[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



জবির হল আন্দোলন: প্রধানমন্ত্রী আপনি হ্যাঁ নাকি না?


প্রকাশিত: September 1, 2016 , 4:37 pm | বিভাগ: অপিনিয়ন,আপডেট


jnu

মওদুদ তন্ময়: একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এক মাস ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করে রোদে পুড়ে-বৃষ্টিতে ভিজে রাস্তায় অতিবাহিত করছে অথচ রাষ্ট্রের কোনো মহলকে দেখলাম না এ নিয়ে একটা মন্তব্য করতে।

উল্টো শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ দিয়ে নির্যাতন করা হল, সরকার দলীয় সংগঠনের নেতা-কর্মীদের দিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর চালানো হল অমানবিক হামলা- এই রাষ্ট্রের চরিত্র চিনতে চিনতে শেষ করতে পারা যাচ্ছে না।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি সরকারের বিমাতা সরূপ আচরণের কারণ কি? শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি রাষ্ট্রের এই অমানবিক চরিত্রের কারণ কে উদ্ধার করবে?

শিক্ষার্থীরা মমতাময়ী মা বলে বিভিন্ন ভাবে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে কিছু শুনতে চাচ্ছেন; এই এক মাসের আন্দোলনের খবর কি প্রধানমন্ত্রীর কান পর্যন্ত পৌছায়নি আজ পর্যন্ত?

তবে তিনি এখনও চুপ আছেন কেন- উত্তরটা “না” বলেই কি তিনি কোন কথা বলতে চাচ্ছেন না?

ছাত্রলীগের সেন্ট্রাল সেক্রেটারি একটা টিভি প্রোগ্রামে এসে বলে গেলেন- ছাত্রদের দু:খ নাকি -জনগণের দু:খ নাকি সবার আগে টের পান প্রধানমন্ত্র।

তিনি বলেছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২টি কেন প্রধানমন্ত্রী ১০টি হল করে দেবেন— এসব মিথ্যাচার যদি না হয় তবে আজ ৩১ দিন পরেও কেন কোনো আশ্বাস পাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা!
আন্দোলনকারীদের দমন করার এই যে চেষ্টা , সেই চেষ্টা কি কেবল পুলিশ -বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন-আর ছাত্রলীগের একার?

নাকি ছাত্রলীগ সরকারের মদদে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে, নাকি পুলিশ সরকারের মদদে আন্দোলন ভন্ডুল করার চেষ্টা করেছে?

যদি এটা সত্য হয়ে থাকে তবে আমরা সেই সত্য বিশ্বাস করতে চাই না; আমরা বিশ্বাস করতে চাই শিক্ষার্থীদের নৈতিক দাবির প্রতি সরকারী মহল সহানুভূতিশীল হবেন; আমরা বিশ্বাস করতে চাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল হবে, আমরা বিশ্বাস করতে চাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার বিচার হবে।

আমরা বিশ্বাস করতে চাই না- আমরা ত্রাসের রাজ্যে বাস করি, আমরা এখনো বিশ্বাস করতে চাই না -রাষ্ট সন্ত্রাসীর মদদ দাতা। আমরা মানবিক রাষ্ট্র চাই-আমরা নৈতিক অধিকার বাস্তবায়নের রাষ্ট্র চাই।

রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বিশ্ববিদ্যালয়, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গত এক মাস ধরে নিজেদের পড়াশোনার ক্ষতি করে, নিজেদের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আবাসিক হলের দাবি জানাচ্ছে, তারা চাচ্ছে পরবর্তী প্রজন্ম যেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনাগত শিক্ষার্থী যারা সামনের দিনে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করবেন ; তারা যেন আবাসিক সুবিধা পায়; তারা যেন এই অমানবিক ছাত্রজীবন না কাঁটায় সেই লক্ষ্যে হলের দাবি জানাচ্ছে; দেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পরবর্তী প্রজন্মের জন্যে যখন ভাবছে; তখন রাষ্ট্রের অভিভাবক হয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এখন চুপ হয়ে আছেন কেন?

আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক সুবিধার দাবি কেবল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় সারা বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা এই দাবির সাথে নানাভাবে সমর্থন দিচ্ছেন; ঢাবি, জবি, চুয়েট, রাবি থেকে বিভিন্ন জেলায় জেলায় জগন্নাথের শিক্ষার্থীদের পক্ষে মানববন্ধন হচ্ছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দাবির যৌক্তিকতায় সহমত জানাচ্ছেন দেশের রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবীমহল, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-সাংবাদিক-আইনজীবীরা।

দেশের সকল সীদ্ধান্তের ভরকেন্দ্র যখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী-তখন বাকি আছেন মাত্র একজন; আপনি হ্যাঁ বলে দিলেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তথা দেশের সকল ছাত্র-শিক্ষক-বুদ্ধিজীবীসহ সচেতন নাগরিকদের এই দাবি সফল হবে!

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।।

লেখক: ছাত্র আন্দোলন কর্মী

ঢাকা, ১ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এফআর