[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



বঙ্গবাসী স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছে অনিয়মই যেন নিয়ম!


প্রকাশিত: September 5, 2016 , 7:55 pm | বিভাগ: এক্সক্লুসিভ


teacher

খুলনা লাইভ: খুলনা মহানগরীর খালিশপুরের বঙ্গবাসী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের অপসারণের দাবিতে সোমবার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানবন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে।

এছাড়া প্রধান শিক্ষকের স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মে অতিষ্ট বিদ্যালয়ের ১৮ জন শিক্ষক বিষয়টির সুষ্ঠ তদেেন্তর দাবি জানিয়েছেন। খোদ ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা প্রতিকার চেয়ে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

একই সাথে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসককে সভাপতি এবং শিক্ষক ও অভিভাবকদের সমন্বয়ে একটি এডহক কমিটি গঠনেরও দাবি জানানো হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা জানায়, ২০১৬ সালে এসএসসি পরীক্ষায় ফরম ফিল-আপের নামে ৬ হাজার থেকে ১১ হাজার ১ শ’ টাকা পর্যন্ত আদায় করেছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন। অথচ পরীক্ষার ফি মাত্র ১২ শ থেকে ১৬ শ’ টাকা। এই টাকা ফেরত চাইলে বিভিন্নভাবে ভয়ভিতি প্রদর্শন করেন তিনি।

1

বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অভিযোগ পত্রের সূত্রে জানা যায়, বঙ্গবাসী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, জেলা প্রশাসক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা খুলনা অঞ্চলের পরিচালক, জেলা শিক্ষা অফিসার ও থানা শিক্ষা অফিসারসহ বিভিন্ন দফতরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার লিখিত অভিযোগ পত্র দিয়েছেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, চাকরির প্রথমে ছিলেন বিদ্যালয়ের ৩নং কেরানী (ইনডেক্স নং-সিটি-২৮৮৪৪৭)। পরবর্তীতে তিনি বেআইনী ক্ষমতার দাপটে ৩নং কেরানী থেকে কম্পিউটার শিক্ষক পদে পদোন্নতি, অতপর প্রধান শিক্ষক হয়েছেন। তিনি এসএসসি পরীক্ষায় দ্বিতীয়, এইচ এস সিতে তৃতীয় বিভাগ এবং স্নাতকে তৃতীয় বিভাগ পেয়েছেন। প্রধান শিক্ষক পদে বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য মুক্তিযোদ্ধা কেএম আলম একটি মামলা দায়ের করেছেন (সিআর নং-৩৮১/১৫)। মামলাটি বর্তমানে হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে।

অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, তিনি প্রধান শিক্ষক হিসেবে এমপিওভূক্তি হননি।অথচ বেআইনী ও ক্ষমতাবহির্ভূতভাবে এখনও পর্যন্ত কম্পিউটার শিক্ষক পদে এমপিওর টাকা উত্তোলন করছেন। তিনি এসএসসি পরীক্ষার সময় ব্যবহারিক পরীক্ষায় প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ ও আত্মসাৎ করেছেন।
3

তিনি তার মন:পূত ব্যক্তিদের নিয়ে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন করেছেন। এই কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণের পথে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন তার ক্ষমতার দাপটে পূনরায় পূর্বের কমিটির সভাপতি এবং মনভূত ব্যক্তিদের নিয়ে পরবর্তী কমিটির গঠন করতে পারে বলে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অভিযোগ।
শিক্ষকরা বিধি মোতাবেত প্রচারিত নির্বাচনের মাধ্যমে একটি কমিটি গঠন দাবি জানিয়েছেন।

এ জন্য জেলা প্রশাসককে সভাপতি করে এবং প্রধান শিক্ষকের মন:পূত শিক্ষকদের বাদ দিয়ে একটি এড-হক কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন।

শিক্ষকদের অভিযোগ, গত বছর বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরষ্কার এখনও পর্যন্ত কোনো শিক্ষার্থীকে দেননি প্রধান শিক্ষক। যার স্বাক্ষী খোদ শিক্ষার্থীরাই।

সহকারি শিক্ষক নাইমা সাহাদাৎ জানান, নিম্নমানের শিক্ষা সনদসহ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তার নিয়োগের বৈধ্যতা নিয়ে হাইকোর্টে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এমনকি তার বিরুদ্ধে স্কুল থেকে নিজে বেশি বেতন নেয়ারও অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। যা বিদ্যালয়ের ১৮ জন শিক্ষক জেলা প্রশাসক, যশোর বোর্ডের চেয়ারম্যান ও বিদ্যালয়ের পরিদর্শকের কাছে আবেদন লিখিতভাবে জানিয়েছেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুল জলিল ও ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সদস্য কেএম আলম আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে শিক্ষকদের নিয়ে অভিযোগ পত্র দিচ্ছে। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।

এ বিষয়ে খুলনা জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান জানান, বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পক্ষ থেকে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।

 

ঢাকা, ০৫ আগস্ট (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এফআর