[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



শাবির হল বন্ধের সিদ্ধান্তে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড়


প্রকাশিত: September 2, 2016 , 4:47 pm | বিভাগ: আপডেট,পাবলিক ইউনিভার্সিটি,সিলেটের ক্যাম্পাস


sust

শাবি লাইভ: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবি) আকস্মিক হলত্যাগের সিদ্ধান্ত ও শিক্ষার্থীদের সাথে দূর্ব্যবহার করে হল থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে বইছে নিন্দার ঝড়।

বৃহস্পতিবার আকস্মিক এক নোটিশে সবগুলো ছাত্রহলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে হল ত্যাগে বাধ্য করা হয়। অনেকের ক্লাস পরীক্ষা থাকায় এসে ব্যাগ গোছানোর আগেই হলের বিদ্যুৎ ও পানি বন্ধ করে দেয়ার অভিযোগ করেছে শিক্ষার্থীরা।

এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে বইছে প্রতিবাদের ঝড়। অনেকে এরকম সিদ্ধান্তকে প্রশাসনের অযোগ্যতা বলে উল্লেখ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড এন্ড টি টেকনোলজি বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর আফজাল হোসেন এ সিদ্ধান্তকে ‘গাঁজাখুরি’ বলে মন্তব্য করেন।

তিনি তার পোস্টে প্রশ্ন তোলেন, প্রশাসনের অদূরদর্শিতার জন্য কেন সব ছাত্রছাত্রীদেরকে ভুগতে হবে ?

বায়োকেমেস্ট্রী এন্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর মোস্তফা কামাল মাসুদ মন্তব্য করেন ‘খুব খারাপ লাগে যখন ক্যাম্পাসটিতে খুব হাস্যত্বক সিদ্বান্ত নিয়ে হল বন্ধ করা হয়। এসব শুনতে ও দেখতে ভাল লাগে না।’

বাংলা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী হাসান আদিল অনুরোধ করেন নিরাপত্তা দিতে না পারলে আপনারা প্লিজ সরে দাঁড়ান, বিশ্ববিদ্যালয়টাকে বাঁচতে দিন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের বাঁচতে দিন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে প্রশাসনের এ ধরনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক আহবায়ক গিয়াস বাবু সাধারণ শিক্ষার্থীদের এভাবে হয়রানি করার জন্য প্রশাসনকে খুব ভুগতে হবে বলে মনে করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ‘একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের চালিকাশক্তি যে শিক্ষার্থীরা, প্রশাসন সম্ভবত সেটা ভুলে গেছে।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সঞ্চালন এর সাবেক সভাপতি ফরহাদ আহমেদ হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ সময়ে এসে প্রশাসনের কাছ থেকে এমন আচরণ কোনোভাবেই আশা করিনি! এমন অভিভাবক পেয়ে আনন্দে মরে যেতে ইচ্ছে করছে।

বিজ্ঞান ভিত্তিক সংগঠন সাস্ট সায়েন্স অ্যারেনার সাবেক সভাপতি শুভানন রাজিক উল্লেখ করেন, দুঃখজনক হইলেও সত্যি, প্রশাসনে থাকা শিক্ষকদের সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের সাথেই ক্ষমতা দেখানোর সাহস আছে , মূল সমস্যার সমাধানে তাদের টিকিটিও খুজে পাওয়া যায় না।

শাহজালাল ইউনিভার্সিটি স্পিকারস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শরীফুল ইসলাম হিমেল তার পোস্টে উল্লেখ করেন, যাদেরকে আমরা অভিভাবক হিসেবে মানি তাদের আচরণ দেখে নিতান্তই অবাক হয়েছি।

ইন্ডাস্ট্রিয়াল এন্ড প্রডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এস এম গোলাম কিবরিয়া বলেন, ক্যাম্পাস বন্ধ, তাই হল ছাড়তে হবে। এটা কোন ধরনের কথা?

বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী হারুন উর রশিদ শিক্ষার্থীরা অনেক নমনীয় ছিলো বলে প্রশাসন কোনো ধরনের উল্টো প্রতিক্রিয়া পাননি বলে মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন আজকে হল প্রভোস্টরা ছাত্রদের সাথে যে ব্যবহার করেছে, তা অন্য কোনো ক্যাম্পাসে হলে হাড়ে হাড়ে টের পেতো। তিনি উল্লেখ করেন,”রাত যত গভীর হয় প্রভাত তত নিকটে আসে”।

ইংরেজি বিভাগের জাবেদ হোসেন নামের এক শিক্ষার্থী আফসোসের সাথে বলেন, একেক জনের ভাব দেখে মনে হচ্ছিলো দেশ বিভাগ চলছে, দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে তারা কলকাতা চলে যাচ্ছে।

ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন। বৃহস্পতিবার দুপুরেই হল বন্ধের প্রতিবাদে মিছিল করেছে শাখা জাতীয় ছাত্রদল।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ও ৩১ আগস্ট ছাত্রলীগের বিভিন্ন গ্রুপের সংঘর্ষে সাতজন আহত হয়। পরিস্থিতি মোকবিলায় বৃহস্পতিবার সকালে আবাসিক শিক্ষার্থীদের হলত্যাগের নির্দেশনা দেয় রেজিস্ট্রার ও হল প্রশাসন। এক্ষেত্রে ছাত্রদের (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যা ছয়টা এবং ছাত্রীদের শুক্রবার বেলা বারোটা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের আগে হলের বিদ্যুৎ ও পানির লাইন বন্ধ করে, দরজায় লাথি মেরে, গালি গালাজ ও চিৎকার করে শিক্ষার্থীদের হল ছেড়ে যাওয়ার জন্য বলেন বলে হল কর্তৃপক্ষ এমন অভিযোগ করেছে শিক্ষার্থীরা।

 

এক নজরে ফেসবুক মন্তব্য:

12356 - Copy37 - Copy78 - Copy9 - Copy10 - Copy11 - Copy13

ঢাকা, ২ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এফআর