[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



‘রিডিং টেবিল আমার ঈদ’


প্রকাশিত: September 13, 2016 , 10:46 pm | বিভাগ: আপডেট,এক্সক্লুসিভ,ঢাকার ক্যাম্পাস,স্টাডি


reading room
শান্তনা চৌধুরী: কষ্ট লাগছে। কি করবো। ভাল কিছু পেতে হলে কষ্ট করতেই হবে। কষ্ট ছাড়া কেষ্ট মিলেনা। চাকুরী পাইনি। তবুও তাদের মতই লাগছে। মা-বাবাকে ছেড়ে ঈদ। বুঝতেই পারছেন। এবার এটা প্রথম ঈদ। মা ফোন করে কাঁদছিল, আমারও…। রাত দিনের কষ্ট মনে হয় না। যদি চান্স পাই তাতেই চলবে। এক কথা বললেন আবদুল্লাহ। তিনি জামালপুর থেকে এসেছেন।

বাংলাদেশ কৃষিবিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএজি পাশ করেছেন। বিসিএস দিতেই তার ঢাকায় আসা। উঠেছেন বনানীতে। এক বন্ধুর মেসে। তিনি জানালেন মাঝে মাঝে পুলিশী ঝামেলার কথা মনে হয়। তিনি ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, তাতে কি, আমি তো কোন অন্যায় করিনি।

ফজলুল হক হলের সামনে বিকেলে কথা হয় শেহজান মাহতাবের সঙ্গে। তিনি ফার্মেসি থেকে মাস্টার্স করেছেন। ওই হলেরই আবাসিক ছাত্র। আলাপচারিতায় জানান, বিসিএস আমার স্বপ্ন। যত কষ্টই হোক আমি করবো। ক্যাম্পাসলাইভকে তিনি জানান, আমি সব কিছু ভুলে কেবল চোখে দেখছি বিসিএস পরীক্ষা। খুব সাহস করেই বললেন, চান্স আমাকে পেতেই হবে। পড়া শুনা আর বিসিএসই আমার ঈদ। কিছু চাইনা। চন্স পেলে সবই পাব। আম্মু ও আব্বুকে বলেছি। তারাও উৎসাহ দিচ্ছেন।

‘পড়াশোনা শেষ হলেও চাকরি হয়নি। পরিবার বা আত্মীয়স্বজন আগে যে চোখে দেখত, এখন আর সেভাবে দেখে না। শপথ নিয়েছি চাকরি না হওয়ার আগে বাড়ি যাব না। আমার কাছে এখন মাঝারি মানের একটা চাকরিই ঈদ।’ কথাগুলো বলছিলেন মো. মনিরুজ্জামান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগ থেকে মাস্টার্স করেছেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এফ রহমান হলের সামনে কথা হচ্ছিল তমালের সঙ্গে। তখন তাঁর ছলছলে দুটি চোখে বাড়ি যেতে না পারার কষ্ট বোঝা যায়। তিনি বললেন, ‘৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা। সময় যেন নষ্ট না হয়, এ জন্য বাড়ি যাইনি।’ মনে তো কষ্ট থাকাটা স্বাভাবিক।

তমালের সঙ্গে কথা বলার সময় হলের সামনে এলেন অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী আসলাম। তিনি বলেন, ‘বাড়িতে গেলে খুব ভালো লাগত। তবে সময়ও নষ্ট হতো। ৩০ তারিখ বিসিএস পরীক্ষা। বাড়ি যাব কীভাবে? সারা দিন রিডিংরুমে কাটাচ্ছি। এখন এটাই আমার ঈদ।’

একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শরীফ উদ্দিনও ঈদে বাড়ি যাবেন না। তিনি বলেন, ‘বাড়িতে আছে শুধু মা আর ছোট বোন। বাড়ি যেতে খুব ইচ্ছে করছিল। তিন বছর আগে মাস্টার্স পাস করলেও চাকরিই হলো না। কোন মুখে বাড়ি যাব। সামনে বিসিএস পরীক্ষা। আর সময় নষ্ট করতে চাই না।’

 

ইংরেজির ছাত্র আবিদ হানিফ। তিনিও বাড়ি যাননি। ক্যাম্পাসলাইভকে বললেন, মায়ের আদর থেকে এবারই পথম বাইরে। খুবই মিস করছি। কিন্তু বলুন কি করব। ভাল কিছু পেতে হলে ত্যাগ করতেই হবে। তিনি জহুরুল হক হলের আবাসিক ছাত্র।।

bcs student,du

শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষার্থী আশরাফ জুয়েলও বিসিএসের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য ঢাকা রয়েছেন। তবে আজ ঈদের দিন তিনি বন্ধুদের সঙ্গে বের হয়ে পুরান ঢাকায় যাবেন। তিনি বলেন, ‘বিসিএসের প্রস্তুতির জন্য ঢাকায় আছি। রাজধানীতে কখনো ঈদ করা হয়নি। কালকে পুরান ঢাকায় বন্ধুদের সঙ্গে গিয়ে দেখব তারা কীভাবে ঈদ উদ্‌যাপন করে।’
শুধু বিসিএসের কারণে নয়, আরও অন্য কারণেও ঢাকায় আছেন এমন দুজনের শিক্ষার্থীর দেখা মিলল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মালতী গায়েন। তিনি বলেন, ‘ছুটি থাকলেও ঈদের সময় অনেক যানজট থাকে। আগামী ৭ অক্টোবর পূজার ছুটি হবে। ওই সময় যাব।’ শামসুন্নাহার হলের আরেকজন আবাসিক শিক্ষার্থী সঞ্চিতা বিশ্বাসও পূজার ছুটিতে বাড়ি যাবেন বলে জানালেন।

 

যেসব শিক্ষার্থী ঈদের সময় আবাসিক হলগুলোতে থাকেন, কয়েক বছর ধরে তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে উন্নত মানের খাবার পরিবেশন করা হয়। খাবার পরিবেশন কমিটির সদস্যসচিব করা হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের পরিচালক মহিউজ্জামান চৌধুরীকে। তিনি বলেন, ৩০ সেপ্টেম্বর বিসিএস পরীক্ষায় থাকায় গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর প্রায় দুই হাজারের ওপরে শিক্ষার্থী আছেন হলগুলোতে।

তাঁদের সবার জন্যই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ খাবার পরিবেশন করবে। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের জন্য এবারের মেনু গরু অথবা খাসির রেজালা, পোলাও ও ভাত, ড্রিংকস এবং সালাদ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের প্রায় সব হলেই আত্মীয় বা দূর সম্পর্কের অনেক ছাত্রের কাছে ভর্তি পরীক্ষার্থীরা রয়েছেন। এঁদের অনেকেই ঈদে বাড়ি যাননি।
সূর্যসেন হলে দূর সম্পর্কের এক ভাইয়ের কাছে উঠেছেন রংপুরের সাহেব আলী। তিনি এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন। বাড়ি না যাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘ঢাকা থেকে রংপুর অনেক দূর। আসা-যাওয়ায় সময় চলে যাবে। কিছুদিন পরেই ভর্তি পরীক্ষা। আমার সময় নেই ভাই।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ এম আমজাদ আলী ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, আমি জেনেছি অন্য বছরগুলোর তুলনায় এবার অনেক শিক্ষার্থী হলে অবস্থান করছেন। এর মূল কারণ বিসিএস পরীক্ষা এবং রাস্তায় যানজট। এ ছাড়া অনেক ভর্তি পরীক্ষার্থীরাও বিভিন্ন হলে অবস্থান করছেন এটাও জানতে পারলাম। ফলে গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের থাকার হার বেশি।

তিনি আরও বলে এতে কোন সমস্যা হবেনা। আমি ও হল প্রশাসন সব সময় খোঁজ খবর রাখছেন। তাদের কোন সমস্যা হলে অবশ্যই আমরা ব্যবস্থা নিব।

 

ঢাকা, ১৩ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এএম