[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



বরখাস্ত হয়েও যিনি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর


প্রকাশিত: August 23, 2016 , 9:01 pm | বিভাগ: আপডেট,পাবলিক ইউনিভার্সিটি,বরিশালের ক্যাম্পাস


pstu

মুস্তাফিজুর রহমান পাপ্পু,পবিপ্রবি: সরকারীভাবে বরখাস্ত বা চাকুরিচ্যূত হয়েও সরকারী নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কখনো অনুষদের ডিন, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতিও তিনি।

তিনি আর কেউ নন, দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষক প্রফেসর ড. মো. সুলতান মাহমুদ।

ময়মনসিংহ সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় চাকরিচ্যূত হয়েছিলেন সুলতান মাহমুদ। সেই তথ্য গোপন করে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি ভেঙে অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর হিসেবে চাকরি নেন তিনি।যোগ্যতা না থাকার পরও মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে প্রফেসর হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে যান।

১৯৮২ সালের ২৭ জুলাই মৎস্য অধিদপ্তরে চাকরি নেন বলে জানা যায়। ২০০০ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন ময়মনসিংহ সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হিসেবে। হঠাৎ করেই ছুটি না নিয়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকতে শুরু করেন তিনি। ১৯৭৯ সালের সরকারি কর্মচারী (বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ অনুযায়ী কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয় তাঁকে। মৎস্য ও পশুসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. জহুরুল করিমের স্বাক্ষরিত এক নোটিশ হতে এ তথ্য পাওয়া যায় যা ২০০২ সালের ৪ ঠা মার্চ তারিখে ইস্যু করা ছিলো । ২০০৪ সালের ৩ অক্টোবর মৎস্য ও পশুসম্পদ মন্ত্রনালয়ের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. ইকবাল উদ্দীন আহমেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপন জারি করেন, যার স্মারক নং মপম/ম-১/অভিযোগ-৭/২০০১/৬৬৭। সুলতান মাহমুদের চাকুরিচ্যূতির খবর তৎকালীন পত্র পত্রিকায় প্রকাশ পায়।
ছুটি ব্যাতিত কর্মে অনুপস্থিত থাকায় সরকারী চাকুরি হতে বরখাস্ত হন তিনি।

pstu-2

সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ১৯৮৫-তে বলা আছে, ‘চাকরি হইতে অপসারণের ক্ষেত্রে নয়, কিন্তু চাকরি হইতে বরখাস্ত হওয়ার পর সরকারের অধীন বা কোনো আইনের দ্বারা বা আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত কোনো সংস্থায় চাকরিতে নিযুক্ত হওয়ার অযোগ্য বলিয়া গণ্য হইবেন। বরখাস্তকৃত কোনো সরকারি কর্মচারী কোনো ক্ষতিপূরণ, পেনশন, আনুতোষিক অথবা অংশ প্রদায়ক ভবিষ্যৎ তহবিলে সরকারের চাঁদা হইতে উদ্ভূত সুবিধাদি পাইবেন না।’

অথচ সরকারী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সরকারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজের প্রভাব খাটিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন রাম-রাজত্ব।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায় ,সুলতান মাহমুদ ২০১০ সালের ৯ মে পবিপ্রবির মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের অ্যাকুয়াকালচার বিভাগে অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর পদে চাকরি পান। শিক্ষকতার ন্যুনতম কোনো অভিজ্ঞতা ছাড়াই তিনি এই পদে যোগ দেন। এরপর চলতে থাকে নানা পরিকল্পনা। বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজের সম্পত্তিতে পরিনত করতে মরিয়া সুলতান মাহমুদ মাত্র ২ বছর ৬ মাসের ব্যবধানে প্রফেসর হিসেবে পদোন্নতি পান। নিজের কৌঁসুলি মনোভাব দিয়ে চতুর সুলতান মাহমুদ সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. মো. সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেনের খুব কাছের লোকে পরিনত হন।

ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র প্রফেসরদের কয়েকজন সুলতান মাহমুদের নিয়োগ ও পদোন্নতি অবৈধ দাবি করে বিচার চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছেন।

তবে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সুলতান মাহমুদ। তার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি মহল গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছে বলে দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে ভিসি প্রফেসর ড. মো. শামসুদ্দীন বলেন, ‘প্রফেসর সুলতান মাহমুদের নিয়োগ দিয়েছেন সিলেকশন বোর্ড। মহামান্য রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিয়েছেন। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়ার ক্ষমতা মহামান্য রাষ্ট্রপতি মহোদয়ের।’

তথ্য গোপন করে চাকরি নেয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী,কর্মকর্তা কর্মচারীসহ সকল মহল এখন এ শিক্ষকের বিচার দাবি করছেন।

 

ঢাকা, ২৩ আগস্ট (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// এফআর