[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



সার্ক শীর্ষ সম্মেলন ভারতে হবে না পাকিস্তানে?


প্রকাশিত: September 21, 2016 , 1:39 pm | বিভাগ: ইন্টারন্যাশনাল


Sirk

ইন্টারন্যাশনাল লাইভ: সার্ক কি ভেঙ্গে যাচ্ছে বা পাকিস্তানকে বাদ দিয়ে সার্ক পুনগর্ঠিত হতে নতুন কোন পরিকল্পনা আছে? দক্ষিণ এশিয় পর্যবেক্ষকদের অনেকে তেমন সম্ভাবনার কথা ভাবছেন। গত রোববার জুম্মু ও কাশ্মিরের উরিতে ভারতের সেনা ঘাঁটির হামলায় ১৭ ভারতীয় সৈন্যের নিহত হওয়ার ঘটনার পরে ভারতের মিডিয়ায় দুটি নতুন তথ্য ছাপা হয়েছে।

প্রথমত আগামী নভেম্বরে পাকিস্তানে অনুষ্ঠেয় সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে ভারত, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ বয়কট করতে পারে। দ্বিতীয়ত ভারত সরকার পাকিস্তানকে বাদ দিয়ে সার্কের বাকি ছয় সদস্য দেশের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে ভারতে একটি শীর্ষ সম্মেলনের উদ্যোগ নিচ্ছে।

ভারতের প্রভাবশালী দৈনিক বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডস এক প্রতিবেদন সোমবার বলেছে, ‘ভারত নরেন্দ্র মোদির সরকারের ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতির বাস্তবায়ন করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার অংশ হিসবে ভারত শিগগিরই দক্ষিণ এশীয় সহযোগী সংস্থা সার্কের ৬ সদস্য রাষ্ট্রকে ভারতে এক শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানানোর উদ্যোগ নিচ্ছে।’

উল্লেখ্য, গত রোববার জম্মু ও কাশ্মীরে সেনাবাহিনীর একটি প্রশাসনকি ঘাঁটিতে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় ১৭ জন সৈন্য নিহত হয়। এই ঘটনা আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অংশগ্রহণের রাজনৈতিক সম্ভাবনাকে বিনষ্ট করে দেয়।

গতকাল মঙ্গলবার ইন্ডিয়া টুডে এক প্রতিবেদনে বলেছে, পাকিস্তান পরিচালিত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে ভারত, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ সার্ক শীর্ষ সম্মেলন বয়কট করতে পারে।

ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী নভেম্বরে পাকিস্তানে অনুষ্ঠেয় সার্ক শীর্ষ সম্মেলন এই তিনটি দেশ বয়কট করতে পারে। এই তিনটি দেশই পাকিস্তান পারিচালিত সন্ত্রাসবাদের ভিকটিম হয়ে পড়েছে। তাই এ তিনটি দেশ রাষ্ট্র পরিচালিত সন্ত্রাসবাদের একটি ভিকটিম সম্মেলনের আয়োজন করতে পারে।

জানা গেছে যে, পাকিস্তান পরিচালিত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে উদ্যোগী ভূমিকা পালন করবে। সূত্র বলেছে, এই অঞ্চল থেকে সন্ত্রাস দূর করতে তিন দেশ এক সঙ্গে কাজ করবে।

এ দিকে গতকাল মঙ্গলবার এনডিটিভির এক খবরে বলা হয়, ভারতে নিযুক্ত আফগানিস্তানের রাষ্ট্রদূত ড. শাইদা মোহাম্মদ আবদালী এনডিটিভিকে দেয়া এক সক্ষাৎকারে বলেছেন, আসন্ন সার্ক শীর্ষ সম্মেলন বয়কট করে হলেও পাকিস্তানকে একটা উপযুক্ত বার্তা পাঠানো উচিত।

আফগান রাষ্ট্রদূতকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ভারত, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে বয়কটে ঐক্যবদ্ধ হতে পারে কিনা? এর উত্তরে আফগানিস্তানের রাষ্ট্রদূত বলেন, আমাদের এটা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে, আমরা যাতে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক রাষ্ট্রকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারি।

এবং আমি নিশ্চিত যে আমরা যেভাবে ভাবছি সেইভাবে দক্ষিণএশিয় সব দেশই চিন্তাভাবনা করছে। সুতরাং আমাদের এই উদ্যোগ এতটাই ব্যাপকভিত্তিক হওয়া উচতি যাতে আমরা একটি দেশকে চিহ্নিত করতে পারি। যা আমাদের আঞ্চলিক শান্তি ও ঐক্যের প্রতি হুমকি সৃষ্টি করছে।

মি. আবদালী আরো উল্লেখ করেন যে, যে কোন পদক্ষেপ যা এ অঞ্চলে শান্তি স্থিতিশীলতা ও ঐক্য আনবে। তেমন ধরনের যে কোন পদক্ষেপ নেয়ার সম্ভাবনা নাকচ করা উচিত হবে না।

উল্লেখ্য যে, গত রোববার সকালে ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের উরীতে ভারতীয় সেনাবহিনীর ঘাঁটিতে পাকিস্তান সন্ত্রাসী হামলার পরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ করেন। আফগান রাষ্ট্রদূত তার সাক্ষাৎকারে আরো উল্লেখ করেন যে, রাষ্ট্র পরিচালিত সন্ত্রাসবাদ এবং যে রাষ্ট্র সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মিত্র তাদের মধ্যে পার্থক্য আনতে হবে।

আর এ পার্থক্য আনতে হবে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে। ঐ রাষ্ট্রদূত বলেন, যদি সার্ক ধ্বংসের চেষ্ট করা হয়, তাহলে আমরা সংশ্লিষ্ট সেই দেশটিকে প্রত্যাখ্যান করব। বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডস এর ওই প্রতিবেদন আরো বলেছে, ভারত সার্কের মধ্যে পাকিস্তানকে এক ঘরে করার কৌশল পুনরুজ্জীবিত করেছে। এর শুরুটা হয়েছে ২০১৪ সালের নভেম্বরের শেষে।

যখন পাকিস্তানের আপত্তি সত্বেও ভারত, ভুটান, নেপাল এবং বাংলাদেশকে সঙ্গে নিয়ে কাঠমন্ডু সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে মটর ভেহিক্যাল চুক্তি করেছে। ঐ চুক্তি চূড়ান্তভাবে সম্পদান হয় গত বছর জুনে।

বিজনেস স্ট্যান্ডর্সের রিপোর্টে বলা হয় ঐ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশী পণ্য বোঝাই প্রথম ট্রাক গত ২৭ আগস্ট ঢাকা ছেড়ে যায়। এবং ৫ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে পৌঁছায়। আগামী ১৫-১৬ অক্টোবর ভারত ব্রিকস সম্মেলনের আয়োজন করেছে। ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা।

ওই সম্মেলনের শেষে ভারত একটি বিনোদনের আয়োজন করেছে। এতে নয়াদিল্লি সার্ককে বাদ দিয়ে বিমসটেকভুক্ত দেশগুলোকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। এইদেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, ভুটান, শ্রীলংকা, মায়ানামার ও থাইল্যান্ড। ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়, সার্ককে বাদ দিয়ে বিমসটেককে আনা হয়েছে এই বিবেচনায় যাতে পাকিস্তানকে আমন্ত্রণ জানাতে না হয়।

উল্লেখ্য, এর আগে বিভিন্ন ঘটনায় সার্ক সম্মেলন নিয়ে নানাভাবে অনিশ্চয়তার খবর পাওয়া যাচ্ছিল। গত আগস্টে সার্ক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীদের সম্মেলন হয় পাকিস্তানে। আর তাতে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী যাননি। কিন্তু গিয়েছেন ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী । কিন্তু ভারতের মিডিয়ায় খবর বেরুল, সার্ক সম্মেলনে বয়কট করা হল রাজনাথ সিংকে।

হল না তাঁর বক্তব্যের মিডিয়া কভারেজও। সন্ত্রাসবাদ প্রশ্নে নাম না করে পাকিস্তানকে বিঁধতেই দাঁত-নখ বের করে ঝাঁপিয়ে পড়ে ইসলামাবাদ। মধ্যাহ্নভোজে যোগ দেননি অপমানিত রাজনাথ। অবশ্য আয়োজক হয়েও ভোজে গরহাজির ছিলেন পাক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পাক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চৌধুরি নিসারও।

ওই রিপোর্টে বলা হয়, কথায় আর কাজে মিল রাখল না ইসলামাবাদ। ঘরে ডেকে অতিথিকে অপমানের পথেই হাঁটলেন নওয়াজ শরিফরা। নিহত হিজবুল জঙ্গি বুরহান ওয়ানি ও কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে সপ্তম সার্ক সম্মেলনে সুর সপ্তমে তোলেন রাজনাথ সিং। ঠারেঠোরে বেঁধেন পাকিস্তানকেও।

তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদীরা কখনও শহিদ হতে পারে না। সন্ত্রাসবাদের ভাল-মন্দ হয় না। কেবলমাত্র প্রতিবাদ করলেই হবে না, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে। শুধু ব্যক্তি নয়, সংগঠন, এমনকি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

রাজনাথ সিংয়ের এই বয়ানে তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠে পাকিস্তান। তাঁর বক্তব্যকে বয়কট করে আয়োজক দেশ। মিডিয়া ব্ল্যাকআউটের জেরে রাজনাথের বক্তব্য পাকিস্তানে সম্প্রচারিত হয়নি। তর্কে জড়িয়ে পড়েন ভারত ও পাকিস্তানের সাংসদরা। যদিও, সন্ত্রাসবাদ দূর করতে ইসলামাবাদের সাফল্যের কথা শুনিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ।

ঢাকা, ২১ সেপ্টেম্বর, (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//আইএইচ