[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



‘হোম ইকোনোমিকস’ কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক!


প্রকাশিত: September 24, 2016 , 11:54 am | বিভাগ: অপিনিয়ন,আপডেট


ferdous

ফেরদৌস আলম : কিছুদিন পরপর অনলাইনে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়, হোম ইকোনোমিকস কলেজের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পর্ক নিয়ে। একদল দাবি করে হোম ইকোনমিকস ঢাবির অংশ, অন্যদল বলে কোনভাবেই না। আসলে ভেতরের খবর কী? হোম ইকোনোমিকস কলেজ নিয়ে বিতর্কের সূচনা হওয়ার প্রধান কারণ হল বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ, বিভাগ, ইনিস্টিটিউট ও অধিভুক্ত কলেজ সম্পর্কে ধারণা না থাকা।

অন্যদিকে যাওয়ার আগে আসুন এ সম্পর্কে কিছুটা জেনে নেই,

ফ্যাকাল্টি ও ডিপার্টমেন্ট :
একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কর্যাবলির মূল হল ফ্যাকাল্টি বা অনুষদ। এর আওতায় বিভিন্ন ডিপার্টমেন্ট থাকে। ফ্যাকাল্টি প্রধান ডিন এবং ডিপার্টমেন্ট প্রধান চেয়ারম্যান থাকেন। প্রত্যেক অনুষদের ডিন স্বীয় বিভাগগুলোর শিক্ষকদের প্রত্যাক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন। কিন্তু চেয়ারম্যান সিনিয়রিটির ক্রমে এক এক করে সকল শিক্ষক নির্বাচিত হন।

ফ্যাকাল্টি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি করায়। শুধুমাত্র
স্বাস্থ্য অনুষদ ছাড়া।

ইন্সটিটিউট :
মর্যাদার দিক থেকে প্রত্যেকটি ইন্সটিটিউট একটি ডিপার্টমেন্ট এর সমান। এখানের প্রধান থাকেন একজন ডিরেক্টর। তিনি শিক্ষকদের মধ্য থেকে ভিসি কর্তৃক মনোনীত হন। অধিকাংশ ইন্সটিটিউটে একাধিক বিভাগ আছে। তারা তাদের কার্যক্রম পরিচালনায় অনেকটা স্বাধীনতা ভোগ করে।

শুধুমাত্র আইবিএ ছাড়া সকল ইন্সটিটিউট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করায়। আইবিএ নিজেরাই ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করায়।

অধিভুক্ত কলেজ :
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত কলেজ আছে ৯৬টি।

এরা সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় নয়। তাদের দেখাশুনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক একজন ইন্সপেক্টর থাকেন। প্রত্যেক কলেজে নিজেদের অধ্যক্ষ থাকেন।

ফ্যাকাল্টি ও ইন্সটিটিউট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাজেট বরাদ্দ পেলেও অধিভুক্ত কলেজ পায় না। তাদের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়কে বেতনও দেয় না, শুধুমাত্র পরীক্ষা ও সার্টিফিকেট সংক্রান্ত বিষয় ছাড়া। তবে তাদের শিক্ষার্থীরা স্বীয় কলেজের নামসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট ও আইডি কার্ড পেয়ে থাকেন।

ফ্যাকাল্টি ও ইন্সটিটিউটের শিক্ষকরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেতন ভাতা পেলেও অধিভুক্ত কলেজের শিক্ষকরা পান না। তাদের নিয়োগও হয় কলেজ কর্তৃক, শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের আওতায়।

উল্লেখ্য, ঢাবি শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের আওতায় হলেও ইউজিসি সার্বিক দিক দেখাশোনা করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট অথবা সিনেট নির্বাচনে ফ্যাকাল্টি ও ইন্সটিটিউটের শিক্ষক ও রেজিস্টার গ্রাজুয়েটরা অংশ নিতে পারলেও অধিভুক্ত কলেজেররা পারেন না।

তারা শিক্ষার্থীও ভর্তি করায় নিজেরাই। কয়েক বছর আগে জীববিজ্ঞান অনুষদ কর্তৃক হোম ইকোনোমিক্স ইউনিট নামে একটি ইউনিটের মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষা নেয়া শুরু হয়েছে, যেখানে একটি সরকারি হোম ইকোনোমিক্স কলেজ থাকলেও আরো তিনটি বেসরকারি কলেজ আছে। এর একটি আবার সেই ময়মনসিংয়ে। ভর্তি পরীক্ষাটা নেয়ার কারণ হতে পারে স্বচ্ছতা রাখা, শিক্ষার্থীদের পরিশ্রম কম করানো। আগে লাইন ধরে কলেজে এসে ভর্তি ফর্ম তুলতে হতো, জমা দিতে হতো। ঢাবি কর্তৃপক্ষ হয়তো মনে করেছে, আমাদের কাছে যেহেতু ডাটাবেস আছে, শিক্ষার্থীদের চাহিদাও ওখানে আছে, তাই ভর্তি পরীক্ষাটা নিচ্ছে।

উল্লেখ্য, গতবছর থেকে নার্সিং কলেজগুলোর ভর্তি পরীক্ষাও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নেয়া শুরু করেছে।

অন্যদিকে সরকারি হোম ইকোনোমিকস কলেজটির বাজেট সরাসরি শিক্ষা মন্ত্রনালয় থেকে বরাদ্দ হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নয়। প্রাইভেট হোম ইকোনমিক্স কলেজ তিনটি শিক্ষার্থীদের টাকায় চলে।

অদূর ভবিষ্যতে হোম ইকোনোমিক্সকে আলাদা ফ্যাকাল্টি করার সম্ভাবনা আছে। কিন্তু এই মুহূর্তে তারা সরাসরি ঢাবির নয়। তারা ঢাবির হলে ঢাবির অধিভুক্ত সকল মেডিকাল কলেজ, প্রাইভেট কিছু ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, বিভিন্ন নার্সিং কলেজও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দাবি করতে পারে।

লেখক : শিক্ষার্থী
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাকা, ২৪ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//জেএন