[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



শারদা বিশ্ববিদ্যালয়ে শোকদিবস পালন, বহিস্কার চার শিক্ষার্থী


প্রকাশিত: September 18, 2016 , 7:54 pm | বিভাগ: ফরেন ক্যাম্পাস


sarda (1)

লাইভ প্রতিবেদক: শারদা  বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েসনের উদ্যোগে জাতীয় শোকদিবস উপলক্ষ্যে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। দিল্লীতে শোকদিবসের সেমিনারের পরপরই বহিষ্কৃত হলেন সেমিনারের মূলউদ্যক্তা বাংলাদেশী চার শিক্ষ্যার্থী। দেশের বাইরে প্রথমবারের মত বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বাংলাদেশের শোকদিবস পালিত হয় ভারতের দিল্লিতে অবস্থিত শারদা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বছরের গত ২সেপ্টেম্বর।

সেমিনারে দু-শতাধিক বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের সাথে উপস্থিত ছিলেন উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ডঃ ভিজয় কুমার গুপ্তা, দিল্লীর বাংলাদেশ মিশনের হেড অফ চ্যান্সেরি এ.এফ.এম জাহিদুল ইসলাম এবং বিভিন্ন অনুষদ প্রধানরা।

সেমিনারকে সামনে রেখে বঙ্গবন্ধুর জীবনের উপর একটি আন্তর্জাতিকমানের তথ্যচিত্র নির্মান করা হয়। শোকদিবসের সেমিনারের পরপরই বহিষ্কৃত হলেন সেমিনারের মূলউদ্যক্তা বাংলাদেশী চার শিক্ষ্যার্থী যথাক্রমে সংগঠনের সভাপতি,সহসভাপতি,সাধারন সম্পাদক ও প্রথমবর্ষ সমনয়ককে।

এ ব্যাপারে প্রথম বর্ষের বাংলাদেশি শিক্ষার্থী সাকিব আহমেদ জানান, প্রথম থেকেই কতিপয় শিক্ষার্থী মওদুদির মতবাদ প্রচার করতে থাকে এবং রামপাল নিয়ে আন্দোলন করতে উদ্বুদ্ধ করেন তখন এ ব্যাপারে বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েসনের নেতৃবৃন্দকে জানালে তাদের দৃঢ় পদক্ষেপে তারা গোপনে হুমকি-ধামকি অব্যাহত রাখলেও প্রকােশ্য দেশবিরোধী কর্মকান্ড করতে পারেনি।

এ ব্যাপারে বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী সংগঠনের সহসভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতি কৌশিক কুমার দে বলেন, শিবিরের রাজনীতির পৃষ্ঠপোষক চবি শিক্ষক প্রফেসর মারুফের ছেলে মাসুম হোসেন রূশোর তীব্র বিরোধিতায় আমরা গত কয়েক বছর দেশের কোন অনুষ্ঠান করতে পারিনি সে বরাবরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ভুল বুঝিয়ে আমাদের অনুষ্ঠান করতে দেইনি।

সে ভারতে জামাতের এজেন্ট হিসেবে লবিং এর চেষ্টা করেছে আমরা বরাবরই আদর্শিক ভাবে এগুলাকে প্রতিহত করেছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভুল বুঝতে পেরেছে এবং দু-দিনের মাথাই বহিস্কার আদেশ প্রত্যাহার করেছে।

এ ব্যাপারে বহিষ্কৃত শিক্ষ্যার্থী বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েসনের সভাপতি সৌরভ দাশ বলেন, শিবিরনেতা মাসুম হোসেনের নেতৃতে গুটিকয়েক ছেলে-মেয়ে যাদের নেতৃতে আছে ছাত্রী সংস্থার একনেত্রী এবং ছাত্রদলের মতাদর্শিক এক নেতা যারা দিল্লিতে বসে দেশবিরোধি ছক আটে।

বিভিন্ন সময় তারা ভারতের পার্লামেন্টের সামনে প্লাকার্ড নিয়ে দাড়াতে চেয়েছিল, জননেত্রী যখন ভারতের রাস্ট্রপ্রতিপত্নির মৃত্যুতে ভারতে এসেছিলো তখন বিমানবন্দরে কালো পতাকা মিছিল করতে চেয়েছিলো কিন্তু আমাদের আদর্শিক প্রচারের ব্যাপকতায় লোকবলের অভাবে তারা করতে পারেনি।

তা ছাড়াও আমাদের কাছে অভিযোগ আছে সে ভারতের মুসলিম সমাজকে বাংলাদেশ এর সরকারের বিরুদ্ধে খেপিয়ে তোলার চেস্টা করেছে এবং সে ভারত ছাড়ার আগেরদিন যে মিথ্যা অভিযোগ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তাতে সে জাতির পিতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

এ ব্যাপারে সংগঠনের বিভিন্ন সময়ে হুমকি পাওয়া সাধারন সম্পাদক ওয়াসিফ সাত্তার বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের বহিস্কার আদেশ নিয়ে চিন্তিত নয় কারন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের ভুল বুঝতে পেরেছে। তবে ব্যাক্তিগত কোন একজন-দুইজন মানুষের বিরুদ্ধে নয় আমাদের ভাষা এসব অপশক্তির আদর্শের বিরুদ্ধে। সত্যিই অবাক হই জননেত্রী ক্ষমতাই থাকা অবস্থাই ও তারা তাদের স্পর্ধা দেখিয়ে চলছে দেশের বিরুদ্ধে চক্রান্ত চলতেই আছে।

আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই এই দিল্লীতে বসে কোনধরনের জঙ্গিবাদ, দেশবিরোধী চক্রান্ত হতে দেওয়া হবে না আর আমরা ইতোমধ্যেই কংগ্রেস-বিজেপির ছাত্রনেতাদের সাথে যোগাযোগ শুরু করেছি তাদের সহায়তার জন্য।

বাংলাদেশ সরকারের এ ব্যাপারে আরো একটু বেশী মনোযোগ দেওয়া উচিত নাহয় মাঝে মাঝে আমরা সত্যিয় অনেক বেশি অসহায় হয়ে পড়ি অপশক্তির চক্রান্তের কাছে ”।

ঢাকা, ১৮ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//আইএইচ