[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



পুরান ঢাকাবাসীর আত্মার কেন্দ্র হয়ে থাকুক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়


প্রকাশিত: September 6, 2016 , 9:01 pm | বিভাগ: অপিনিয়ন


rafik

রফিকুল ইসলাম: পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় জেলখানার পরিত্যক্ত জমিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে জাদুঘর এবং জাতীয় চার নেতা- সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, এমএম মুনসুর আলী এবং এএইচএম কামরুজ্জামানের নামে হল নির্মাণের দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এক মাসেরও অধিক সময় ধরে ব্যাপক আন্দোলন করে আসছেন।

শিক্ষার্থীরা বলছেন এখানে হল নির্মাণ করা হলে তাদের আবাসিক ব্যবস্থা হবে এবং ওই নেতাদের স্মৃতিও রক্ষা পাবে।

অন্যদিকে কয়েক দিন আগে পুরান ঢাকার কিছু সংখ্যক অধিবাসী তাদের রক্ত থাকতে ওই জমি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে দেয়া হবে না বলে মানববন্ধন করেছেন। সেখানে খেলার মাঠ, জাদুঘর ও বিনোদনকেন্দ্র তৈরির দাবি করছেন তারা।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জবি ক্যাম্পাসকে কেরানীগঞ্জে সম্প্রসারণ করার সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য শিক্ষামন্ত্রীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করার নির্দেশও প্রদান করেন।

অবশ্য এর আগে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ কেরানীগঞ্জে এক হাজার শিক্ষার্থীর আবাসন ব্যবস্থা, মেয়েদের জন্য বাংলাবাজারে ১৭তলা ভবন এবং একাডেমিক নতুন ভবনকে ২০তলা করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় জেলের জমি পেতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কয়েকবার চিঠিও পাঠিয়েছেন। জবি কর্তৃপক্ষ বলছেন ওই জমির সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণ এবং ইতিহাস -ঐতিহ্য বা সংস্কৃতি ধরে রাখতে অন্যদের থেকে তারাই ভালভাবে করতে পারবেন। আর খেলার মাঠে এলাকাবাসীর সন্তানরা প্রবেশাধিকার পাবে।

তাহলে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানটি ওই জমি হস্তান্তার করতে সরকারের এত আনীহা কেন? ভৌগলিক কারণে যে প্রতিষ্ঠানটি অতি অল্প সময়ে শিক্ষার্থীদের কাছে দ্বিতীয় পছন্দের প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠেছে।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের যৌক্তিকতা:

জগন্নাথ প্রতিষ্ঠানটি এক কালো আইনের মাধ্যমে ২০ অক্টোবর, ২০০৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার পর থেকে এর শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দাবিতে ব্যাপক আন্দোলন করে আসছে। এ পর্যন্ত পুলিশের গুলিতে গুলিবিদ্ধসহ অসংখ্য শিক্ষার্থী মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। কেউ আহত হয়েছেন সেই কালো আইন ভাঙ্গার জন্য, কেউ হলের জন্য আন্দোলন করতে গিয়ে। ব্যয় করেছেন অনেক সময়। ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেছেন কয়েক দফ। রক্ত ঝড়িয়েছেন অনেকে। কিন্তু কেন ?

সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে রাষ্ট্র পরিচালনের জন্য অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসাকে মৌলিক নীতিমালা হিসেবে দেয়া হয়েছে। এগুলো সরকারকে রাষ্ট্র পরিচালনার দিকনিদের্শনা দেয়। স্বাধীনতার এতো বছর পরও আমরা শিক্ষাকে সেভাবে মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি। যদি সেটা হতো তা হলে মৌলিক নীতিমালা লঙ্ঘনের দায়ে রাষ্ট্র বা সরকারকে আইনতভাবে বাধ্য করা যেত। করা যেত তার বিরুদ্ধে মামলা।

এখন মোটা দাগে আমার প্রশ্ন হলো বিশ্ববিদ্যায়ের হলের জন্য শিক্ষার্থীদের বার বার মাঠে নামতে হয় কেন ?

বিশ্বমানের শিক্ষা যেখানে দেয়া হবে, সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটিয়ে রাষ্ট্রের উন্নয়নের জন্য যারা কাজ করে যাবে, বিশ্বকে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য যারা গবেষণায় নিয়োজিত থাকবে সেখানে তাদের কেন প্রতিষ্ঠানের জন্য আন্দোলন করে সময় নষ্ট করতে হচ্ছে, তাহলে রাষ্ট্র আগে ভাবে না কেন ?

সত্যি বলতে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই কালো আইন ২৭/৪ ধারার বাতিল করে দিলে বিশ্ববিদ্যালয়টি পূর্ণাঙ্গতা লাভ করে। প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থী এবং পাঁচ শতাধিক শিক্ষক বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়টি অনুষদের ৩৫টি বিভাগ ও একটি ইনস্টিটিউট শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা আজও বিশ্ববিদ্যালয় মানের সে পরিবেশে বসবাস করতে পারছেন না। যদিও প্রতিষ্ঠাটি ১১ বছর অতিক্রম করছে। আওয়ামী লীগ সরকারের এতো উন্নয়ন কিন্তু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে ১০০% আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় করে দিতে কীসে বাধাঁ দিচ্ছে ?

যদিও এ বিশ্ববিদ্যালয়টির বয়স বেশি নয় কিন্তু এর মান কম কিসে? জানা যায়, ৩৫তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এর পরই এ প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান। আর সাব-ইন্সপেক্টর পদে নিয়োগ প্রাপ্তদের সংখ্যা ঢাবিকে ছাড়িয়ে ১ম হয়েছে জগন্নাথ প্রতিষ্ঠানটি।

যেখানে ঢাবি ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাজেটে হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে ৩৭১ কোটি ১৫ লক্ষ টাকা পায় সেখানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পায় মাত্র ৩৮ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। তাহলে এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতি এতো বৈষম্য কেন?
যাইহোক, কেন্দ্রীয় কারাগারের জমি হচ্ছে হল আন্দোলনের একটি ইস্যু। এর আগেও শিক্ষার্থীরা হলের জন্য ২০০৯, ২০১১, ২০১২ এবং ২০১৪ সালে আন্দোলন করেছেন। কিন্তু আজও সাধারণ শিক্ষর্থীরা হলে থাকার জায়গা পেল না।

প্রশাসন থেকে বার বার আশ্বাস পেয়ে প্রতিশ্রুতি মোতাবেক হল না হওয়ায় তারা সরাসরি প্রধানমন্ত্রী মুখ থেকে হল পাওয়ার আশ্বাস চাইছিলেন। অবশেষে তিনি জবির ক্যাম্পস কেরানীগঞ্জে অখন্ড ভূমিতে সম্প্রসারণ করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাকে আমরা সাধুবাদ জানাই। এটা কবে নাগাদ বাস্তাবায়ন হবে শিক্ষার্থীরা যে আপেক্ষায়েই আছেন।

একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে হলে না থাকতে পারা বেদনা বুঝতে পারি। যাইহোক, ভর্তি যুদ্ধে পাস করে যখন নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের একজন সন্তান জগন্নাথে ভর্তি হয় তখন ঢাকায় থাকার জন্য তাকে নিয়মিত সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হয়। রুম ভাড়াসহ প্রতি মাসে তাকে গুনতে হয় অন্তত ৭০০০-৮০০০ টাকা। কেউ কেউ টাকার অভাবে সকালের নাস্তা খেতে পারে না। সেই সাথে নেই কোনো নিরাপত্তার ব্যবস্থা।

মেয়েদেতো আরো ভয়াবহ অবস্থা। তাদের থাকায় সমস্যা, যাতায়াতে সমস্যা আরো বেশি। হল যে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কতটা প্রয়োজন তা বুঝানো আসলেই দূরহ ব্যাপার।

জগন্নাথের শিক্ষার্থীরা ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারীবিরোধী আন্দোলনে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছিলেন। ২৫ হাজার শিক্ষার্থী যদি ওই বেদখলকৃত হলগুলো দখল করতে যায় তাহলে তারা কি দখলে আনতে পারে না? পুরান ঢাকার কারাগারের জমিতে কি তারা দখল নিতে পারে না? কিন্তু তারা এটা করতে যাবে কেন ? এ ঘটনায় কেউ নিহত হলে তার দায় ভার বা কে নেবে। এভাবে দখল তো আর শিক্ষার্থীদের কাজ নয়। ভর্তি যুদ্ধে পাস করে তারা এখানে ভর্তি হয়েছে সুতরাং সরকারেরই উচিত তাদের থাকার ব্যবস্থা করে দেয়া। একটু ভালো খেতে পারে তার ব্যবস্থা করা। একজন জবি শিক্ষার্থী কি বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের নাগরিক নয়?

পুরান ঢাকাবাসীর সাথে প্রতিষ্ঠানটির সম্পর্ক:

এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে দেড় শত বছরের বর্ণাঢ্য ইতিহাস। ১৮৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ব্রাহ্ম স্কুলের নাম বদল করে বালিয়াটির জমিদার কিশোরীলাল চৌধুরী তাঁর বাবার নামে ১৮৭২ সালে জগন্নাথ স্কুল নামকরণ করেন। ১৮৮৪ ও ১৯০৮ সালে যথাক্রমে এটি দ্বিতীয় ও প্রথম শ্রেণির কলেজে উন্নীত হয়। এ সময় এটিই ছিল ঢাকার উচ্চশিক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ২০০৫ সালে জাতীয় সংসদে

‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৫’ পাসের মাধ্যমে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়। অল্প কয়েক বছরে বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এটি সবার নজর কেড়েছে। তাই এ প্রতিষ্ঠানটি পুরান ঢাকাবাসীর আত্মার সাথে পুরোপুরি মিশে আছে।

জগন্নাথের শিক্ষার্থীরা যেখানে এক সময় থাকতো; এক সময় ঢাকার নামকরা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে জগন্নাথই ছিল অন্যতম। আবাসিক ব্যবস্থা ও ছিল ভাল। কিন্তু ১৯৮৭ থেকে ১৯৯০ সালের মধ্যে হলগুলো বেদখল হয়ে যায়। কারণ এরশাদ সরকারের আমলে প্রশাসন থেকে নোটিশ দিয়ে বলা হয় তাদের হল ছেড়ে দেয়ার জন্য। হলগুলো শিক্ষার্থীরা ছেড়ে দিলে একালার প্রভাবশালীরা এবং তৎকালীন সরকারের কিছু পুলিশ কর্মকর্তা দখল করে নেয়। একপর্যায় প্রভাবশালীরা নকল দলিল তৈরি করে নেয়।

পরে এনিয়ে এলাকাবাসীর সাথে শিক্ষার্থীদের মারামারিও হয়েছিল কয়েকবার। হলগুলো ছিল- ১. বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল, ২. ড. হাবিবুর রহমান হল, ৩. বাণী ভবন হল, ৪. আব্দুর রহমান হল, ৫. শহীদ আনোয়ার শফিক হল, ৬. তিব্বত হল, ৭. সাইদুর রহমান হল, ৮. রউফ মজুমদার হল, ৯. শহীদ আজমল হোসেন হল, ১০. বজলুর রহমান হল, ১১. নজরুল ইসলাম খান হল এবং ১২. শহীদ শাহাবুদ্দিন হল।

এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের সদরঘাট শাখা ভবনটি জগন্নাথের শিক্ষার্থীরা এক সময় হল হিসেবে ব্যবহার করত বলে জানা গেছে ওই সময় তাদেরকে বের করে দেয়া হলে পরে সে ভবনটিতে সরকার ব্যাংক হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করে।
যদিও ঐ হলগুলো এক সময় হিন্দু বাড়ি ছিল। তারা জগন্নাথের শিক্ষার্থীদের লিখিতভাবে দিয়ে যায়। কিন্তু ওই কাগজগুলো জগন্নাথ কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণে রাখতে পারেনি। আর দখলদাররা নকল দলিল তৈরি করে আজও ভোগ করছে।

শিক্ষার্থীরা চলে যায় প্রতিষ্ঠানটি পুরান ঢাকাবাসীর কাছেই থেকে যায়; দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এই প্রতিষ্ঠানটিতে লেখাপড়া করতে এসেছিলেন কেউ সেখানে স্থায়ীভাবে থেকে যাননি। শিক্ষার্থীরা এখানে আসেছেন আর জ্ঞান অর্জন করে চলে গেছেন। শুধু প্রতিষ্ঠানটিই পুরান ঢাকা বাসীর কাছে রয়ে গেছে। আজ যারা হলের জন্য আন্দোলন করছেন তারাও চার থেকে পাঁচ বছর লেখাপড়া করে চলে যাবেন। সুতরাং এ প্রতিষ্ঠানটি পুরান ঢাকাবাসীরই।

আজ মনে পড়ে সেসব বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কথা যারা এ প্রতিষ্ঠানের একসময় শিক্ষার্থী ছিলেন- ১. তাজউদ্দীন আহমেদ (বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী) ২. রফিকউদ্দিন আহমদ (ভাষা শহীদ) ৩. জহির রায়হান (কথা শিল্পী ও চলচ্চিত্র পরিচালক) ৪. যোগেশচন্দ্র ঘোষ (প্রখ্যাত আয়ুর্বেদ শাস্ত্র বিশারদ) ৫.আনিসুজ্জামান (শিক্ষাবিদ) ৬. সৈয়দ শামসুল হক (সাহিত্যিক) ৭. ব্রজন দাস (ইংলিশ চ্যানেল পাঁড়ি দেয়া সাঁতারু) ৮. জয়নুল আবেদীন (চিত্রশিল্পী) ৯. এটিএম শামসুজ্জামান (অভিনেতা) ১০. ইমদাদুল হক মিলন (লেখক) ১১. জাহিদ হাসান (অভিনেতা) ১৩. বিপ্লব (শিল্পী) ১৪. জুয়েল আইচ (যাদুকর) ১৫. ফারুক (অভিনেতা) ১৬. রাজিউদ্দীন আহমেদ রাজু (সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী) ১৭.মীর সাব্বির (অভিনেতা). ১৮. শামসুজ্জোহা (প্রথম শহীদ) ১৯. হায়দার হোসেন (সঙ্গীত শিল্পী) ২০. কাজী মোতাহার হোসেন (লেখক) ২১. ফকির আলমগীর (মুক্তিযোদ্ধা ও বিখ্যাত শিল্পি) ২২. মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া (বীর বিক্রম) ২৩. সাদেক হোসেন খোকা (সাবেক মেয়র,ঢাকা) ২৪. শেখ ফজলুল হক মনি ২৫. বর্তমান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানসহ আরো আনেকে।

জগন্নাথই পারে পুরান ঢাকার সংস্কৃতিকে ধরে রাখতে:

পুরান ঢাকা যেখানে স্বতন্ত্র সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ছিল, যা আমাদের বর্তমান সভ্যতারই অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। ঢাকাই সংস্কৃতি মানেই পুরান ঢাকার সংস্কৃতি। আর এই পুরান ঢাকার সংস্কৃতি, প্রথা, কৃষ্টি, আনুষ্ঠানিকতা সবকিছুতেই একটা নিজস্বতা আছে। এখানকার ইতিহাস-ঐতিহ্য সবকিছুই ১৯৭১-পরবর্তীকালে স্বাধীন দেশের রাজধানী হয়ে আশ্চর্য দ্রুত বদলে গেছে। বর্তমানে ঢাকার পুরনো নাগরিক ও নতুন নাগরিকদের এক ধরনের সাংস্কৃতিক পার্থক্য হয়। নতুন ঢাকার সংস্কৃতির চাপে পুরান ঢাকার সংস্কৃতি আজ কালের গর্ভে হারিয়ে যাওয়ার মতো। কিন্তু নিজের শিকড় ছেড়ে বড় হয়ে কত দূর যাওয়া যায়? তাই পুরান ঢাকার সংস্কৃতিকে বাঁচানো আজ সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।

কালের সাক্ষী হিসেবে পাঠশালা থেকে স্কুল, স্কুল থেকে কলেজ এবং কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়ে প্রতিষ্ঠানটি পুরান ঢাকাকে সেই হারানো ঐতিহ্য, যশ, খ্যাতি এবং সাংস্কৃতিক বলয় ফিরে আনার হাল ধরেছে এবং এগুলো আরও শক্তিশালী করতে চাইছে জগন্নাথ প্রতিষ্ঠানটি।

পহেলা বৈশাখ, স্বরসতী পূজা, সাকলাইন উৎসবসহ স্থানীয় এবং জাতীয় পর্যায়ের নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পুরান ঢাকাকে জাগিয়ে তুলে ফের শিকড়ে ফেরার বাসনায় মগ্ন বিশ্ববিদ্যালয়টি। এ যেন এক ঐতিহ্যের হাত ধরে আরেক ঐতিহ্যকে ঘরে ফিরানোর তীব্র তাড়না।

ঢাকা কেন্দ্রীয় জেলের পরিত্ত্যক্ত জমি রক্ষণা-বেক্ষণের দায়িত্ব জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে দেয়া হোক যাতে পুরানঢাকাবাসীর সাথে এ প্রতিষ্ঠানটির সম্পর্ক আরো ঘনিভূত হয় । আর শক্তিশালী হয় পুরান ঢাকার সংস্কৃতি বলয়। শিক্ষার্থীদের দাবীগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন হোক এটাই আমাদের প্রত্যাশা। পুরান ঢাকাবাসীর আত্মার কেন্দ্র হয়েই থাকুক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।
লেখক: সাংবাদিক, সাবেক শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

 

ঢাকা,  ০৬ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এফআর