[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



‘প্রটোকল আমার ঈদ’


প্রকাশিত: September 12, 2016 , 4:51 am | বিভাগ: ইন্টারভিউ


igprijon

লাইভ প্রতিবেদক: ‘ঈদের চাঁদ দেখার সময় আর নেই। সেই সুযোগ ও সময় দুটোই হারিয়ে ফেলেছি। হাজারবার মনে হলেও দায়িত্বের কারণে আর ইচ্ছে করেনা। এভাবেই মনকে বুঝাবার চেষ্টা করছি। ‘ছোটবেলার ঈদ ছিলো খুব আনন্দের। বড় হওয়ার পরও বছরের দুই ঈদের একটিতে গ্রামে যাওয়া হতো। আত্মীয়-স্বজনদের এক সঙ্গে হওয়াই ছিলো এর উদ্দেশ্য। কিন্তু এখন সেটা সম্ভব হয়ে ওঠে না’।
এভাবেই এসব কথাগুলো ক্যাম্পাসলাইভকে বলেছেন কারা অধিদফতরের আইজি-প্রিজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন।

পবিত্র ঈদুল আজহার আগে এসব মন্তব্য করেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমাজে যারা প্রতিষ্ঠিত তাদের শৈশব, কৈশোর ও বাল্যকালের কোরবানী ও রোজার ঈদের স্মৃতি জানার চেষ্টা করেছে ক্যম্পাসলাইভ।

এরই ধারাবাহিকতায় আইজি-প্রিজনের সাক্ষাতকার নেওয়া হয়।
সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, ‘বর্তমানে আমার ঈদ হয়ে গেছে প্রটোকলের। ঈদের দিনও পরিবারকে খুব বেশি সময় দেওয়া হয় না। ঈদের সারাদিন প্রটোকল দিয়েই কাটে। আমি ছোটবেলার ঈদের আনন্দটুকু বেশি মিস করি, এখনও’।

‘ছোটবেলায় ঈদের চাঁদ দেখার জন্য আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতাম। দেখতে পেলেই জোরে চিৎকার! সেই কথাগুলো খুব মনে পড়ে’।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন ক্যাম্পাসলাইভকে জানান ‘মনে আছে, আমাদের বাসার পাশে একটি ফুটবল খেলার মাঠ ছিলো। সন্ধ্যায় ইফতারে শুধু পানি খেয়েই ছুটে যেতাম সেই মাঠে। ছোট-বড় সমবয়সী সবাই মিলে চাঁদ দেখার জন্য আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতাম। ভাবতাম, চাঁদটা আমিই যেনো আগে দেখতে পাই’।

‘যদি কেউ চাঁদ দেখতে পেতো, সে জোরে চিৎকার করে উঠতো। চাঁদ দেখা না গেলেই বাসায় চলে আসতাম। আমাদের বাসায় টেলিভিশন-রেডিও না থাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে চাঁদ দেখার খবরটা সঙ্গে সঙ্গে পেতাম না’।

‘পাশের গ্রাম থেকে এসে আমাদের গ্রামে খবর দিয়ে যেতো যে, চাঁদ দেখা গেছে, কাল ঈদ’।

তিনি বলেন, ‘বছরে যখন-তখন কাপড় কেনা হতো না আমাদের। দুই ঈদেই কাপড় কেনা হতো। আর ঈদের নতুন কাপড়ের কদর ছিলো অনেক বেশি’।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার ক্যাম্পাসলাইভকে জানান ‘আমরা ছয় বোন এক ভাই ছিলাম, তাই বাবা সবাইকে একসঙ্গে ঈদে কাপড় দিতে পারতেন না। এক ঈদে শার্ট কিনে দিলে পরের ঈদে প্যান্ট কিনে দিতেন। একসঙ্গে সব কিনে দেওয়ার ক্ষমতাও আমার বাবার ছিলো না’।

‘সেগুলো টেইলার্সে বানানোর পর বাসায় নিয়ে এসে লুকিয়ে রাখতাম, কেউ যেনো দেখে না ফেলে। ঈদের দিন সকাল বেলা পড়ার পর সবাই দেখতো। এটা খুব আনন্দের ছিলো’।

কোরবানীর আনন্দ অন্যরকম। আমরা কোরবানী করে মাংশ বিলাতে বিভিন্ন বাড়িতে যেতাম। অন্যরা আমাদের বাড়িতে নিয়ে আসতো। সে আরেক রকম মজা হতো। আজ সবই যেন স্মৃতি।

কোরবানী ও রোজা সম্পর্কে  ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, ‘যতোদূর মনে আছে, আমি যখন ৪র্থ শ্রেণিতে পড়ি, তখন ৬ থেকে ৭টি রোজা রেখেছিলাম। এর পরের বছর ১০ থেকে ১১টি, এভাবে যে বছর ৩০টি রোজাই রাখা হয়েছে, তখন থেকে আজ পর্যন্ত কোনোদিন রোজা ভাঙা হয়নি’।

‘মা-বাবা আমাদের সবাইকে খুব বেশি আদর করতেন, আবার শাসনও। আমার বাবা টি-গার্ডেনে চাকরি করতেন। সবচেয়ে বেশি ভয় পেতাম বাবাকে। রোজা রাখার বিষয় আমার মা কোনোদিন বাধা দেননি। তবে ছোট থাকার কারণে বাবা বাধা দিতেন’।

‘তবে বড় হওয়ার পর বাবা আর রোজা রাখা নিয়ে কোনো বাধা দেননি- স্মৃতিচারণে বলেন আইজি প্রিজন।

‘ছোটবেলায় সমবয়সীদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রোজা রাখা হতো। তখন নিজেদের মধ্যে হিসেব হতো, কে কয়টা রোজা রেখেছি’।

সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন আরও বলেন, ‘আমার মনে হয় যে, রমজানের একটা আলাদা প্রাণ আছে। এখন সেটা আর পাই না। আমার বাবা কই মাছ খুব পছন্দ করতেন। রমজানে প্রতিদিন সেহেরির সময় কই মাছ ভাজা আর দুধ-কলা থাকতো। রোজার মাসে সবাই কম খান, তবে পছন্দের খাবারগুলোই কিন্তু খান’।

‘মাকে এবং বোনদের বলতাম, সেহেরির সময় যেন আমাকে ডেকে দেন। যেদিন আমাকে সেহেরির সময় ডাকা হতো না, সেদিন না খেয়েই রোজা রাখতাম। দিনের বেলায় মা পেছন পেছন খাবার নিয়ে দৌড়াতেন, কিন্তু আমি খেতে চাইতাম না’। তিনি বলেন, কোরবানীর মাংশ দিয়ে ঈদের দিনের খাওয়া শুরু হতো। সেই স্বাদ, সেই অনুভূতি আর নেই।

 

ঢাকা, ১২ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এএম