[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



রাবি শিক্ষকের আত্মহত‌্যা: চিরকুট ঘিরে রহস্যের জট


প্রকাশিত: September 9, 2016 , 10:53 pm | বিভাগ: আপডেট,পাবলিক ইউনিভার্সিটি,রাজশাহীর ক্যাম্পাস


Akter-Jahan
রাবি লাইভ: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষককের আত্মহত্যা নিয়ে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে। আত্মহত্যার আগে তিনি যে চিরকুট লিখেছিলেন এ নিয়ে তদন্তে নেমেছেন পুলিশ ও গোয়েন্দারা। তারা খতিয়ে দেখছেন চিরকুটের ওই লেখা। তারা বলছেন, চিরকুটের  সন্দেহের যথেষ্ট কারণ রয়েছে। এতে তিনি তাঁর সন্তানের বিষয়ে যে মন্তব্য করেছেন, সেই মন্তব্যকে ঘিরেই সন্দেহের দানা ক্রমেই বাধছে।

এতে লেখা আছে ‘ সোয়াদকে যেন ওর বাবা  কোনোভাবেই নিজের হেফাজতে নিতে না পারে,যে বাবা সন্তানের গলায় ছুরি ধরতে পারে, সে যে কোন সময় সন্তানকে মেরেও ফেলতে পারে বা মরতে বাধ্য করতে পারে ‘।

 

পুলিশ জানায়, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর আকতার জাহান জলির ওই চিরকুটের সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করা হবে।

মূলত রাবি শিক্ষকদের আবাসিক ভবন থেকে জলির লাশ উদ্ধারের পর সেখানে ‘আত্মহত‌্যার’ একটি চিরকুট পাওয়ার পর এমন ধ্রবজালের সৃষ্টি হয়েছে।

ওই চিরকুটে লেখা হয়েছে, “আমার মৃত‌্যুর জন‌্য কেউ দায়ী নয়। শারীরিক, মানসিক চাপের কারণে আত্মহত‌্যা করলাম।”

তবে ছেলেকে যাতে তার বাবার হেফাজতে দেয়া না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে ওই চিরকুটে।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর কাজী মামুন হায়দার বলেন, “পুলিশের সঙ্গে আমরা তার রুমে গিয়ে সুইসাইড নোটটা পেয়েছি। চিঠিতে সই না থাকলেও এটা তার হাতের লেখা বলেই মনে হয়েছে।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী মহানগর পুলিশের কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, “ঘর তল্লাশি করে যে সুইসাইড নোট আমরা পেয়েছি, সেটা উনার ডায়েরির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়েছে। হাতের লেখা একই মনে হয়েছে।”

RU

শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে শিক্ষকদের আবাসিক ভবন জুবেরীর ৩০৩ নম্বর কক্ষের দরজা ভেঙে আকতার জাহানের লাশ উদ্ধার করা হয়।

তার সহকর্মী অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস জানান, আকতার জাহানকে তার ঘরে মশারির ভেতরে শোয়া অবস্থায় পাওয়া যায়। তার মুখে ফেনা ও রক্ত বেরিয়ে আসার মতো কালো দাগ ছিল।

হাসপাতালে আনার অনেক আগেই আকতার জাহানের মৃত‌্যু হয়েছে জানিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মাহিনুল ইসলাম বলেন, ময়নাতদন্ত না করে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।

দীর্ঘদিন সংসার করার পর ২০১২ সালে একই বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর তানভীর আহমেদের সঙ্গে আকতার জাহানের ছাড়াছাড়ি হয়। তাদের একমাত্র ছেলে চলতি বছরের শুরু থেকে ঢাকায় নানাবাড়িতে থেকে একই ইংরেজি মাধ‌্যমের স্কুলে পড়ছে।

আকতার জাহানের ঘরে পাওয়া চিরকুটে লেখা রয়েছে, “সোয়াদকে যেন ওর বাবা কোনোভাবেই নিজের হেফাজতে নিতে না পারে। যে বাবা সন্তানের গলায় ছুরি ধরতে পারে, সে যে কোনো সময় সন্তানকে মেরেও ফেলতে পারে বা মরতে বাধ‌্য করতে পারে।”

মৃতদেহ ঢাকায় না পাঠিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দিতেও অনুরোধ করা হয়েছে ওই চিরকুটে।

চিরকুটের বিষয়ে তানভীর আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “সোয়াদ তো অনেকদিন আমার কাছেই ছিল। কিছুদিন আগে সে নানুর বাড়িতে বেড়াতে যায়। ওর মা চাচ্ছিল ঢাকাতেই ও লেখাপড়া করুক। একজন মানুষ মরে যাওয়ার আগে কেন এরকম নোট লিখে গেল তা আমার বোধগম‌্য নয়।”

 

ঢাকা // ৯ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// এফআর