[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



আটক ৪ নারী জঙ্গি: মানারাতের ৩, ঢাকা মেডিকেলের ১


প্রকাশিত: August 16, 2016 , 5:34 pm | বিভাগ: আপডেট,ক্রাইম এন্ড 'ল,মেডিকেল কলেজ


JMB

লাইভ প্রতিবেদক: নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির চার নারী সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। যাদের মধ্যে তিনজন মানারাত বিশ্ববিদ্যালয় ও একজন ঢাকা মেডিকেলের ছাত্রী।

সোমবার রাতে তাদেরকে টঙ্গী এলাকা থেকে আটক করা হয়।

এরা হলেন- মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ফার্মাসি বিভাগের ছাত্রী আকলিমা রহমান, মৌ ও মেঘনা এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিক্ষানবিশ চিকিৎসক ঐশী।

র‌্যাব-৪ এর সিপিসি-১ এর অধিনায়ক মেজর সাইদ বলছেন, আটকদের মধ্যে আকলিমা জেএমবির নারী বিভাগের উপদেষ্টা, অন্যরা তার সহযোগী।

গত ২১ জুলাই জেএমবির ‘দক্ষিণাঞ্চলীয় আমীর’ মো. মাহমুদুল হাসান ওরফে হাসানকে (২৭) টঙ্গী থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে কয়্জেন নারীর এ দলে যুক্ত থাকার তথ্য পাওয়া যায় বলে র‌্যাব কর্তকর্তারা জানান।

র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি লুৎফুল কবির মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, হাসানের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধানে তারা জানতে পারেন, আকলিমা রহমান নামে জেএমবির এক নারী সদস্য রমজান মাসে ১২ হাজার টাকার তহবিল সংগ্রহ করে দিয়েছেন।

“বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি আকলিমা আরবি শিক্ষার কথা বলে বিভিন্ন এলাকায় জনসংযোগ করতেন। তার সঙ্গে অনেকেই সাক্ষাত করতেন। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুরের সাইনবোর্ড এলাকা থেকে সোমবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।”
আকলিমার মোবাইল ফোন থেকে জঙ্গি কর্মকাণ্ডের ‘অনেক তথ্য’ পাওয়া গেছে বলেও র‌্যাবের ভাষ্য।

লুৎফুল কবির বলেন, “আকলিমা প্রায় দেড় বছর ধরে কথিত ওই জিহাদি দলটির সঙ্গে সম্পৃক্ত। কথিত ইসলামী খেলাফত প্রতিষ্ঠার জন্য দলকে বড় করা এবং সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য তিনি তহবিল সংগ্রহ করে মাহমুদুল হাসানকে পৌঁছে দিতেন।”

আকলিমা রহমান

প্রাথমিক শিক্ষা ঢাকার রেনেসাঁ প্রি-ক্যাডেট হাই স্কুল ও সাইনবোর্ড এলাকার হাজী আহাম্মদ আলী পাবলিক স্কুলে।

উত্তরা হাই স্কুল থেকে ২০১০ সালে এসএসসি এবং হলি চাইল্ড কলেজ থেকে ২০১২ সালে এইচএসসি পাশ করেন। ২০১৩ সালে মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হওয়া এই তরুণী পড়ছিলেন ফার্মাসি বিভাগের চতুর্থ বর্ষে।

মৌ

মিরপুর-২ এর ইসলামীয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১০ সালে এসএসসি ও মিরপুর চিড়িয়াখানা রোডের বিসিআইসি কলেজ থেকে ২০১২ সালে এইচএসসি পাস করেন মৌ। মেডিকেল ও ইউনিভার্সিটি ভর্তির জন্য তিনি ইউসিসির ফার্মগেইট শাখায় কোচিং করেন। পরে ২০১৩ সালে ভর্তি হন মানারত ইউনিভার্সিটির ফার্মাসি বিভাগে।

মেঘনা

ঢাকার আহম্মদনগর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১১ সালে এসএসসি ও ঢাকা ক্যামব্রিয়ান কলেজ থেকে ২০১৩ সালে এইচএসসি পাস করেন মেঘনা। ওই বছরই পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়। মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী তিনি।

ঐশি

চিকিৎসক বাবা মায়ের সন্তান ঐশী ২০১০ সালে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। চলতি বছর জানুয়ারিতে এমবিবিএস শেষ করে জুন মাসে তিনি ইন্টার্নশিপ শুরু করেন।

ঐশীর বাবা ডা. বিশ্বাস আক্তার হোসেন (৫৮) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক। আর মা ডা. নাসিমা সুলতানা (৪৮) আছেন সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগে।

জিজ্ঞাসাবাদে আকলিমা র‌্যাবকে জানান, তার যোগানো ১২ হাজার টাকার মধ্যে আট হাজার টাকা দিয়েছেন ঐশী, যিনি প্রায় তিন বছর ধরে প্রত্যক্ষভাবে এ দলে জড়িত।

টাঙ্গাইলে গ্রেপ্তার তিনজন জেএমবির আত্মঘাতী দলের সদস্য বলেও সে সময় পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল।

গত কয়েক মাস ধরে নিখোঁজদের তালিকায় যারা জঙ্গিবাদে জড়িয়েছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন নারীও রয়েছেন।

 

ঢাকা, ১৬ আগস্ট(ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// এফআর