কষ্ট দিয়ে নয় বরং আমাদের ভালোবাসার স্থানে থেকেই আপনার লেখাটির জন্যে ক্ষমা চাইবেন। প্রথম আলো অনলাইন থেকে তুলে নেবেন লেখাটি।

আরিফ চৌধুরী শুভ, সাংবাদিক ও লেখক
শিক্ষার্থী স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ

ঢাকা, ১২ আগস্ট (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//জেএন