[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



নিরাপত্তার চাদর


প্রকাশিত: September 13, 2016 , 3:22 am | বিভাগ: আপডেট,ইভেন্ট,ন্যাশনাল


 

Eidul azha Security

লাইভ প্রতিবেদক: নিরাপত্তার চাদর। বিশেষ করে এই চাদর ব্যবহার হবে বিশেষ বিশেষ জায়গায় ঈদের জামাতে। এক্ষেত্রে জাতীয় ঈদগাহ ময়দান ও বায়তুল মোকাররাম জাতীয় মসজিদ ও সংসদ ভবনের প্রতি বিশেষ নজর দেয়া হচ্ছে। এবারের ঈদে বিশেষ সতর্ক অবস্থানে থাকছে গোয়েন্দা, র‌্যাব ওপুলিশের বিশেষ দল। তারা নানান আধুনিক বিভিন্ন অস্ত্র ও গোয়েন্দা সরঞ্জাম করছে।

রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ, সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও বায়তুল মোকাররম মসজিদসহ বিভিন্ন ঈদগাহ ময়দান ও মসজিদ ঘিরে নিরাপত্তা বলয়ে আনা হয়েছে ব্যাপক পরিবর্তন।

সংশ্লিস্টরা জানান, গুলশান ও শোলাকিয়ার ঘটনা ছাড়াও নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়া, রাজধানীর কল্যাণপুর, রূপনগর ও আজিমপুরে বিশেষ অভিযানের পর এবারের ঈদে বিশেষ এই সতর্কতা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা। পুলিশ ও র‍্যাবের পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরাও।
জাতীয় ঈদগাহ পরিদর্শনে গিয়ে র‍্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ বলেছেন, গত জুলাইয়ে গুলশানের হলি আর্টিজান ও ঈদুল ফিতরের দিন শোলাকিয়ায় ঈদ জামায়াতের পাশে জঙ্গি হামলার বিষয়টি মাথায় রেখেই এবার দেশজুড়ে বিশেষ সতর্কবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সাজানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

তিনি বলেন, গুলশান ও শোলাকিয়া হামলাসহ সাম্প্রতিক ঘটনাবলী ও গোয়েন্দাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এবারের ঈদে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হয়েছে।
পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির সূত্রগুলো জানায়, ঈদের বিশেষ নিরাপত্তায় তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। যেকোনো ধরনের নাশকতা ও সন্ত্রাসী হামলা মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। রাজধানীসহ দেশের বড় বড় শহরগুলো ছাড়াও জেলা শহর ও সড়ক-মহাসড়কগুলোতে তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহন সবকিছুই তল্লাশি করা হবে।

রাজধানীতে বায়তুল মোকাররম মসজিদ ও জাতীয় ঈদগাহের নিরাপত্তায় পুলিশ ও র‍্যাবের কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা দিয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হচ্ছে গোটা এলাকা।

কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় এবার নতুন করে ওই ঈদগাহের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হয়েছে। ঈদুল আজহার জামাতকে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে র‍্যাব-পুলিশের পাশাপাশি তিন প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

বিজিবির সদর দফতরের ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) কর্নেল জিল্লুল হক ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, ঈদের জামাতকে ঘিরে নেয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কেবল শোলাকিয়াতেই তিন প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া সিভিল প্রশাসনকে সহযোগিতায় সারা দেশেই বিজিবি সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

রাজধানী জুড়ে চাদর: ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পশু কেনা-বেচা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে মাঠে থাকছে পুলিশ, র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

অন্যদিকে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। চাঁদাবাজ, ছিনতাইকারী, অজ্ঞানপার্টি এবং টিকেট কালোবাজারীদের গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

জানা যায়, নাশকতা এবং যে কোন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে জাতীয় ঈদগাঁহ, বায়তুল মোকাররম ও রাজধানীর অন্যান্য ঈদগাঁহে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হবে। সড়ক, শপিংমল এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পুলিশ, র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ নজরদারি থাকবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের বলেন, ঢাকা শহরের প্রতি মহল্লায় ঈদের জামাত হয়ে থাকে, সেখানে আমাদের ভলান্টিয়াররা থাকবেন। গোয়েন্দারা আমাদের যে তথ্য দিচ্ছে বা দিবে তার ওপর ভিত্তি করে প্রত্যেকটি ঈদগাঁহেই আমরা পূর্ব সতর্কতা ব্যবস্থা নেব। যেমনটা আমরা শোলাকিয়ায় করেছিলাম। যেখানে আমাদের প্রয়োজন হবে সেখানে আর্চওয়ে ও অন্যান্য চেকিংয়ের ব্যবস্থা আমরা করব।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ১৫টি ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করা হবে। ঢাকা শহরে কোরবানির পশুর হাট বসবে ২৩টি। এসব হাটের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। হাটের কারণে যেন জানজট সৃষ্টি না হয় সেদিকেও নজর রাখা হবে। ঈদের ছুটিতে রাজধানীর নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পর্যাপ্ত সংখ্যাক সদস্য মোতায়েন থাকবেন।

এদিকে র‍্যাবের পক্ষ থেকে এক বিশেষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা শহরের বড় বড় কোরবানির পশুর হাটে অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনের মাধ্যমে নিরাপত্তা কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়া ঈদ পরবর্তী যাতে পশুর চামড়া চোরাচালানের মাধ্যমে বিক্রি না হয় সেদিকে র‌্যাবের বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।

রাজধানীতে প্রবেশ এবং বাহির হবার রাস্তাসমূহসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মাঝে মাঝে মোবাইল চেকপয়েন্ট স্থাপন করে তল্লাশি পরিচালনাসহ ভেজাল খাদ্যদ্রব্য প্রতিরোধকল্পে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং স্থানভেদে মোটরসাইকেল টহল বা পায়ে চলা টহল দল নিয়োগ করা হবে।

যে কোন অনাকাঙ্খিত ঘটনা রোধকল্পে র‌্যাবের প্রতিটি ব্যাটালিয়নে বিশেষ ষ্ট্রাইকিং রির্জাভ ফোর্স ষ্ট্যান্ডবাই থাকবে। র‌্যাবের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও র‌্যাব ডগ স্কোয়াড সার্বক্ষণিকভাবে বিভিন্ন বাস, ট্রেন, লঞ্চ স্টেশন ও বিভিন্ন স্থানে আকস্মিক স্যুইপিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে র‌্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, আমাদের লক্ষ্য সার্বিকভাবে একটা নিরাপত্তার চাদর ছুড়ে দেওয়া, যাতে করে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছাড়া এ দেশের সাধারণ মানুষ ঈদুল আজহা উদযাপন করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, জেএমবি, এবিটি ও হিযবুত তাহরীর এদের ওপর আমাদের নজরদারি আছে। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি), আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (এবিটি) ও হিযবুত তাহরীরকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

 

 

ঢাকা, ১৩ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এএম