[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



শেরপুরে নদী থেকে বালু উত্তোলন, ঝুঁকিতে ব্রীজ


প্রকাশিত: August 29, 2016 , 7:58 pm | বিভাগ: এক্সক্লুসিভ


sherpur

শেরপুর লাইভ: শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতি উপজেলার সীমান্তবর্তী গারো পাহাড় এলাকার সন্ধ্যাকুড়া গ্রামে মহারশি নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনে ধ্বংসের পথে সংরক্ষিত সেগুন ও সাল-গজারি বাগান।

সেইসাথে বদলে যাচ্ছে নদীর প্রকৃতি এবং ঝুঁকির মুখে পড়ছে নদীর উপর নির্মিত সীমান্ত সড়কের গুরুত্বপূর্ণ ব্রীজ। ফলে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে পরিবেশ ও পাহাড়ের জীববৈচিত্র। এসব কিছুই স্থানীয় প্রশাসনের নাকের ডগার উপর দিয়ে হলেও অদৃশ্য কারণে থামছে না এ অবৈধ বালু উত্তোলন। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা হবে। ইতোপূর্বেও এ অবৈধ বালু উত্তোলন করা হলে স্থানীয় প্রশাসন তা বন্ধ করে দিলেও কিছু দিন পর তা আবারও চালু হচ্ছে অদৃশ্য শক্তির ইশারায়।

জানা গেছে, ২০০৪ সালে ঝিানাইগাতি উপজেলার সামিউল ফকির নামে এক বালু ব্যবসায়ী তৎকালের সরকার থেকে লীজের মাধ্যমে উপজেলার সন্ধ্যাকূড়া, হলদিগ্রাম এবং ফাকরাবাদ মৌজার মাহারশি নদীর ৮ হেক্টর এলাকা থেকে বালু উত্তোলনের লীজ প্রাপ্ত হন।

এরপর সন্ধ্যাকূড়া এলাকায় সীমান্ত সড়কের মহারশি নদীর উপর ব্রীজ নির্মানের কাজ শুরু হলে সরকার ব্রীজ নির্মানের স্বার্থে ২০০৫ সালে নতুন করে লীজ না দিয়ে ওই এলাকা থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ করে দেয়। কিন্তু ২০০৪ সালের ওই লীজের মালিক সামিউল ফকির ২০০৫ সালের লীজ না পেয়ে উচ্চ আদালতে রীট করে আবারও বালু উত্তোলন শুরু করে। দীর্ঘ এই ১১ বছর ধরে ওই সামিউল ফকির দফায় দফায় বালু উত্তোলন করে মহারশি নদীর তলদেশ এবং নদীর দুই পারের শাল গজারি বাগান এবং ২০০৭ সালে নির্মিত ব্রীজটি’র পাইলিং এবং গার্ডারের নিচের বালু সরে গিয়ে বর্তমানে ঝুঁকির মুখে পড়েছে ওই ব্রীজ। বর্তমানে প্রতিদিন ওই নদীতে প্রায় ৫০টি সেলোমেশিন দিয়ে প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন করা হয়।

এছাড়া নদীর তীরের সন্ধ্যাকূড়া সংরক্ষিত সেগুন এবং সাল-গজারি’র বাগানের গাছ কেটে তৈরি করা রাস্তা ও বালুর ডাম্পিং স্পটের কারণে ওই সংরক্ষিত বনও হুমকি’র মুখে পড়েছে।

সম্প্রতি মহারশি নদীর সন্ধ্যাকূড়া মহারশি মৌজা এলাকার নদীর মাঝখানে খানা-খন্দকে ভরে বালুর স্তর কমে যাওয়ায় ওই এলাকা থেকে দীর্ঘ পাইপ লাগিয়ে প্রায় এক কিলোমিটার দুরত্বের ভারত সীমান্তের নো-ম্যান্স ল্যান্ড সংলগ্ন গুমরা মৌজার একই নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সামিউল ফকির কোনো সদুত্তর না দিতে পারলেও অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের কথা অস্বীকার করে বলেন, আমি আমার নির্ধারিত স্থান থেকেই এবং উচ্চ আদলতের রিটের ভিত্তিতেই বালু উত্তোল করে আসছি।

ঝিনাইগাতি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা আদালতের রিটের মাধ্যমে জনৈক ব্যাক্তির বালু উত্তোলনের কথা স্বীকার করে বলেন, তিনি আদালতের নির্দেশে বালু তুলছেন ঠিকই কিন্তু তিনি নিয়ম মেনে এবং তার রিটের উল্লিখিত সীমানার মধ্যে থেকে বালু উত্তোলন করছে কিনা তা পরিমাপ করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া বন ভুমির সীমানার মধ্যে সংরক্ষিত বনের ক্ষতি করে বালুর ডাম্পিং করছে কিনা সেটাও দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

আরএম//শেরপুর, ২৯ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এফআর