[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



“মন্দ” ছাড়া “ভালো” অর্থহীন


প্রকাশিত: October 1, 2016 , 7:32 pm | বিভাগ: অপিনিয়ন,প্রফেশন


 

motibation

সাঈদ সাজ্জাদ জেরিস: “মন্দের ভালো” কথাটার সাথে আমরা প্রায় সবাই পরিচিত। কেউ একটু বেশি পরিচিত, কেউ বা একটু কম। কেউ পরিচিত কাজে, কেউ পরিচিত খেলার মাঠে কেউবা আবার প্রতিযোগীতায়।
আমাদের মধ্যে খুব কম মানুষই আছেন যারা এটা সম্পূর্ণ মন থেকে মেনে নিতে পারেন। কোনো কাজের ক্ষেত্রে, বেশিরভাগই চান হয় পুরোটা ভালোভাবে করতে কিংবা একেবারেই না। অনেকটা ভার্সিটিতে কোন কোর্সে এ প্লাস (আশানুরূপ ফলাফল) না পেলে ফেল হলেই খুশি, আবার দেওয়া যাবে এরকম।
তবে মন্দের ভালো কিন্তু মোটেও মন্দ না। আপনি যখন একটা কাজ হাতে নিয়েছেন, আপনার লক্ষ্য ছিল সেটা সম্পন্ন করবেন এবং সেটা সফলভাবেই। ভাগ্যক্রমে কিংবা অন্য কারণেই হোক আপনি প্রথমবারে ব্যর্থ হলেন। এখন আপনি যদি এই পারফরমেন্স থেকে ইতিবাচক কিছু নেন, সেটা শুধু পরবর্তী কাজে আপনার ভালো প্রস্তুতির টনিক হিসেবেই কাজ করবে না, আপনাকে নিজেকে একজন ধৈর্য্যশক্তির মানুষ হিসেবেও বিশ্বাস করাবে। ধৈর্য্যশক্তির গুরুত্ব যে কি পরিমাণ সেটা আরেকদিন বলবো, এখন অইদিকে না যাই ।
একটা উদাহরণ দেই, বাংলাদেশ ক্রিকেট দল যখন ২০০১-২০০৭/০৮ বছরগুলোতে খেলেছে তখন বেশিরভাগ সময়েই হারতো। সেটা পরিসংখ্যান দেখলেই বুঝবেন। অবশ্য আমাদের দেশের মানুষ যে পরিমাণ ক্রিকেট পাগল, পরিসংখ্যান দেখার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। আমরা তখন বড় দলের সাথে জেতার আশা করতাম না বললেই চলে, চাইতাম সম্মানজনক ভাবে যাতে খেলাটা শেষ হয়। তখন আমাদের অধিনায়করা খেলা শেষে বলতেন, “পরের খেলায় আশা করি ভালো করবো আরো” কিংবা “এই খেলা থেকে পজিটিভ কিছু নিয়ে পরের খেলায় ভালো করবো” এরকম কিছু। আমরা সাপোর্টাররাও আশায় বুক বাঁধতাম কিন্তু বেশিরভাগ সময়েই বিদ্রূপ করতাম। কিন্তু অধিনায়করা “মন্দের ভালো” টার্মটা ভালোই ব্যবহার করেছেন এবং সেটার জন্যেই আজকের এই বাংলাদেশ। এখন আমরা হারলেও পরবর্তীতে আরো ভালোভাবে ফিরে আসার সাহস পাই। সেটা কোথা থেকে এলো? রাতারাতি নিশ্চয়ই আসেনি।
আমার নিজের ক্ষেত্রেই বলি। দুইদিন পর আমার ফাইনাল পরীক্ষা। আমি আজ ঠিক করলাম এই চ্যাপ্টার পড়বো নূন্যতম, পারলে অতিরিক্ত কিছু পড়বো। যখন দিন শেষে দেখা গেল, আমি আমার লক্ষ্য পূরণ করতে পারছি না তখন সাথে সাথে মাথায় আসে যেহেতু সম্পন্ন করতে পারছি না, মোটামুটিভাবে একটু ধারণা নিয়ে নিতে, যাতে পরীক্ষায় লিখতে পারি। মানে একরকম “মন্দের ভালো”ই।
মন্দের ভালো সবসময় আপনার জীবনে নেগেটিভ প্রভাব ফেলবে এরকম ভাবার কোনো কারণ নেই। বরং এটা থেকে পজিটিভ কিছু নিন এই ভেবে যে, এটা আপনাকে আরো মোমেন্টাম তৈরি করে দেবে পরবর্তীতে আরো ভালো প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য, সফল হওয়ার জন্য।
ইচ্ছাটা আপনারই, তবে বাছাই করতে হবে সতর্কতার সাথে এবং সেটা নিজের বুদ্ধিমতাকে কাজে লাগিয়েই।

 

লেখক: সাঈদ সাজ্জাদ জেরিস
ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাকা, ০১ অক্টোবর, (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// এএসটি