[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



কর্মক্ষেত্রে বিষয়ভিত্তিক পেশার গুরুত্ব আছে কী?


প্রকাশিত: September 19, 2016 , 1:55 pm | বিভাগ: অপিনিয়ন


cover
লাইভ প্রতিবেদক: শিক্ষার্থী/চাকরিপ্রার্থী ভবিষ্যৎ জীবনে বিষয়ভিত্তিক পেশা নির্বাচনে আগ্রহী হয়ে, শৈশবে দেখা স্বপ্নের প্রতি সম্মান রেখে দিনে দিনে নিজেকে তৈরি করতে থাকেন। তাইতো জীবনের লক্ষ্যকে প্রাধান্য দিয়ে শিক্ষার সকল স্তরে নিজেকে অধ্যাবসায় ও কঠোর অনুশীলনের মধ্য দিয়ে সমৃদ্ধ করতে থাকেন।

বিনিময়ে ভবিষ্যতে নিজেকে পছন্দমতো ও বিষয়ভিত্তিক পেশায় নিয়োজিত করবেন বলে। অথচ বিভাগ/বিষয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে আজ শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত পছন্দ আর অভিভাবকদের সার্বিক সহযোগিতা তেমন প্রভাব বিস্তার করছে না। শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে কোন পেশায় নিয়োগ পাবেন বা আদৌ পাবেন কিনা তা প্রার্থী নিজে কিংবা অভিভাবক কেউই জানেন না। সীমাহীন হতাশা আর অপ্রত্যাশিত সংকট, মানসিক চাপ এখন চাকরিপ্রার্থী/অভিভাবক উভয়েরই নিত্যসঙ্গী।

আসলে সময়োপযোগিতা ও চাহিদার ক্ষেত্রে বিষয়ভিত্তিক পেশার কোন সুযোগই কি নেই? বিভাগ/বিষয়/পেশা সবকিছুতেই কেবল সমন্বয়হীনতা ও বিপরীতমুখিতা লক্ষ্য করা যায় খুব সহজেই। কর্মক্ষেত্রে বিভাগ ও বিষয়ের কোন মূল্যায়নই নেই। প্রসঙ্গক্রমে কিছু উদাহরণ উপস্থাপন করছি।

বাংলা সাহিত্যে অনার্স/মাস্টার্স করে চাকরি করছেন ব্যাংকে। আবার ডাক্তার/প্রকৌশলী কর্মক্ষেত্রে সফল প্রশাসক। আইন বিষয়ে স্নাতক/স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করে অনেকে নিজেকে ব্যাংকার হিসেবে আবিষ্কার করেছেন। চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী শিক্ষাজীবন শেষ করে চাকরি করছেন সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে।

লোক প্রশাসন বিষয়ের অনেক শিক্ষার্থী প্রশাসনে চাকরি পাননি ইচ্ছা থাকলেও। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিষয়ে ভাল রেজাল্ট করেও সাংবাদিক হতে পারেননি কেউ কেউ। গণিতে পড়াশোনা করেও অনেকে হতে পারেননি আবহাওয়াবিদ কিংবা বীমা কর্মকর্তা। আবার পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, জীববিদ্যা বিষয়ের গ্র্যাজুয়েটরা চাকরি করছেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ের সাথে সম্পর্ক নেই এমন সব প্রতিষ্ঠানে।

অথচ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাসের বাইরেও ব্যবহারিক ক্লাসে/ল্যাব-এ সময় দিয়েছেন ঘন্টার পর ঘন্টা। তাহলে সেই ব্যবহারিক ক্লাসেরই বা কী গুরুত্ব? কিন্তু একজন ডাক্তার বা প্রকৌশলী নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে অন্য পেশায়ও নিয়োগ পেতে পারেন। তবে একটি নন-প্রফেশনাল বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রীধারীর কোনভাবেই ডাক্তার/ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার সুযোগ নেই বা তা সম্ভবও নয়। বিষয়/বিভাগের ক্ষেত্রে পেশা নির্বাচনে এ কেমন অসংগতি?

ইদানিং সব বিষয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এমবিএ করার এক মহোৎসব চলছে, যা কিনা কর্মস্থলে সুবিধা ও চাকরি পাবার সহজ উপায় হিসাবে বিবেচিত। যদিও সব পেশাতেই কর্মকালীন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকে। আবার কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান নিয়োগের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার শর্ত জুড়ে দিয়ে সদ্য পড়াশোনার পাঠ চুকানো চাকরিপ্রার্থীদেরকে নিরুৎসাহিত করছেন পরোক্ষভাবে।

আজ সময় এসেছে বিষয়ভিত্তিক পেশাকে গুরুত্ব দিয়ে বিষয়/বিভাগকে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করে চাকরির বিজ্ঞাপন দেয়ার। যাতে চাকরি প্রার্থী বিষয়/বিভাগের সুবিধা পেতে পারেন। যেসব প্রফেশনাল বিষয়ে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থী অন্য পেশায় আসছেন তাঁদের মেধা, প্রতিভা, দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন নেই; আমি শুধুমাত্র বিষয়ভিত্তিক পেশার দুঃসময়ের প্রতি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

চাকরি ক্ষেত্রে সব প্রার্থীকেই যদি সব বিষয়ে পারদর্শিতা অর্জন করতে হয় তাহলে বিষয়ভিত্তিক পড়াশোনারই বা গুরুত্ব কতখানি? নিয়োগ পরীক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তন, সহজ ও স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রার্থী নির্বাচন, সিলেবাসের সাথে নম্বর বণ্টনের সমন্বয় সাধন পেশা নির্বাচনে প্রার্থীকে সাহায্য করবে। বছরের পর বছর চাকরির অন্বেষণেই যদি তরুণদের কর্মস্পৃহা, জীবনের মূলবান সময় নষ্ট হয়ে যায়, তবে এর দায় কে নেবে?

তারুণ্যকে বলা হয় জীবনের স্বর্ণসময়। সেই সোনালী জীবনের পরিবর্তে এ সময়টাই আজ তরুণ প্রজন্মের কাছে স্বপ্নহীনতা, বিষণ্নতা আর হতাশায় পরিপূর্ণ। তরুণ প্রজন্মের উৎকণ্ঠিত অবয়ব থেকে দুশ্চিন্তার কালোমেঘ দূর করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ খুবই জরুরি। তাই পেশা নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিভাগ ও বিষয়কে প্রাধান্য দিতে হবে।

অভিমানী মেধাবীদের বিদেশগামীতাকে নিরুৎসাহিত করতে দেশেই মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। সবশেষে টগবগে তরুণদের দুচোখ ভরা যে স্বপ্ন, সেই স্বপ্ন পরিপূর্ণতা পাক দেশের জন্যে, দেশের মানুষের জন্যে, সর্বোপরি নিজের কাঙ্ক্ষিত, সুন্দর, পরিকল্পিত জীবনের জন্যে-অভিভাবক হিসাবে এটুকুই আমাদের চাওয়া।

লেখিকাঃ ইসমত পারভীন রুনু , সংগঠক ও সংস্কৃতিকর্মী, সিলেট।

ঢাকা, ১৯ সেপ্টেম্বর, (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//আইএইচ