[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



এক কলেজে দুই প্রিন্সিপাল! ভেঙে পড়েছে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা


প্রকাশিত: September 23, 2016 , 9:35 pm | বিভাগ: আদার ইন্সটিটিউট,কলেজ


durniti

লাইভ প্রতিবেদক: প্রিন্সিপালের পদ নিয়ে দুজনের টানাটানিতে বরগুনার আমতলী সরকারি কলেজের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। শিক্ষকেরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে নিজেদের মধ্যে মারামারি এমনকি মামলায় জড়িয়ে পড়ায় সদ্য জাতীয়করণ হওয়া এই কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

কলেজ প্রশাসন সূত্র জানায়, আমতলী ডিগ্রি কলেজকে চলতি বছরের ৭ এপ্রিল জাতীয়করণ করা হয়। গত ৩০ জুন চাখার শের-ই-বাংলা কলেজের দর্শন বিভাগের অ্যাসিস্টেন্ট প্রফেসর মাসুদ রেজাকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আমতলী সরকারি কলেজের প্রিন্সিপাল হিসেবে প্রেষণে নিয়োগ দেয়। তিনি গত ১১ জুলাই এই কলেজে যোগদান করেন।

ওই সময় আমতলী ডিগ্রি কলেজের আগের প্রিন্সিপাল মজিবুর রহমান ছুটিতে থাকায় চলতি দায়িত্বে থাকা অ্যাসিস্টেন্ট প্রফেসর আবুল হোসেন বিশ্বাস নবাগত প্রিন্সিপালের কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন।

এদিকে আগের প্রিন্সিপাল মজিবুর রহমান ৬ সেপ্টেম্বর নতুন প্রিন্সিপাল মাসুদ রেজার সংযুক্ত আদেশ বাতিল চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট করেন। ওই দিনই বিচারপতি তরিকুল হাকিম ও বিচারপতি মো. এম ফারুকের যৌথ বেঞ্চ প্রিন্সিপাল মাসুদ রেজার নিয়োগ আদেশ স্থগিত করে মজিবুর রহমানকে বৈধ প্রিন্সিপাল বলে আদেশ দেন এবং মাসুদ রেজার নিয়োগ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর আদেশ দিয়েছেন।

মাসুদ রেজা ও মজিবুর রহমান দুজনই কলেজের প্রশাসনিক ভবনের ১১ নম্বর ও ১২ নম্বর কক্ষে প্রিন্সিপালের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে অফিস করছেন। এতে শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়েছেন।

শিক্ষক সূত্রে জানা যায়, দুই প্রিন্সিপালের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় শিক্ষকেরাও দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। এ নিয়ে দুপক্ষে চলছে চরম দ্বন্দ্ব। এর জের ধরে দুই প্রিন্সিপালের পক্ষ সমর্থনকারী শিক্ষকদের মধ্যে ৭ সেপ্টেম্বর বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

৮ সেপ্টেম্বর নতুন প্রিন্সিপাল মাসুদ রেজার বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে একটি মামলা করেন কলেজের অ্যাসিস্টেন্ট প্রফেসর ও আগের প্রিন্সিপালের সমর্থনকারী শিক্ষক আবুল হোসেন বিশ্বাস। আমতলী উপজেলা জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে করা ওই মামলাটি গোয়েন্দা পুলিশকে তদন্তের আদেশ দিয়েছেন জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম বৈজন্ত বিশ্বাস।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্নাতক শ্রেণির অন্তত পাঁচজন শিক্ষার্থী বলেন, দুই প্রিন্সিপালকে সমর্থন করে শিক্ষকেরাও দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। এতে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষকেরা যে যার মতো করে কাজ করছেন। শিক্ষার্থীদের পাঠদানের ব্যাপারে মাথাব্যথা নেই কারও।

একই সঙ্গে কলেজের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা একেবারে ভেঙে পড়েছে। কেউ কারও আদেশ-নির্দেশ মানছেন না। এতে বিপাকে পড়েছে কলেজের প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী।

হতাশা ব্যক্ত করে দ্বাদশ শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষায় এই কলেজে চরম ফল বিপর্যয় হয়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে সামনের বছর আরও বিপর্যয় হবে। এ কারণে বিষয়টি নিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে আছে এই শিক্ষার্থীরা।

কলেজ প্রশাসন সূত্র জানায়, দুই প্রিন্সিপালের স্বাক্ষর জটিলতায় ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের ১৩৬ জন ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ছাত্রীর উপবৃত্তির তালিকা সময়মতো মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ে জমা দিতে না পারায় ওই ছাত্রীদের উপবৃত্তি পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

অ্যাসিস্টেন্ট প্রফেসর আবুল হোসেন বিশ্বাস বলেন, ৮ সেপ্টেম্বর প্রিন্সিপাল মাসুদ রেজা শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার ভাউচারে স্বাক্ষর করে সোনালী ব্যাংকে পাঠিয়ে দেন।

অপরদিকে মজিবুর রহমান নিজেকে বৈধ প্রিন্সিপাল দাবি করে হাইকোর্টের আদেশের কপি সংযুক্ত করে ব্যাংকে জমা দিয়েছেন। এ জটিলতার কারণে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার অর্থ বিতরণ স্থগিত রেখেছে।

মাসুদ রেজা বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আমাকে এই কলেজে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সংযুক্ত প্রিন্সিপাল হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। আমি সেই আদেশ অনুসারে কলেজের কার্যক্রম পরিচালনা করছি।’

মজিবুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয় আমার প্রিন্সিপাল পদের কোনো ফয়সালা না করে সংযুক্ত প্রিন্সিপাল হিসেবে মাসুদ রেজাকে কলেজে নিয়োগ দিয়েছে।

এর বিরুদ্ধে আমি উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেছি। আদালত আমাকে বৈধ প্রিন্সিপাল হিসেবে আদেশ দেওয়ায় আমি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে অফিসের কার্যক্রম পরিচালনা করছি।’
ঢাকা, ২৩ সেপ্টেম্বর, (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//আইএইচ