[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



জুইশ পাওয়ার এবং আমেরিকান ট্রাম্প


প্রকাশিত: August 31, 2016 , 10:17 pm | বিভাগ: অপিনিয়ন


MC

সোহেল আহমদ: জনসমর্থন ছাড়াই ভাগ্যের চাকা ঘুরে যেতে পারে ট্রাম্পের। সর্বশেষ জরীপে ৫০ শতাংশেরও বেশি জনসমর্থন নিয়ে এগিয়ে রিপাবলিকান প্রার্থী হিলারি।

তবে আমেরিকান জনগণের এ সিদ্ধান্ত বদলে দিতে পারেন ৫৩৮ ইলেক্টোরাল কলেজের অধিকারী প্রতিনিধিরা। আমেরিকান সংবিধান ইলেকটোরাল কলেজ বা নির্বাচক সংস্থার সদস্যদের ভোটে বিজয়ীকেই প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আসছে। যেমনটা ঘটেছিলো ১৮২৪ প্রেসিডন্ট এডামস, ১৮৮৮ তে ক্লিভল্যান্ড আর সর্বশেষ ২০০১ এর নির্বাচনে জনগণের রায়ে পরাজিত হয়েও ইলেকটোরাল কলেজের ভোটে উতরে যান ডেমোক্র্যাট দলের প্রেসিডেন্ট প্রত্যাশী বুশ।

এখন পর্যন্ত রিয়ল এস্টেট ব্যবসায়ী ধনকুবের ট্রাম্পের গর্জন নারী, ধর্ম, বর্ণবাদের, অভিভাসনে কড়া নীতির প্রতিফলন আর যুদ্ধংদেহী মনোভাবের প্রকাশে যা ঘঠেছে সহজেই অনুমেয় কতটা আক্রমনাত্বক হতে পারেন সিনিয়র বুশের অনুসারী।

আক্রমনাত্বক অঙ্গভঙ্গি অার অশ্লিল শব্দের ঝুড়ি খুলে এ পর্যন্ত অনেকটা ব্যাকফুটে থাকা ট্রাম্প নির্দ্ধিধায় প্রকাশ করেছেন নিজের ভবিষ্যৎ চরিত্রের। আমেরিকার লবি প্রকৃতির রাজনীতি পৃথিবীসেরা সেটা সবারই জানা। আর এই আমেরিকান লবি রাজনীতিতেই দুনিয়ায় নাম্বার ওয়ান জুইশরা। তার ওপর আমেরিকান লবি কারীদের মধ্যে অস্ত্র নিয়ে ঝনঝনাকারীদের লবি কারীদের অবস্থানও আবার প্রথম দিকে। পৃথিবীতে অস্ত্র ব্যবসায়ীদের উচুঁস্তরের সিংহভাগই আমেরকান লবিংয়ে রাজনীতিতে সক্রিয়। ট্রাম্পের মতন ‘তুরুপের তাস’ নিয়ে অস্ত্র ব্যবসা শানানোই মোক্ষম মনে করে ইলেকটোরাল কলেজে অস্ত্রব্যবসায়ীরা প্রাধান্য সৃষ্টি করবে না তার গ্যারান্টি তো কেউ দিতে পারে না।

অস্ত্র ব্যবসার দুনিয়ায় অাধিপত্য রাখতে কিংবা অন্যদিকে অমুক-তমুককে অস্ত্র যুদ্ধে জড়িয়ে রাখতে মোটেও অস্ত্র ব্যবসায় লগ্নিকারীদের জনগণ হতাশ করলেও ইলেকটোরাল কলেজ প্রতিনিধিরা হতাশ করবে না।

আমেরিকান লবি দুনিয়ায় বেশ জোরের তৎপরতা রয়েছে ইসরাঈলের। ডেমোক্র্যাটিক কিংবা রিপাবলিকান দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী নির্বাচন থেকে শুরু করে সিনেটর কংগ্রেসম্যান সদস্য নির্ধারনে অনেকটা দৃশ্যমান অদৃশ্য শক্তি হিসেবে কাজ করে ‘জুইশ লবি’। অামেরিকা জুড়ে ৩৪টিরও বেশি সংগঠনের ‘জুইশ লবি’, থিঙ্কট্যাঙ্ক, মিডিয়া ওয়াচডগ গ্রুপ মিলে আমেরিকান রাজনীতি, পররাষ্ট্রনীতিতে ইহুদীদের প্রভাব বিস্তার করা নতুন কিছু নয়। তার সাথে রয়েছে বছরের পর বছর ধরে আমেরিকার রাজনীতিতে ব্যাক্তি, প্রতিষ্টানকে অন্য যেকোনো গোষ্ঠীর চেয়ে বরাবরই বেশ ভালো পরিমাণে চাঁদা দেয়া ইহুদী গোষ্ঠী।

ওয়াশিংটন পোষ্টের এক জরীপ অনুযায়ী মাত্র ১৬বছরে জুইশরা আমরিকান ব্যাক্তি, গ্রুপকে ৫৮ দশমিক ৮মিলিয়ন মার্কিন ডলার চাঁদা দেয়ার মতন ঘটনাও রয়েছে। অন্যপক্ষে একই সময়ে যেখানে আমেরিকান মুসলিম, আরব গোষ্ঠী মাত্র ৮মিলিয়ন মার্কিন ডলারের মতো খরচ করেছে আমেরিকান লবি প্রকৃতির রাজনীতি দুনিয়ায়। আমেরিকান রাজনীতির অভ্যন্তরীন, আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের নাটাইয়ে ইহুদীদের নগ্ন লবি সিদ্ধহস্ত, পরিক্ষিত।

আমেরিকানরা পৃথিবীকে শাসন করে নিজেদের শাসক হিসেবে দেখতেই নিজেদের পছন্দ করে আর তাই নরম সুরের হিলারীর চেয়ে কর্কশ মেজাজী ট্রাম্পই হতে পারেন অামেরিকান অস্ত্র ব্যবসায়ী আর জুইশ পাওয়ারের চাপে ইলেকটোরাল কলেজ প্রতিনিধিদের পছন্দের প্রার্থী।

জনসমর্থনের হেরফের দেখে ২০০১ এর নির্বাচনের আগেভাগেই ইসরাঈল সফর করেন জর্জ বুশ। সহজেই অান্দাজ করা যায় ইহুদি লবির সাথে সমঝোতা আর বিপুল তহবিলের জন্যই তার ছুটে যাওয়া। আর তার ফলাফল হাতে নিয়েই মধ্যপ্রাচ্য ইরাকে শুরু করেন ‘ওয়ার ওন টেরর’।

ট্রাম্পের ইসলামবিদ্ধেষী মনোভাব আর হিলারির ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর সহানুভূতি আদায়ের রাজনীতিতে ইসরাঈলী পক্ষের অবস্থান মোটেও হিলারির দিকে ঝুকবে না সহজেই অনুমান করা যায় যদিও ট্রাম্পের আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আধিপত্য রাখতে চাওয়াটাকে ইসরাঈলপন্থীরা ভালভাবে দেখবে বলা যায় না। পৃথিবীর নানাপ্রান্তে ঘটতে থাকা ইস্যু নিয়ে ইহুদিদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও ‘ইসলামবিদ্ধেষী’ নীতিতে বরাবরই ঐক্যবদ্ধ পৃথিবীতে অশান্তির কারিগর এই ইহুদী জাতি।

তাই আপাতদৃষ্টিতে জনগণের কাছে হিলারি প্রিয় হলেও এখান দেখার বিষয় থেকে যায় ‘নির্বাচক সংস্থা’র ৫৩৮ প্রতিনিধির ২৭০টি ভোট কোন পাল্লায় বেশি ঝোকে।

তবে একটা বিষয়ে নিমিষেই আন্দাজ করা যায়, ন্যায়নীতি বহির্ভূত ‘জুইশ পাওয়ারে’র সাথে শেষমেষ যার ঘাটবন্ধন হবে সেই ঘর সংসার করবে হোয়াইট হাউসে।

আমেনিকান নির্বাচন পদ্ধতি: পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা জটিল আর ব্যায়বহুল নির্বাচন ব্যবস্থা হিসেবে পরিচিত মার্কিন রাষ্ট্রপতির নির্বাচন পদ্ধতি। রাষ্ট্রবিজ্ঞানীগণ মার্কিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতিকে ‘উদ্ভট’ নির্বাচন ব্যবস্থা হিসেবে উল্লেখ করেন।

দীর্ঘ প্রক্রিয়ার এ নির্বাচন ব্যবস্থার শুরু আগামী নভেম্বরের ৮ তারিখ। এদিন দেশের ৫০ রাজ্যের মার্কিনী ভোটাররা নির্বাচক সংস্থার ৫৩৮ সদস্য নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এরপর থেকেই মূলত জুইশ পাওয়ারের লবি গ্রুপ ছুটবে নির্বাচক সংস্থার প্রতিনিধিদের পিছনে। কারণ ইলেকটোরাল কলেজ প্রতিনিধিদের দেয়া গোপন ভোটের ২৭০ টি ভোট পেয়েই নির্বাচিত হবেন মার্কিন সাম্রাজ্যের ৪ বছরের অধিকর্তা।

মার্কিন সংবিধানের ২ ধারা অনুসারে প্রতি লিপ ইয়ার বর্ষের নভেম্বর মাসের প্রথম সোমবারের পর প্রথম মঙ্গলবার অর্থ্যাৎ এবার নভেম্বর মাসের ৮ তারিখে ‘ইলেকটোরাল কলেজ’ প্রতিনিধিদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দেশের ৫০ রাজ্যের প্রত্যেকটি রাজ্য থেকে যে পরিমাণ কংগ্রেসম্যান অর্থ্যাৎ প্রতিনিধি সভার সদস্য ও সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন সমপরিমাণের ‘ইলেকটোরাল কলেজ’ প্রতিনিধি ২১ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের নাগরিকের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হবেন। যারা কংগ্রেসের সদস্য হবেন না আবার কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মচারীও হবেন না।

রাজনৈতিক দলের হয়ে লড়াই করবেন এবং বিজয়ীরা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য ডিসেম্বর মাসের দ্বিতীয় বুধবারের পর প্রথম সোমবার এ হিসেবে এবছরের ১৯ ডিসেম্বর নিজ নিজ জেলায় ‘ভাবী প্রেসিডেন্ট’ নির্বাচনের জন্য গোপন ভোট দিবেন। পরের বছরের জানুয়ারী মাসের ৬ তারিখ সিনেট সভাপতি কংগ্রেসম্যানদের নিয়ে ভোট গনণা করে ২৭০ টি ইলেকটোরাল ভোট লাভকারী প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষনা করেন।

ওভালের হোয়াইট হাউসের ৪বছরের ‘রয়েল প্রেসিডেন্সি’ কার অপেক্ষায়? রিপাবলিকান প্রার্থী ধনকুবের ডোনাল্ড ট্রাম্প নাকি সাবেক ফার্স্ট লেডি ডেমোক্রাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের?

মার্কিন সাম্রাজ্যে নতুন রয়েল প্রেসিডেন্সির আসতে এখনও ২০১৭ সালের ৬ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষার প্রহর গুনতে হবে গোটা বিশ্বকে।

লেখক: সোহেল আহমদ, সম্মান ৩য় বর্ষ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, এমসি কলেজ।

 ঢাকা, ৩১ আগস্ট (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এফআর