[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



যে চিঠি নিয়ে আলোচনার ঝড়


প্রকাশিত: September 27, 2016 , 12:40 am | বিভাগ: আপডেট,বরিশালের ক্যাম্পাস


child-live

লাইভ প্রতিবেদক :  ‘আমি খুব খুশি হয়েছি। আমি আনন্দিত। এটি আমার জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমি প্রধানমন্ত্রীকে সালাম জানাই।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে লেখা চিঠির উত্তর হাতে পেয়ে এ অনুভূতি প্রকাশ করেন পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র শীর্ষেন্দু বিশ্বাস। সোমবার বেলা ১১টায় ওই বিদ্যালয় মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠিটি হস্তান্তর করেন জেলা প্রশাসক একেএম শামীমুল হক সিদ্দিকী। ১৫ই আগস্ট পটুয়াখালীর পায়রা নদীর ওপর একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তিন পৃষ্ঠার হাতে লেখা একটি চিঠি শীর্ষেন্দু ১৬ই আগস্ট তার মা শিলা রানী সন্নামতের মাধ্যমে ডাকযোগে পোস্ট করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চিঠিটি পেয়ে ৮ই সেপ্টেম্বর স্বাক্ষর দিয়ে শীর্ষেন্দুর কাছে উত্তর পাঠান ডাকযোগে। ২০শে সেপ্টেম্বর ওই চিঠি জুবিলী স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছায়। গতকাল আনুষ্ঠানিক ভাবে শীর্ষেন্দুর হাতে ওই চিঠি তুলে দেয়া হয়। ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সিদ্দিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন- খান মোশরেফ হোসেন, তারিকুজ্জামান মনি, কাজী আলমগীর হোসেন, আবু বক্কর সিদ্দিক ও সুলতান আহমেদ মৃধা।

চিঠি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে শীর্ষেন্দুর দাদু মুক্তিযোদ্ধা অভিনাশ চন্দ্র সন্নামত বলেন, ’৭১ সালে যুদ্ধ করেছি দেশ স্বাধীনের জন্য, আর আমার নাতি এখন মানুষের দুর্ভোগ লাগবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখে চেষ্টা করছে। ওর এই কর্ম আমাদের সকলকে ধন্য করেছে। প্রধানমন্ত্রী একটি শিশুর চিঠি পেয়ে তা গুরুত্বের সঙ্গে পড়ে সেই চিঠির উত্তর পাঠিয়েছেন- এ জন্য আমি ও আমার পরিবারের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই।’
এদিকে শীর্ষেন্দুর লেখাপড়ার যাবতীয় খরচ জুবিলী স্কুল কর্তৃপক্ষ বহন করবে বলে জানান জেলা প্রশাসক ও স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি একেএম শামীমুল হক সিদ্দিকী। এছাড়া পটুয়াখালী জেলা পরিষদের প্রশাসক খান মোশারেফ হোসেন শীর্ষেন্দুর জন্য জেলা পরিষদের তহবিল থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা দেয়ার ঘোষণা দেন এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সুলতান আহমেদ মৃধা ব্যক্তিগত তহবিল থেকে শীর্ষেন্দুর জন্য দশ হাজার টাকা দেয়ারও ঘোষণা দেন।

পটুয়াখালী সরকারি জুবীলি উচ্চ বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী শীর্ষেন্দু বিশ্বাসের চিঠির জবাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর ওই জবাব নিয়ে দেশজুড়ে এখন আলোচনা। এই প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী কোন শিক্ষার্থীর চিঠির জবাব দিলেন।

ওই চিঠিতে ছাত্র লিখেছিলেন :

‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,

সালাম ও শুভেচ্ছা নেবেন। আমি দেশের একজন সাধারণ নাগরিক। নাম শীর্ষেন্দু বিশ্বাস। বাবা বিশ্বজিৎ বিশ্বাস, মা শীলা রাণী সন্নামত। আমি পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির একজন নিয়মিত ছাত্র। আমার দাদু অবিনাস সন্নামত একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। আমি আপনার পিতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীতে উপস্থিত ছিলাম।

আমি আপনার পিতার শৈশবকাল নিয়ে রচনা লিখে তৃতীয় স্থান অধিকার করি। আমার গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠি। আমাদের মির্জাগঞ্জ নদী পারি দিয়ে বাড়িতে যেতে হয়। এ নদীতে প্রচণ্ড ঢেউ। মানুষ ভয় পায়। এখানে কখনও নৌকা কখনও বা ট্রলার ডুবে যায়। এতে করে আমার থেকে ছোট ভাই-বোনরা তাদের মা-বাবাকে হারায়। আমি আমার মা-বাবাকে অনেক ভালোবাসি। তাদের হারাতে চাই না। তাই আপনার কাছে একটাই অনুরোধ যে আপনি আমাদের জন্য একটু কষ্ট করে মির্জাগঞ্জ নদীতে ব্রিজের ব্যবস্থা করুন। আজ  আর  নয়।

ইতি, আপনার দেশের একজন সাধারণ নাগরিক, শীর্ষেন্দু বিশ্বাস।’

জবাবে প্রধানমন্ত্রী লিখেন :

‘স্নেহের শীর্ষেন্দু, তুমি শুধু দেশের একজন সাধারণ নাগরিক নও, দেশের ভাবিষ্যত প্রজন্ম এবং দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেওয়ার অগ্রজ সৈনিক। আমি জানি পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার পায়রা নদীটি অত্যন্ত খরস্রোতা। নিজের মা-বাবাসহ অন্যান্য পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এই নদী কেন্দ্রিক তোমার নিরাপত্তা সচেতনতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। আমি বুঝতে পারি তোমার বীর মুক্তিযোদ্ধা দাদুর প্রভাব রয়েছে তোমার ওপর। মির্জাগঞ্জের পায়রা নদীতে একটি সেতু নির্মাণ করা হবে বলে তোমাকে আশ্বস্ত করছি।’

চিঠির সমাপ্তিতে প্রধানমন্ত্রী শীর্ষেন্দুসহ পরিবারের সদস্যদের মঙ্গল কামনা করেন।

ঢাকা, ২৭ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//জেএন