[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



শেরপুরে কোরবানীর হাটে পাহাড়ি গরু’র চাহিদা


প্রকাশিত: September 4, 2016 , 8:54 pm | বিভাগ: বিজনেস


sherpur

শেরপুর লাইভ: শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় হত-দরিদ্র পরিবারের মধ্যে গরু পালন দিন দিনই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। অবারিত গোচারণ ভূমি এবং প্রাকৃতিক গো-খাদ্যে ভরপুর পাহাড়ি এলাকায় অসহায় পরিবারগুলো গবাদি পশু পালন করে বিশেষ করে গরু পালন করে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি সংসারের অভাব অনটন ঘোচাতে সক্ষম হয়েছেন।

সামনে কোরবানীর ঈদ। ঈদ উপলক্ষে কোনো রকম ভ্যাকসিন বা মোটাতাজা করণের ওষুধ ব্যবহার ছাড়াই গরুর চাহিদা রয়েছে প্রচুর। দেশের বিভিন্ন স্থানে ওষুধের মাধ্যমে গরু মোটাতাজা করা হলেও শেরপুরের এই সীমান্তবর্তী গারো পাহাড় এলাকায় গরু পালন করা হয় শতভাগ প্রকৃতিক ঘাস-লতাপাতা খাইয়ে। বন-বাদরের নানা প্রকারের লতা-পাতা ও ঘাস খেয়ে গরু এমনিতেই স্বাস্থ্যবান হয়। ফলে এ গরুর চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলছে। সেই সাথে এলাকার মানুষও ঝুকে পড়লে এ গরু পালনে। সীমান্ত এলাকা জুড়ে শত শত মানুষ এখন গরু পালন করছে। সর্বাধিক ৬০ থেকে ৭০টি গরু পালন করছে কোনো কোনো পরিবারের সদ্যররা।

গরু’র রাখালরা প্রতিদিন সকালে গ্রাম থেকে পাহাড়ি জঙ্গলে এবং খোলা মাঠে গরু চাড়িয়ে আশপাশে বিশ্রাম নেয়। কেই বা পাহাড়ের কাছাকাছি বাড়ি-ঘর যাদের তারা নিজেদের অন্যান্য কাজ সেরে সন্ধ্যার আগে আবারো মাঠ থেকে গরু নিয়ে এসে তাদের গোয়াল ঘরে তুলে। এবাবেই তারা প্রতিদিন কোনো রকম বাড়তি খাদ্য না ব্যবহার করেই গরু পালন করে আসছে। রোধ, বৃষ্টি ও ঝড় মাথায় নিয়ে পাহাড়ী এলাকায় সব বয়সের নারী ও পুরুষ গরু’র পাল নিয়ে মাঠে চরাচ্ছেন। পাহাড়ে গরু চরানোর সময় যাতে হারিয়ে না যায় সেজন্যে অনেক গরুর গলায় বিশেষ ধরনের ঘন্টা বেঁধে দেয়া হয়।

ঝিনাইগাতীর বাঁকাকুড়া, ডেফলাই, ভালুকা, গান্ধিগাও, ফুলহারি ও গজনীসহ এর আশেপাশের এলাকার অধিকাংশ হত দরিদ্র মানুষ এখন গরু পালনে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

এক সময় গারো পাহাড় সংলগ্ন এ সব পাহাড়ি এলাকা ছিল প্রাকৃতিকভাবে গড়ে উঠা শাল-গজারীসহ নানা প্রকারের বনজ গাছের সমন্বয়ে গহীন অরণ্য । কালপরিক্রমায় পাহাড়ী এলাকা এখন হয়ে পড়েছে বৃক্ষ শূন্য। তাই দিগন্ত জুড়ে বৃক্ষশূন্য প্রকৃতিক গো-খাদ্যে ভরপুর মাঠে গরু চড়ানোর সুবর্ণ সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আর এ সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে এলাকার হত-দরিদ্র মানুষ।

স্থানীয় গরু পালনকারীরা জানান, প্রতি বছর ঈদের আগে ঢাকা থেকে পাইকাররা এসে আমাদের এলাকা থেকে ট্রাকে ট্রাকে গরু নিয়ে যায়।

ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. রেজওয়ানুল হক ভূইয়া শাহজাদা জানান, এই ঝিনাইগাতী পাহাড়ি এলাকায় প্রচুর পরিমানের প্রকৃতিক ঘাস ও লতাপাতা জন্মে। এই ঘাস লতা-পাতা খেয়েই পাহাড়ি গুরু এমতেই মোটা-তাজা হয়ে উঠে। আমরাও তাদেরকে প্রকৃতিক ও আমাদের গবেষনায় সে পদ্ধতি পাই সে পদ্ধতিতে গরু পালনকারীদে পরামর্শ দিয়ে থাকি। ফলে দিন দিন এই ঝিনাইগাতীর গরুর চাহিদা শুধু ঈদেই নয় সারা বছরই বিভন্ন স্থানের পাইকাররা এসে গরু কিনে নিয়ে যায়। এ উপজেলায় সর্বশেষ জরিপে প্রায় লক্ষাধিক গরু রয়েছে বলে জানালেন তিনি।

 

আএম//শেরপুর, ৪ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এফআর