[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



শেরপুর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি-সম্পাদকের দখলে


প্রকাশিত: August 28, 2016 , 10:42 pm | বিভাগ: এক্সক্লুসিভ,পলিটিক্স


sherpur

শেরপুর লাইভ : দীর্ঘ ১৫ মাস আগে শেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে দলের জেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পুননির্বাচিত হয়েছেন যথাক্রমে জাতীয় সংসদে সরকার দলীয় হুইপ ও স্থানীয় সাংসদ মো. আতিউর রহমান এবং চন্দন কুমার পাল।

কিন্তু এখনও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হয়নি। ফলে ওই দুই নেতার নেতৃত্বেই চলছে জেলা আওয়ামী লীগ। আর এ কারণে দলের অনেক নেতাকর্মী হতাশায় ভুগছেন। পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকায় দলীয় কর্মসূচি পালনে অনেকে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। সেই সঙ্গে সাংগঠনিক শক্তি দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা করেছেন নেতারা।

তবে দলের সভাপতি আতিউর রহমান স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে দলের কেন্দ্রিয় কমিটিতে জমা দেয়া হয়েছে। কেন্দ্রের অনুমোদন পাওয়া গেলেই কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হবে। এ ছাড়া দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশক্রমে ওয়ার্ড থেকে জেলা পর্যায় পর্যন্ত সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটির উদ্যোগে সভা-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ফলে দলের সাংগঠনিক শক্তি এখন অনেক সুসংহত ও সংগঠিত বলে তিনি দাবি করেন।

দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছরের ১৯ মে শহীদ দারোগ আলী পৌর পার্ক মাঠে জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবড়ি) আসনের সাংসদ কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিায়া চৌধুরীসহ একাধিক মন্ত্রী, কেন্দ্রীয় নের্তৃবৃন্দ, স্থানীয় নেতাকর্মী মিলিয়ে দশ হাজারের বেশি জনতা ওই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনে দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম আর কোন প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় আগামী ৩ বছরের জন্য সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে যথাক্রমে আতিউর রহমান আতিক এবং চন্দন কুমার পালকে নির্বাচিত ঘোষণা করেন এবং পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্য তাদেরকে দায়িত্ব দেন। কিন্তু সম্মেলনের ১৫ মাস পার হয়ে গেলেও জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হয়নি।

কেবল সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া আগের কমিটির সকল নেতাই এখন নিজেদের সাধারণ কর্মী বা সাবেক নেতা হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। ফলে অনেকের মধ্যেই হতাশা বিরাজ করছে। পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকায় দলীয় পরিচয়ের অভাবে দলের কর্মকাণ্ডে অংশ গ্রহণ করতে অনেকেই উৎসাহ হারিয়ে ফেলছেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা এ্যাডভোকেট মো. আখতারুজ্জামান জানান, সম্মেলনের ১৫ মাস পরও দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় অনেক ত্যাগী নেতাকর্মী হতাশায় ভুগছেন এবং দলীয় কর্মসূচি পালনে উৎসাহ পাচ্ছেন না।

উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ঐতিহাসিক ৭ জুন ও গত ২৩ জুন আওয়ামী লীগের ৬৫ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে দলটি শেরপুরে কোনো কর্মসূচি পালন করেনি। বর্তমানে দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ইচ্ছানুযায়ীই দল চলছে। মূলত দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকার কারণেই এমন অবস্থা হয়েছে এবং এতে দলের সাংগঠনিক শক্তি দুর্বল হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অনতিবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের বিষয়ে তিনি দলের কেন্দ্রিয় কমিটির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। যাতে জেলা আওয়ামী লীগের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশ গ্রহণ করতে পারেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সম্পাদকমন্ডলীর একজন নেতা জানান, সম্মেলনের ১৫ মাস পরও পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় অনেক নেতাকর্মীই হাতাশায় ভুগছেন। পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকায় গত এক বছরে দলের কার্যনির্বাহী পরিষদের কোন সভা হয়নি। এতে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল হচ্ছে। সেইসঙ্গে দলে গণতান্ত্রিক চর্চ্চাও ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমানে ‘এক নেতার’ সিদ্ধান্তেই দল পরিচালিত হচ্ছে বলে এই নেতা মন্তব্য করেন।

এদিকে ক্ষমতাসীন দলের অভ্যন্তরে দৃশ্যত কোনো কোন্দল না থাকলেও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীর সঙ্গে হুইপ আতিউর রহমানের মনস্তাত্বিক দ্বন্দ্ব রয়েছে।

হুইপ আতিউর রহমান আতিক কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর বিরুদ্ধে প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তার করে গত বছরের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীর বিজয়ের পথে বাধা সৃষ্টি ও শেরপুরের উন্নয়ন কাজে বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগ এনেছেন।

সে সময় আতিউর রহমান আতিক প্রকাশ্য সংবাদ সম্মেলন ও জনসমাবেশ করে একাধিকবার মতিয়া চৌধুরী সম্পর্কে কঠোর সমালোচনা করেছেন। ফলে মতিয়ার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে এবং দীর্ঘদিনের মনস্তাত্বিক দ্বন্দ্বটি প্রকাশ হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়টি দলে মতিয়া চৌধুরীর ‘সমর্থক’ হিসেবে পরিচিত অনেকেই ভালো চোখে নেননি। এছাড়া বর্তমান সরকারের সময়কালের আড়াই বছরে এক দিনের জন্যও শেরপুর সদরে আসেননি মতিয়া চৌধুরী। কেবলমাত্র তার নির্বাচনী এলাকা নকলা ও নালিতাবাড়িতে আসেন উন্নয়নমূলক কাজ পরির্দশন এবং সরকারী সফরে।

এ বিষয়ে হুইপ আতিউর রহমান আতিক স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, ‘মতিয়া চৌধুরী সরকারের একজন সফল মন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে আমার কোন সাংগঠনিক বিরোধ নেই। তবে শেরপুর সদরকে উপেক্ষা করে সকল উন্নয়ন কাজ মতিয়া চৌধুরী তাঁর নির্বাচনী এলাকা নকলা ও নালিতাবাড়ীতে করায় শেরপুরের সাধারণ মানুষ মনক্ষুন্ন হয়েছেন। এ বিষয়টিই আমি বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট ও জনসমক্ষে তুলে ধরেছি।’

অবশ্য আতিউরের এসব অভিযোগ আমলে না নিয়ে মতিয়া চৌধুরী স্থানীয় সাংবাদিকদের একাধিকবার বলেছেন, শেরপুর সদর তাঁর নির্বাচনী এলাকা নয়। তাই তিনি কখনো আতিউরের নির্বাচনী এলাকার কোনো উন্নয়ন কাজে হস্তক্ষেপ করেননি বা বাধা দেননি। শেরপুর সদরের ব্যাপারে তাঁর কোন আগ্রহ নেই বলেও তিনি জানান।

সম্প্রতি দলীয় কর্মসূচি পালন না করা প্রসঙ্গে দলের সাধারণ সম্পাদক চন্দন কুমার পাল জানান, ঐতিহাসিক ৭ জুনের সময় হুইপ আতিউর ও তিনি (চন্দন) বিদেশে থাকায় দলের পক্ষ থেকে কর্মসূচি পালন করা সম্ভব হয়নি। তবে দলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী এবং ১৫ আগষ্ট পালন করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

রফিক//শেরপুর, ২৮ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এফআর