[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর ভুল বনাম প্রেমিকার পুরুষত্ব!


প্রকাশিত: September 17, 2016 , 12:49 am | বিভাগ: আপডেট,ফিচার,রাইম, স্টোরি এন্ড জোকস


uni-students

বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষে উঠার পর আনিলা জানতে পারলো সে প্রেগন্যান্ট। বয়ফ্রেন্ডকে সব কথা খুলে বলল। ছেলেটা সব অস্বীকার করলো। এক মাত্র রাস্তা এবোরশন। এছাড়া অন্য কোন উপায় নেই। কিন্তু ভ্রূণটাকে মেরে ফেলতেও ইচ্ছে করছে না। এতো পাপ !! বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া আনিলার জীবনে শুরু হয়ে গেলো নতুন ঝড়। কাউকে বলার উপায় নেই। জানাজানি হয়ে গেলে সর্বনাশ হয়ে যাবে।

আবার এবোরশন করাতেও মনটা সায় দিচ্ছে না। প্রেমিককে বোঝানোর চেষ্টা করলো। লাভ হলো না। এইবার ছেলেটা সরাসরি মুখের উপর অস্বীকার করলো সবকিছু। ফ্যামিলিকে জানানোর উপায় নেই। বাইরের মানুষকে বলার উপায় নেই। সবকিছু প্রতিকূলে থাকার পরেও আনিলা সিদ্ধান্ত নিল সে বাচ্চাটার জন্ম দেবে। জীবনের প্রতিটা মুহূর্ত তার সাথে ব্যঙ্গ করতে লাগলো। চার মাস পর ক্লাস করা বন্ধ করে দিল। এই মুহূর্তে ক্লাসে গেলেই বুঝে ফেলবে সবাই। হলে থাকা নিরাপদ না। ফ্যামিলি তাকে আশ্রয় দেবে না। বাইরে বাসা ভাড়া নেয়ার সিদ্ধান্ত নিল। আর প্রেমিক সাহেব কি করছেন ?

তিনি এখন আনিলাকে এড়িয়ে চলে। ফোন বন্ধ। ফেসবুকে ব্লক। যোগাযোগের উপায় নাই। একটা মেয়ের উপর তার পুরুষত্বহীনতার দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়ে নিজে “”পুরুষ “” হয়ে বসে আছেন।

একটা মেয়েকে কেউ ব্যাচেলর হিসেবে বাসা ভাড়া দিতে চায় না। যারা দিতে চায় তারাই “”অবৈধ “” সুবিধা চেয়ে বসে। বাড়ীওয়ালা চায় ফ্যামিলি। আনিলার কোন ফামিলি নেই। ঠিক এই সময় এগিয়ে এলো তারই এক ক্লাস মেট। মেয়ে বন্ধু নয়। ছেলে বন্ধু। এই ছেলেটা আনিলার প্রতি দুর্বল ছিল। কিন্তু মেয়েটা তাকে পাত্তা দেয়নি। অথচ বিধির কি খেলা !! আজকে না চাইলেও পাত্তা দিতে হলো। ছেলেটাই ছোট্ট শহরে তাকে একটা বাসা ভাড়া করে দিল। স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বাসা ভাড়া নিল। একসাথে থাকে না। ছেলেটা এক দিন পর পর এসে খোঁজ খবর নিয়ে যায়। তবে মাঝে মাঝে এক সাথে থাকতে হয়। না হলে বাড়িওয়ালা সন্দেহ করবে। ছেলেটা আলাদা একটা রুমে থাকে।

এক বছর ড্রপ দিয়ে আনিলা বাচ্চাটার জন্ম দিলো। একটা মেয়ে। ঠিক তার মতোই রাজকন্যা। কিন্তু এই রাজকন্যাটি জানে না ঠিক কতটুকু যন্ত্রনা নিয়ে সে পৃথিবীতে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ ঘটনাটা জানতেও পারলো না। জানে শুধু তার ওই ছেলে বন্ধুটি। আর কেউ না। সাত দিনের বাচ্চাকে বাসায় রেখে আবার অনিয়মিত ক্লাসে যোগ দিল আনিলা। ছেলেটা হয়ে গেলো এই বাচ্চাটার “”অঘোষিত “” বাবা। আর মা হলো আনিলা। বাচ্চা পালন করতে হয়। আবার ক্লাসও করতে হয়। সঙ্গী হয়ে গেলো ছেলেটা। সেও বাবার, মতো দায়িত্ব পালন করতে লাগল। পৃথিবীতে এমন কিছু মানুষ আছে যারা বিনা স্বার্থেই মানুষের বিপদে এসে দাঁড়ায়। কোন বিনিময় চায় না। এই ছেলেটাও ঠিক সেরকম।

দুজন ভিন্ন মানুষ এক ছাদের তলায় থাকলেও সেখানে সব সময় কাম থাকবে, কথাটি সঠিক নয়। বিধাতার খেলায় সব সময় একটা রহস্য থাকে।
ছেলেটা ভালো ছাত্র। আনিলাও মোটামুটি রেজাল্ট করলো। তবে খুব একটা ভালো হয় নাই। মাতৃত্বের দায়িত্ব পালন করে আর কতটুকু এগোনো যায়, যেখানে কিনা সমাজ আর সংসার সবসময় মেয়েটাকে তীরের মাথায় করে রেখেছে ? যেখানে একটু পা ফসকালেই জুটতে পারে অপবাদ।

মাস্টার্স শেষ হলো। এখন রাজকন্যার বয়স ৩ বছর। রাজকন্যা জানে না যাকে সে বাবা বলে জানে সে তার বাবা নয়। পৃথিবীর কেউ জানে না রাজকন্যার আগমনের গল্পটা। রাজকন্যা তার মাকে চেনে। তার পালক বাবাকে চেনে। কিন্তু দুনিয়ার নিষ্ঠুরতা চেনে না ।

নিয়তি খুব নিষ্ঠুর !! এইবার তার নিষ্ঠুরতা দেখিয়েই ছাড়ল। একটা সড়ক দুর্ঘটনায় ছেলেটা মারা গেলো। আনিলা যখন ভাবছিল এই ভালো মানুষটাকে বিয়ে করে বাকি জীবনটা কাটিয়ে দেবে ঠিক তখনই দাবার চাল উল্টে গেলো। আসলে যাকেই সে ভালোবাসে সেই তার জীবন থেকে নিষ্ঠুরভাবে চলে যায়। রাজকন্যা কাঁদছে। ছোট্ট মেয়েটা জানে না যে বাবা না হয়েও এই মানুষটা তাকে বাবার আদরটাই দিয়েছে। মায়ের কথা বলতে পারবে না। কিন্তু এই বাবার কথাটা সে জানে। ভালো করেই জানে। মা যখন পরীক্ষা দিতে ক্লাসে যেতো তখন বাবাই তাকে আগলে রাখতো।

মাস্টার্স পাস করা আনিলার বিয়ের প্রস্তাব আসতে থাকে। তাকে বিয়ে করতে হবে। মেয়ে আর কতো দিন একা একা থাকবে ? আনিলা রাজি হয় না। রাজকন্যাকে ছেড়ে সে যাবে না। অথচ এই সমাজও তাকে ছাড়বে না।

একদিন সন্ধ্যায় ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়ল বাসা থেকে। এক হাতে লাগেজ, অন্য হাতে মেয়ে। যে সমাজ তার অপরাধে তার মেয়েকেও দোষী করবে সেখানে থাকার কোন মানেই হয় না। নিয়তি নিষ্ঠুর নয়। সমাজের মানুষগুলা খুব নিষ্ঠুর, তারাই অন্যের নিয়তি লেখে।

সোডিয়াম লাইটের আলোয় স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে দৃশ্যটা। একটা মেয়ে লাগেজ হাতে বাচ্চা কোলে নিয়ে চলে যাচ্ছে। সেই চলে যাওয়া বড়ই বিষাদময়। হয়তো নতুন কোন গল্পের জন্যই ওরা চলে যাচ্ছে। নিয়তি হয়তো তাদেরকে তাড়িয়ে নিচ্ছে !! কে জানে হয়তো এটার মাঝেই ঈশ্বর তার মঙ্গল নিহিত রেখেছেন।

Arafat Abdullah
University Of Chittagong

কার্টেসি : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদ

ঢাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//জেএন