[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



একজন বিল গেটস বা জাকারবার্গ চাই: পলক


প্রকাশিত: August 28, 2016 , 4:36 pm | বিভাগ: আইটি,আপডেট


IMG_8455আইটি লাইভ:  তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে আমরা এগিয়ে চলেছি। আইসিটি খাতে বৈপ্লবিক অগ্রগতি হয়েছে। দেশে মেধাবী দক্ষ প্রোগ্রামার তৈরি হচ্ছে। আগামীতে এরাই পাল্টে দিবে দেশের চিত্র। এজন্য একজন বিল গেটস বা জাকারবার্গ চাই।
পূর্বপশ্চিমের আমন্ত্রণে মঙ্গলবার সান্ধ্যকালীন আড্ডায় তিনি এসব কথা বলেন। পূর্বপশ্চিম কার্যালয়ে প্রায় দেড়ঘণ্টা অনুষ্ঠিত আড্ডায় প্রারম্ভিক বক্তব্য রাখেন নিউজপোর্টালের প্রধান সম্পাদক পীর হাবিবুর রহমান। আড্ডায় অংশ নেন প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী সৈয়দ সারওয়ার রহমান, উপদেষ্টা খুজিস্তা নূর ই নাহরীন মুন্নী ও রোকেয়া প্রাচী, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক রায়হানুর রহমান, বার্তা সম্পাদক বিপুল হাসান, প্রধান প্রতিবেদক সাইদ আরমান, আইসিটি মন্ত্রণালয়ের তথ্য কর্মকর্তা আবু নাসের এবং পূর্বপশ্চিমের সংবাদ-কর্মীরা।

আড্ডার শুরুতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রীসহ অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে পীর হাবিবুর রহমান বলেন, দেশের বিভিন্ন সেক্টরের ব্যক্তিত্ব ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আমরা নিয়মিত এরকম আড্ডার আয়োজন করতে চাই। সম্ভাবনা আর সমস্যা নিয়ে মন খুলে আমরা কথা বলতে চাই। আজকের আড্ডায় এসেছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। তার সঙ্গে আমরা কথা বলবো সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচি নিয়ে এবং এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ নিয়ে। পাশাপাশি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিখাতের সম্ভাবনা ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে আমরা কথা বলবো। শুরুতেই প্রতিমন্ত্রীর কাছে সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসুচি প্রসঙ্গে জানতে চাচ্ছি।

জুনাইদ আহমেদ পলক: সরকারের চেষ্টা সেবা কার্যক্রমকে ডিজিটাল করা। যেমন ধরুন, একজন সাধারণ নাগরিক তার জমির পরচা, গাড়ি রেজিস্ট্রেশন করা, পাসপোর্ট কিভাবে সহজে পেতে পারে। গত সাড়ে সাত বছরে আমরা সেই পথে অনেক দূর এগিয়ে গেছি। প্রধানমন্ত্রীর একটি সুস্পষ্ট নির্দেশনা ছিলো ডিজিটাল বাংলাদেশ নিয়ে। একটা সমালোচনা ছিলো, যে দেশে মাত্র ২২ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় সেই দেশ কিভাবে ডিজিটাল হবে। বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই কম্পিউটার ছিলো না। ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ছিলো মাত্র ১০ থেকে ১২ লাখ আর ১ এমবিপিএস ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের দাম ছিলো ৭৮ হাজার টাকা। আর এখন ৩০ এমবিপিএস ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ মাত্র ৩৫ হাজার টাকা। দাম কমানো হয়েছে। যার ফলে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যাও ৬ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। এগুলো সরকারের সফলতার প্রতিফলন। এমনি এমনি এগুলো হয়নি। অলৌকিকভাবে হয়নি। সুনির্দিষ্টভাবে পরিকল্পনা করেই এটি করা হয়েছে।

ডিজিটাল সরকার ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো দুর্নীতি কমানো। প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে দুর্নীতি কমবে। মধ্যস্বত্বভোগী নির্মুল করা যাবে। সারা পৃথিবীতে দেখবেন, শহর থেকে শুরু করে গ্রাম ডিজিটালাইজড হয়েছে। তবে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ভিন্ন। গ্রাম থেকে শহর। তাই ইউনিয়ন সেন্টারগুলোকে ডিজিটাল করেছেন। তৃণমূলে সেবা নিয়ে গেছেন। যে কাজ শেষ করতে আগে লাগতো ১৯টি ধাপ এখন তা নেমে এসেছে ৩টি ধাপে। এখন জমির পরচা ফিস দিয়ে বাড়িতে বসেই পেয়ে যাচ্ছেন।

দ্বিতীয়ত, মানব সম্পদ উন্নয়নে সরকার নজর দিয়েছে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন লালন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রযুক্তি নির্ভর বাংলাদেশ গড়তে হলে প্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন তরুণ প্রজন্ম গড়ে তুলতে হবে। কেউ কখনো ভাবেনি, তথ্য প্রযুক্তি একটি বাধ্যতামূলক বিষয় হবে। কিন্তু সরকার সেটি করেছে। এসব চিন্তা এসেছে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়-এর কাছ থেকে। সজীব ওয়াজেদ জয় ব্যাঙ্গলোর থেকে শুরু করে সিলিকন ভ্যালিতে প্রত্যক্ষ করেছেন তথ্য প্রযুক্তির জয়যাত্রা। পরবর্তিতে হার্ভাড থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের উপর পড়াশুনা, প্রযুক্তি ও রাষ্ট্রব্যবস্থাপনাকে একত্রিত করে কাজ করতে তাকে বিশেষভাবে সহায়তা করে।

শেখ হাসিনার নীতি ও পরিকল্পনায় সজীব ওয়াজেদ জয় নানা বিষয় যুক্ত করেছেন। প্রধানমন্ত্রীও এসব সাদরে গ্রহণ করেছেন। আইসিটি পলিসি করা হলো, যাতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি করণীয় ঠিক করা হয়। ৩০৬টি কাজ সুনির্দিষ্ট করা হলো। কোন সংস্থা কোনটি বাস্তবায়ন করবে সেটি সুরাহা করা হলো। ইতোমধ্যেই তিন ভাগের এক ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। প্রথমে সরকারের নজর ছিলো সরকারি সেবা প্রযুক্তি নিশ্চিত করা। পরে মানব সম্পদ উন্নয়ন। কম্পিউটার ল্যাব করা হলো। দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার এখন আইসিটি শিল্প করতে যাচ্ছে। হাইটেক পার্ক করা হচ্ছে। সফটওয়ার পার্ক করা হচ্ছে। এরপর সরকার সেবার মানের দিকে নজর দিবে। সাইবার নিরাপত্তার দিকে নজর দিবে। আমার বিশ্বাস আমরা সঠিক পথেই আছি। দেশের লাখো কোটি মানুষ ডিজিটাল বাংলাদেশে বিশ্বাস করেন। সবাই বিশ্বাস করে, ২০২১ সাল নাগাদ তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর মধ্যম আয়ের দেশ হবে।

IMG 1

সৈয়দ সারওয়ার রহমান: বাংলাদেশে আইসিটি খাতে কাজ করছে অনেক মেধাবী তরুণ। এ বিষয়ে একাডেমিক শিক্ষার সুযোগ সেই তুলনায় কম। আমার মনে হয়ে মানসম্পন্ন শিক্ষার জন্য আরো প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা প্রয়োজন এবং পাশাপাশি অনলাইন শিক্ষা ব্যবস্থা থাকা জরুরী। যাতে করে যে কোনো সময় যে কোন জায়গা থেকে যে কেউ তার প্রয়োজনীয় শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রীর কাছে আমার প্রশ্ন, খান একাডেমির মতো একাডেমিক কোন প্লাটফর্ম গড়ার উদ্যোগে সরকার সহায়তা দিবে কিনা?

জুনাইদ আহমেদ পলক: পৃথিবীতে অনেক আইটি পণ্য আছে। আমরা সেগুলো থেকে দেশের জন্য প্রয়োজনীয় পণ্যটি নিজেদের আদলে আমদানি করছি। সরকার কখনো ব্যবসা করে না। সরকার বেসরকারি খাতকে সহায়তা দিবে। ব্যবসা ও আবিষ্কারের ক্ষেত্র তৈরি করে দিবে। আইসিটি মন্ত্রণালয় সেটি করে। সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কোনটি জরুরি সেটি করছে। হ্যা, ক্লাস ওয়ান থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সব কারিকুলাম অনলাইন নির্ভর হওয়া উচিত। কিন্ত ১ লাখ ৭০ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ৪ কোটি শিক্ষার্থী। পারলে সব ক্লাসরুমই ডিজিটাল করতাম। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আমরা সেই চেষ্টা করে চলেছি। তাই প্রাথমিক ভাবে ৩৭টি বইয়ের মধ্যে ১৮টি বই অনলাইনে আপলোড করা হয়েছে। যা এক বছরের কম সময়ে ৬ লাখের বেশি ডাউনলোড হয়েছে। ফলে শহর ও গ্রামের শিক্ষার বৈষম্য কমেছে। শিক্ষকদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। দ্বিতীয়ত, আইটি খাতের উন্নয়নে ভালো প্রোগ্রামার তৈরি করতে হবে। যেটি এখাতের সমস্যা। ইউরোপ আমেরিকাতে আগামী ৫ বছরে ২০ লাখ প্রোগ্রামার দরকার হবে।

খুজিস্তা নূর ই নাহরীন মুন্নী: ইতিহাস নিয়ে আমাদের দেশে যেটা হয়, বাচ্চারা সঠিক ইতিহাস শিখছে না। বিএনপি-জামায়াত সরকারের সময় সবকিছুতেই ছিল জিয়াউর রহমান। ভুল তথ্য ছিল অনেক। বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তি রয়েছে। তথ্য সংরক্ষণের সুযোগ এখন অনেক বেড়ে গেছে। ওয়েবসাইট, ব্লগ, সোশাল মিডিয়ায় সঠিক তথ্য উপস্থাপন করা এখন খুব জরুরী। এক্ষেত্রে ইউটিউবের কথা আমি আলাদাভাবে উল্লেখ করতে চাই। কারণ সব বয়সের লোকেরাই ইউটিউব দেখে। ইউটিউবে দেশের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে আরো অনেক ডকুমেন্টস থাকা দরকার বলে মনে করি। প্রতিমন্ত্রীর কাছে জানতে চাই, আমাদের দেশের সঠিক ইতিহাস অনলাইনে তুলে ধরার জন্য কোন কাজ কি করা হচ্ছে?

জুনাইদ আহমেদ পলক: এমন কাজ খুব কম হচ্ছিল। আমরা গতবছর বঙ্গবন্ধুর একটি অ্যাপ গুগল প্লে-স্টোরে অবমুক্ত করেছি। এখন পর্যন্ত সেটি প্রায় ৫২ হাজার ডাউনলোড হয়েছে। অনেক পত্রিকা প্রিন্টেট ভার্সন বন্ধ করে দিচ্ছে। এটা দোষের নয়। অ্যামাজনের কিন্ডল বুক রিডার আজ কি পরিমাণ জনপ্রিয়? আমরা দেখলাম বর্তমান তরুণ প্রজন্ম এখন আর প্রিন্টেড ভার্সনের দিকে তাকিয়ে নেই। তারা বিভিন্ন সোশ্যাল প্লাটফর্মে চোখ রাখছে। সেই চিন্তা থেকে বঙ্গবন্ধু নামে একটা অ্যাপ তৈরি করেছি। ৭ মার্চের ভাষন, স্বদেশ প্রত্যাবর্তন, অসমাপ্ত আত্মজীবনীসহ অনেক কিছুই এই অ্যাপে রয়েছে।

পীর হাবিবুর রহমান : বঙ্গবন্ধুর ভাষণগুলো নতুন প্রজন্মের কাছে পৌছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া দরকার। সবগুলো ভাষণ একত্রিত করে ইউটিউবে দিতে হবে। আমি সব সময় বঙ্গবন্ধুর ভাষণগুলো পাঠ করি। বঙ্গবন্ধুর শেষের দিকের ভাষণগুলো শুনলে দেখা যায়, অভিভাবকের মতো তার নানা আকুতি। এরকম অনেক বক্তৃতা আছে যেখানে তিনি আত্বমর্যাদার কথা বলেছেন বারবার। বাহরাইনে গিয়ে তিনি বলেছেন, আরবের কোন দেশ আমাকে স্বীকৃতি দিলো কিনা সেটি আমার দেখার বিষয় না। কিন্তু ফিলিস্তিনের মুক্তিকামি জনগণের সাথে থাকব। এটাই রাষ্ট্রনায়কসুলভ কূটনীতিক আচরণ। আমি একবার গিয়েছিলাম শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ইন্সপায়ারেশন লেকচারে। সেবার প্রথমেই আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, আপনারা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ পড়েছেন কিনা? বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না কেন? পাশাপাশি দলীয়ভাবে কর্মশালা আয়োজনের মাধ্যমে কর্মীদের অনলাইনে দক্ষ করার উদ্যোগও নেওয়া প্রয়োজন।

জুনাইদ আহমেদ পলক: আমাদের পরিকল্পনায় এ বিষয়গুলো আছে। আমাদের থিঙ্কট্যাঙ্ক সেন্টার ফর রিসার্চ এন্ড ইনফরমেশন (সিআরআই)-এ বসে আমরা
এ বিষয়ে পরিকল্পনা করেছি, এটি আমরা বাস্তবায়ন করব। মাত্র আড়াই বছর আগে মাননীয় আইসিটি উপদেষ্টার পরামর্শে পার্টির একটা ফেসবুক পেইজ ওপেন করেছিলাম। এই পে্ইজে আজকে ১৫ লাখ ফ্যান আমাদের পার্টির সাথে যুক্ত। শুধু বংলাদেশ নয়, বিশ্বের খুব কম রাজনৈতিক দল আছে যাদের অনলাইন কার্যক্রম আমাদের থেকে খুব বেশি আহামরি। তবে এখানে কনটেন্টের ঘাটতি রয়েছে। সেজন্য আমরা ইউটিউবে চ্যানেল করেছি আওয়ামী লীগের নামে, আইসিটি ডিভিশনের নামে এবং আমাদের নামে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের আলাদা একটা দর্শক আছে। বিটিভি যখন লাইভ করে, দর্শকরা তখন টেলিভিশন চ্যানেলের সামনে থাকে। আবার কিছু দর্শক আছে যারা টিনেজার, তারা ফেসবুকে থাকে বা ইউটিউবে থাকে। তাদেরকে রিচ আউট করার জন্য আমরা সেই কনটেন্টটাকে নিয়ে আসছি নিউ মিডিয়া তথা সোশ্যাল মিডিয়াতে।

খুজিস্তা নূর ই নাহরীন মুন্নী: এখনকার সবার দৃষ্টি ইয়াং জেনারেশনের দিকে। বিশেষ করে হলি আর্টিজন এবং কল্যাণপুরের ঘটনার পর সবার দৃষ্টি ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থীদের দিকে। এসব প্রতিষ্ঠানের ছেলেমেয়েরা মূলত বইও পড়ে কম, টিভিও দেখে না, সারাক্ষণ ফেসবুক, ইউটিউব, গুগল এগুলো নিয়ে থাকে। তাদের হাতের নাগালে কনটেন্টগুলো নিয়ে গেলে তারা বিপথে যাবে না।

জুনাইদ আহমেদ পলক: ওই জায়গাগুলোতেই আমাদের কনটেন্ট নিয়ে যাচ্ছি আমরা। যাতে ওরা এগুলোই বেশি বেশি দেখে। সৈয়দ সারওয়ার রহমান ভাইয়ের একটা প্রশ্নের উত্তর দিতে ভুলে গিয়েছিলাম। আমাদের নিজস্ব একটা সাইট রয়েছে প্রোগ্রামিং শেখার জন্য। এখানে বেশিরভাগ প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজের বেসিক কোর্স থেকে শুরু করে উন্নত কোর্সও রয়েছে। এটিকে করা হয়েছে একেবারে গ্রামের স্কুলের ছেলে থেকে শুরু করে শহরের এলিট শ্রেণীর বাচ্চারাও, যেকোন বয়সের লোকজন ওই ওয়েবসাইটে এসে প্রোগ্রামিং শিখতে যেন পারে এবং স্টেপ বাই স্টেপ এগিয়ে যেতে পারে। এই প্রোগ্রামিং শেখা থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে ইংরেজি, তারপর বিজ্ঞানের বিষয়গুলোতে যাবো। আমরা প্রথম ফোকাস করছি তথ্যপ্রযুক্তিকে।

পীর হাবিবুর রহমান: প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে দূর্নীতিকে কমানো সম্ভব। যেমন ই-টেন্ডার। এটি চালু হওয়ার পর অনেক ধরণের দুর্নীতি বন্ধ হয়েছে। শেয়ার বাজারে এবং ব্যাংকিং সেক্টরে অনলাইনে কার্যক্রম চলছে দীর্ঘদিন হলো। কিন্তু এই সেক্টরে এতো বড় ঘটনা ঘটলো কেন?

জুনাইদ আহমেদ পলক: এটাও কন্ট্রোল করা সম্ভব। এখানে এওয়ারনেস বিরাট একটা ব্যাপার। পুরো বিজনেস প্রক্রিয়াটা বুঝতে হবে। না বুঝে নেমে শুধু অর্থলগ্নি করলে তো মুশকিল। আর যে বিজনেস বুঝে যাবে তার ঝুঁকিটা কম থাকবে। স্টক বিজনেস এমন একটি বিষয় যেখানে গভীর জ্ঞান না থাকলে এটি খুব ঝুকিপূর্ণ একটি জায়গা। এক্ষেত্রে স্টক বিজনেসে সারা পৃথিবীতেই বাবল তৈরি হয় এবং সেটি ব্লাস্ট হয়। এরপর মার্কেট ম্যাচিউর হয়। তবে এখানে অবশ্যই প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। ডেটা এনালিসিসের সুযোগ রয়েছে। কম্পিউটার বলে দেয়, কোন শেয়ার ক্রয় করতে হবে।

খুজিস্তা নূর ই নাহরীন মুন্নী: আগে সবকিছুতে কাগজের ব্যবহার ছিল। ওই সময় অনেককিছুই ট্রেস করা কঠিন ছিল, যার ফলে দু’নম্বরির একধরনের সুযোগ ছিল। এখন তথ্যপ্রযুক্তি চলে আসায় অল্পসময়ে সবকিছু ট্রেস করা সম্ভব।

রোকেয়া প্রাচী: আমাদের ধারাবাহিক যে রাজনৈতিক ইতিহাস এবং আমাদের বর্তমান প্রজন্মের যে রিলেশনশিপ সেটাকে কীভাবে কালচারালি ব্লেন্ড করে অনলাইনে পরি্বেশন করা যায়, এ বিষযে ভাবনা জরুরী। সরকার অনেক উন্নয়নমুখি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে এবং আগামীতে উন্নয়নমুখি আরো বহু পরিকল্পনা রয়েছে। এগুলো সাধারণ মানুষের পাশাপাশি শ্রমজীবি মানুষের কাছেও তুলে ধরা দরকার।

জুনাইদ আহমেদ পলক: এ বিষয়ে আপনার পরামর্শ জানতে চাই।

রোকেয়া প্রাচী: আমার সাজেশন হচ্ছে, অনেক বেশি এওয়ারনেস প্রোগ্রাম দরকার। আমরা সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করতে পারি। যে শিশু, সে শিশুর উপযোগী কনটেন্ট পাবে। যে কৈশোরে, সে তার উপযোগী কনটেন্ট পাবে। একই ধারাবাহিক ইনফরমেশন সবার জন্য নয়। প্রত্যেক জেনারেশনের আলাদা তথ্য প্রয়োজন। এখানে আমাদের সংস্কৃতি ব্যবহার করতে হবে। ইতিহাসটাকে নিয়ে আসতে হবে। প্রতিদিনের উন্নয়ণ জানাতে হবে। এটিকে একটি অ্যাপের মধ্যে নিয়ে আসা যায়। প্রতিদিন কোন খাতে কেমন উন্নয়ন হচ্ছে তার আপডেট পাওয়া যাবে অ্যাপটিতে। তখন একজন মানুষ সাহস পাবে এই বাংলাদেশ আমার জন্য ভীষণ সুরক্ষিত, এটা বিশ্বাস করতে। এই তথ্যগুলো প্রত্যেক বয়সের উপযোগী করে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তুলে ধরতে হবে।

জুনাইদ আহমেদ পলক: বাংলাদেশের ইতিহাস নিয়ে অডিও ভিজুয়াল করা গেলে ৪ কোটি শিক্ষার্থী জানতে পারবে। শিক্ষা খাতকে এর আওতায় নিয়ে আসতে পারলে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাওয়া যাবে। আমাদের সুযোগ আছে। আইসিটি বিভাগ প্রযুক্তি নির্ভর খাতে সহায়তা দিচ্ছে। ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত তহবিল দিতে পারি আমরা। প্রোগ্রামার তৈরি করতে সরকার হ্যাকাথন আয়োজন করছে। গত বছর প্রায় ১ হাজার ৮শ প্রোগ্রামার এসেছিলো। সমস্যার প্রযুক্তি নির্ভর সমাধান করতে নানা কাজ করা হচ্ছে। শিল্প সাহিত্য, খেলাধূলা কোনটিই প্রযুক্তির বাইরে নয়।

আমাদের পরিকল্পনা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি ডিজিটাল সিকিউরিটি কাউন্সিল হবে, সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সি হবে। যার কাজ হবে অনেকটা ফাইনান্সিয়াল অডিটকারী প্রতিষ্ঠানের মতো। তারা আইসিটি সিকিউরিটি অডিট করবে। আমাদের ব্যাংকগুলোর সামনে যেমন বন্দুকওয়ালা পাহারাদার দরকার তেমনিভাবে আমাদের ডিজিটাল সিকিউরিটির দিকেও নজর দিতে হবে। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজমেন্ট। ব্রাজিল দ্রুত গতিতে গ্রোথ হওয়ায় তারা আবার অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে পড়ে গেছে। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের দিক থেকে বিশ্বে সেকেন্ড ফাস্টেস্ট কান্ট্রি। আমরা এখন এদিকে নজর দিচ্ছি যেন আমাদের অর্থনীতি ঝুঁকিতে না পড়ে। ডেভেলপমেন্টের জায়গায় সাইবার সিকিউরিটি অডিট খুবই গুরুত্ত্বপূর্ণ।

মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপ্লিকেশন বিকাশে বিল গেটসের বিনিয়োগ রয়েছে। তিনি নিজেই বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ দ্রুত নতুন প্রযুক্তিকে আপন করে নিতে পারে। তিনি বিকাশকে নিজের সব ইনভেস্টমেন্টের মধ্যে অন্যতম সেরা ইনভেস্টমেন্ট বলেছেন। এখানে সরকারের সফলতা এটুকুই, সবগুলোর অনুমতি সরকারকেই দিতে হয়েছে। তবেই এটির প্রসার হয়েছে।

সৈয়দ সারওয়ার রহমান: আমাদের এখন অনেক অ্যাপস ডেভেলপ হচ্ছে। এগুলোকে সেল করা হয় প্লে স্টোরে এবং অ্যাপেল অ্যাপ স্টোরে। তবে আমাদের সাধারণ মানুষ কিন্তু কিনতে পারছে না। তাদের সামর্থ্য আছে কিন্তু ফ্যাইনান্সিয়াল ট্রাঞ্জাকশানের লিমিটেশনের কারণে সুযোগ পাচ্ছে না। এই বিষয়টি নিয়ে আমি গুগলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম। আমাদের ডেভেলপাররা আউটসোর্স করছে। তারা বিভিন্ন ধরনের গেমস ও অ্যাপ ডেভেলপ করে দিচ্ছে আর বাইরের কোম্পানি সেটি দিয়ে টাকা কামাচ্ছে। কিন্তু নিজের দেশের লোকজন সেটার সুফল পাচ্ছে না। এ সমস্যা সমাধানের জন্য আপনারা কোনো উদ্যোগ নিচ্ছেন কিনা?

জুনাইদ আহমেদ পলক: বিষয়টি আমি নোট রাখছি। এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা থাকবে আমাদের।

রায়হানুর রহমান: গত কয়েকবছরে কর্মক্ষেত্রে অনলাইন ব্যবহার বেড়ে গেছে। ছোট-বড় সব প্রতিষ্ঠানেরই এখন ওয়েবসাইট আছে। এইসব ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা নিয়ে প্রায়ই ঝামেলায় পড়তে হচ্ছে অনেককেই। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রীর কাছে জানতে চাই সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে সরকার কি ভাবছে?

জুনাইদ আহমেদ পলক: একসময় দেশে ১০ লাখ ইন্টারনেট ব্যবহারকারি ছিলো। তখন এটি জরুরি ছিলো না। এখন একটি ডোমেইন থেকে ১ লাখ ইমেইল ব্যবহার করছে সরকারি কর্মকর্তারা। ১৪ লাখ অফিসার আছে সরকারের। ১৮ হাজার ১৩২টি সরকারি অফিস নিরবিছিন্ন ভাবে ইন্টারনেট এর আওতায়। ৮০০ ভিডিও কনফারেন্সিং ইক্যুয়েপমেন্ট সারা দেশে সংযুক্ত করা হয়েছে। এতে নানা কাজে সরকারের সময় বাঁচছে। সরকার এখন নিরাপত্তায় যাচ্ছে। অর্থনীতি ও তথ্য নিরাপত্তাকে এখন গুরুত্ব দিচ্ছে। গত সাড়ে ৭ বছরে যে উন্নয়ন হয়েছে তা এখন নিরাপদ করতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হচ্ছে। এর আওতায় আসা বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ডিজিটাল সিকিউরিটি কাউন্সিল হবে। এই কাউন্সিল ডিজিটাল সিকিউরিটি বিষয়ে দায়িত্ব পালন করবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ চুরি হয়েছে হ্যাক করে। তার মানে ব্যাংকের সাইবার নিরাপত্তা নিতে হবে। না হলে আমরা মারাত্মকভাবে ঝুকিতে পড়তে পারি। ইরানসহ বিভিন্ন দেশের ঘটনা থেকে সর্তক হতে হবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সিকিউরিটি অডিটের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ হ্যাকডের পর অন্যরা যাতে ক্ষতিতে না পরে তার জন্য উদ্যোগ নিতে হবে। ৪০ শতাংশ ব্যাংকিং লেনদেন হয় অনলাইনে। তার মানে বুঝা যাচ্ছে কি পরিমাণ উদ্যোগ এখানে নিতে হবে। আর্থিক খাতসহ সরকারি ১৭টি প্রতিষ্ঠান সনাক্ত করা হয়েছে। যার মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক, সিভিল এভিয়েশন, সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন, পাসপোর্ট অধিদফতরসহ এই ১৭ প্রতিষ্ঠান আক্রান্ত হলে পুরো রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা ঝুকিতে পড়বে। তাই এগুলো সুরক্ষা দিতে একটি মান সম্পন্ন নিরাপত্তা বৈষ্টনী করা হবে। যাতে আক্রান্ত হলে প্রতিরোধ করা যায়। সরকার উন্নয়ন ব্যবস্থাতেও নজর দিচ্ছে। বাংলাদেশ দ্রুত উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশ। সরকারী খাতের সঙ্গে বেসরকারি খাতকেও সরকার সচেতন করতে চাচ্ছে। আমরা চাই শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করে বাংলাদেশ থেকে একজন জাকারবার্গ তৈরি হোক। বিলগেটস তৈরি হোক।

পীর হাবিবুর রহমান: সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম আরো বেশি করে প্রচারের জন্য উদ্যোগ নিতে হবে। প্রয়োজনে এক্ষেত্রে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সহায়তা নিতে পারে আইসিটি বিভাগ। ডকুমেন্টারি তৈরি করে প্রচার করা যেতে পারে।

জুনাইদ আহমেদ পলক: ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ নামে আমাদের একটি ফেসবুক পেজ আছে। আজকের আলোচনা থেকে আমার মনে হচ্ছে সেখানে আইসিটি বিভাগের উন্নয়ন কার্যক্রমগুলো আরো বিস্তারিত তুলে ধরা দরকার। আমি শিগগিরই এ পদক্ষেপ নেব।

পীর হাবিবুর রহমান: পূর্বপশ্চিমের এই সান্ধ্যকালীন আড্ডায় অনেক ব্যস্ততার মাঝেও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক সময় করে এসেছেন। অনেক বিষয়ে আমরা কথা বলেছি। আগামীতে আমাদের কার্যক্রমে তাকে সঙ্গে পাবো বলে আশা রাখি। সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে আজকের এই আড্ডা শেষ করছি।

ঢাকা, ২৮ আগস্ট (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// আইএইচ