[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



সেলফি যেভাবে বদলে দিয়েছে শরণার্থী ছাত্রের জীবন


প্রকাশিত: October 3, 2016 , 1:35 am | বিভাগ: আপডেট,ফরেন ক্যাম্পাস,ফিচার


selfi-1

ইন্টারন্যাশনাল লাইভ : সিরিয়ান শিক্ষার্থী আনাস মোডামানি। দামেস্কে যখন তার বাড়ির উপর বোমা পড়ে, তখন মোডামানি এবং তার বাবা, মা ও ভাইবোন গরিয়া নামক একটি ছোট্ট শহরে চলে যান। সেখান থেকে ইউরোপের পথে যাত্রা করেন তিনি। প্রথমে লেবানন, এরপর তুরস্ক হয়ে গ্রিসে।

তবে শরণার্থী আনাসের জীবন পাল্টে যায় একটি সেলফি তুলে। তিনি এখন জার্মানিতে ভালোভাবেই বসবাস করছেন। পড়াশোনা করছেন। স্বপ্ন দেখছেন শরণার্থীদের নিয়ে কিছু করার।

বার্লিনে এক শরণার্থী শিবিরে থাকার সময় আনাস মোডামানি একদিন শুনলেন যে, জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল তাদের দেখতে আসবেন এবং তাদের সঙ্গে কথাও বলবেন।

১৯ বছর বয়সি সিরিয়ান তরুণ, যিনি কিনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যাপক ভক্ত, সুযোগটা হাতছাড়া করেননি। তিনি তখন ভাগ্য বদলের স্বপ্ন নিয়ে ম্যার্কেলের সঙ্গে একটি সেলফি তোলেন। এতেই পাল্টে যায় তার জীবন।

sel-4

আনাস মোডামানি জানিয়েছেন, চ্যান্সেলর ম্যার্কেলের সঙ্গে তোলা সেলফি জীবন বদলে দিয়েছে। সেই ছবি ইন্টারনেটে প্রকাশের পর গণমাধ্যমের নজর পড়ে তার দিকে এবং একটি জার্মান পরিবার তাঁকে আশ্রয় দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। গত দু’মাস ধরে জার্মান পরিবারের সঙ্গে আছেন তিনি। আর সেই পরিবার তাকে পরিবারের সদস্যদের মতোই সহায়তা করছে।

জার্মানিতে একটি উন্নত ও নিরাপদ জীবনের আশা মোডামানির। স্বপ্ন দেখেন নিজ পরিবারকে জার্মানিতে আনার।

যেভাবে বিপজ্জনক যাত্রা :::>>>

আনাস মোডামানি যাত্রাপথে প্রায় মরতে বসেছিলেন৷ আরো অনেক শরণার্থীর মতো, একটা রাবার বোটে করে তুরস্ক থেকে গ্রিস আসতে হয়েছিল তাঁকে। মোডামানি জানান, নৌকাটি অতিরিক্ত বোঝাই ছিল এবং এক পর্যায়ে সমুদ্রে তলিয়ে যায়৷ তিনিও প্রায় ডুবে যাচ্ছিলেন। কিন্তু ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান।

sel-5

গ্রিস থেকে হাঁটা পথে মেসিডোনিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন মোডামানি। হাঙ্গেরি এবং অস্ট্রিয়ায় তিনি হেঁটেছেন অনেকটা পথ। এরপর ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে পৌঁছান তার চূড়ান্ত গন্তব্য মিউনিখে। জার্মানিতে আসার পর তিনি বার্লিনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তখন থেকেই তিনি বার্লিনেই আছেন।

বার্লিনে পৌঁছানোর পর মোডামানি বেশ ক’টা দিন কাটিয়েছেন লাগেসো শরণার্থী কেন্দ্রের সামনে। তিনি জানান, সেখানকার অবস্থা বেশ জটিল, বিশেষ করে শীতের সময়৷ এক পর্যায়ে তাকে বার্লিনের স্পানডাও অঞ্চলের শরণার্থী কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেয়া হয়। তিনি শরণার্থী হিসেবে তার অবস্থা সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে চেয়েছিলেন। আর ম্যার্কেলের সঙ্গে সেলফি তাকে সেই সুযোগ করে দিয়েছে।

sel-6

[সূত্র : ডিডাব্লিউ]
ঢাকা, ০৩ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//জেএন