[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



সোশ্যাল নেটওয়ার্ক: মনোরঞ্জনই দিচ্ছে! (ভিডিও)


প্রকাশিত: October 3, 2016 , 9:18 am | বিভাগ: ইন্টারভিউ


derakshan2

হোসেইন দেরাখশান। একজন আলোচিত ব্লগার। দেশ-বিদেশে রয়েছে তার বিষয়ে নানান আলোচনা ও সমালোচনা। কথা বলেন মুক্ত মনে। সোশ্যাল নেটওয়ার্ককে তিনি মনোরঞ্জনের মাধ্যম মনে করেন। নেতৃত্বের বিকল্প ভাবতে চান না।  দিচ্ছেতিনি ইরানের নাগরিক। ইরানের পথিকৃৎ ব্লগার। ব্লগিং-এর জন্য তাঁকে ছ’বছর জেলে কাটাতে হয়েছিল। জেল থেকে বেরিয়েই তিনি লক্ষ্য করেন কী পরিমাণ অকিঞ্চিতকর হয়ে উঠেছে ইন্টারনেট। কেমন জানি হয়েগেছে দুনিয়া।
হোসেইন দেরাখশানের জন্ম ইরানে। ১৯৭৫ সালে। ২০০১ সালে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য যান ক্যানাডার টরন্টোয়। সেখান থেকে তিনি হোদার ছদ্মনামে ব্লগ করতে শুরু করেন। ফার্সিতে ব্লগ করা সম্বন্ধে একটি গাইডের অনুবাদ করেন – যা থেকে ফার্সি ভাষায় ব্লগিং-এর ধুম শুরু হয়। ২০০৪ সালে ব্লগারদের সংখ্যার হিসেবে বিশ্বে ইরানের অবস্থান ছিল পঞ্চম।

কিন্তু অচিরেই বিপদে পড়তে থাকেন মুক্তমনা ব্লগাররা। ২০০৮ সালে দেরাখশানকেও কারারুদ্ধ করে ইরান সরকার৷ দীর্ঘ ছ’বছর পরে তাঁকে অপ্রত্যাশিতভাবে মুক্তি দেওয়া হয়, এবং সেটা নাকি সম্ভব হয় স্বয়ং আয়াতোল্লাহ খামেনেই-এর হস্তক্ষেপে। সরকারের সঙ্গে এই যোগাযোগ দেরাখশানকে বিপাকে ফেলে; ইরানের অনলাইন কমিউনিটি তাঁর রাজক্ষমাকে সন্দেহের চোখে দেখে।

deraksha3

২০১৫ সাল থেকে দেরাখশান তেহরানে বাস করছেন, প্রবন্ধ লিখছেন এবং সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব ও অনলাইনে রাজনৈতিক বাকবিতণ্ডা, যুক্তিতর্ক, আলাপ-আলোচনা কমে যাওয়া সম্পর্কে বক্তৃতা দিয়ে বেড়াচ্ছেন। সম্প্রতি ডয়চে ভেলেকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সে কথাই বলেছেন তিনি।

ডয়চে ভেলে: মিস্টার দেরাখশান, আপনি জেলে থাকাকালীন ছ’বছর অফলাইন ছিলেন৷ সেই সময়ে ইন্টারনেট বিপুলভাবে বদলে গেছে৷ জেল থেকে বেরনোর পর আপনি কী দেখলেন?

‘গেরশাদ’ নামক অ্যাপটি তৈরির উদ্দেশ্য পুলিশকে এড়িয়ে চলা৷ ইরানের ‘গাশত-ই-এরশাদ’ বা নৈতিকতা পুলিশের কাজ রাস্তায় নারী ও পুরুষরা ‘ঠিক’ পোশাক ও সাজসজ্জা অনুযায়ী বের হয়েছে কি না তা দেখা। ব্যতিক্রম হলে ‘অপরাধী’ ধরে শাস্তি দেয়া।

হোসেইন দেরাখশান: আমি ইন্টারনেটে একটা পরিবর্তন লক্ষ্য করি; একটি বিকেন্দ্রিক, বৈচিত্র্যপূর্ণ, লিংক-ভিত্তিক, সংযোগমূলক, কৌতূহলী, বহির্মুখী এবং রচনাকেন্দ্রিক স্পেস থেকে সেটি একটি ইমেজ-কেন্দ্রিক স্পেস হয়ে উঠেছে, যার মূল উপজীব্য আলোচনা, বিতর্ক বা চিন্তাধারা না হয়ে মনোরঞ্জন হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ ইন্টারনেট এখন বেশ কেন্দ্রীভূত ও সোশ্যাল নেটওয়ার্কগুলির দ্বারা প্রভাবিত। আগের চেয়ে অনেক কম বৈচিত্র্যপূর্ণ। মনোরঞ্জনই এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। রাজনীতি সহ সিরিয়াস কন্টেন্ট কম।

আপনি যে ব্লগারদের সাথে কাজ করতেন, তাদের কী খবর?

অনেক সাবেক ব্লগার আর অ্যাক্টিভিস্ট এই নতুন ‘স্পেসে’ যোগ দিয়েছেন। তাঁরা যেন ভুলে গেছেন যে, রাজনীতি তাঁদের জীবনে এককালে একটা বড় ভূমিকা নিয়েছিল। এখন তাঁরা সোশ্যাল নেটওয়ার্কে ছোটখাটো যা কিছু দেখেন, তাই নিয়েই খুশি৷ ক্রমেই আরো কম লোক সিরিয়াস নিউজ বা সিরিয়াস ডিসকাশনে আগ্রহী, বলে আমার ধারণা।

নব্বই-এর দশকে ইন্টারনেট যখন বেরোয়, তখন তা সিরিয়াস আলাপ-আলোচনা, তর্ক-বিতর্কের জন্য একটা সুযোগ সৃষ্টি করেছিল৷ ২০ বছর পরে এখন সেই সুযোগ অন্তর্হিত হচ্ছে, ইন্টারনেট টেলিভিশনের মতো হয়ে যাচ্ছে।

সোশ্যাল নেটওয়ার্কগুলি কি কোনো কাজের নয়, বলে আপনি মনে করেন?

কোনো বিশেষ খবর বা ঘটনার প্রতি আবেগ-অনুভূতিগত প্রতিক্রিয়া হিসেবে সোশ্যাল নেটওয়ার্কগুলির উপযোগিতা থাকতে পারে – হয়ত কোনো কোনো ক্ষেত্রে মানুষজনকে পথে বার করে আনতে৷ কিন্তু একজন মিশরী আন্দোলনকারী যেমন বলেছেন: তার ফলে মিশরী বিপ্লবের কোনো সুবিধা হয়নি৷ সোশ্যাল নেটওয়ার্কগুলি জনতাকে ঘর থেকে বার করে এনে তাদের চলতি পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতিবাদের কণ্ঠ দিয়েছে, কিন্তু সেটা একটি নেতিবাচক কণ্ঠ; তা থেকে ইতিবাচক কিছু আসেনি৷ সকলে পরস্পরের সঙ্গে মারামারি শুরু করেছে..

কাজেই (সোশ্যাল নেটওয়ার্কগুলি) জনতাকে কোনো কিছুর বিরুদ্ধে সংগঠিত করতে পারে, কিন্তু কোনো ইতিবাচক কাজে তাদের ঐক্যবদ্ধ করতে পারে না, কেননা সোশ্যাল নেটওয়ার্ক নেতৃত্বের বিকল্প হতে পারে না।

 

hoderL

ইরানে পুলিশের নজর এড়াতে অ্যাপ

গেরশাদ’ নামক অ্যাপটি তৈরির উদ্দেশ্য পুলিশকে এড়িয়ে চলা। ইরানের ‘গাশত-ই-এরশাদ’ বা নৈতিকতা পুলিশের কাজ রাস্তায় নারী ও পুরুষরা ‘ঠিক’ পোশাক ও সাজসজ্জা অনুযায়ী বের হয়েছে কি না তা দেখা৷ ব্যতিক্রম হলে ‘অপরাধী’ ধরে শাস্তি দেয়া।

ইরানে পুলিশের নজর এড়াতে অ্যাপ
অপরাধের ধরণ:
নারীরা যদি স্কার্ফ দিয়ে মাথা না ঢাকেন, তাঁদের চুলের স্টাইল যদি রীতি অনুযায়ী না হয় এবং তাঁরা যদি অতিরিক্ত মেক-আপ নেন তাহলে তাঁদের নৈতিকতা পুলিশের মুখোমুখি হতে হয়। ছেলেদের ক্ষেত্রে তাঁরা যদি পশ্চিমা ধাঁচের পোশাক পরেন তাহলেই বিপত্তি ঘটতে পারে।

শাস্তি:
‘অপরাধ’ অনুযায়ী শাস্তি দিয়ে থাকে পুলিশ৷ জরিমানা আদায় থেকে শুরু করে সংশোধন কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে জীবনযাপনের উপর শিক্ষা দেয়া, কারাগারে পাঠানো এমন সব শাস্তি দেয়া হয়ে থাকে। গেরশাদ এর পেছনের কারিগররা জানান, ২০১৩ সালে প্রায় ত্রিশ লক্ষ নারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। এর মধ্যে দুই লক্ষের বেশি জনকে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়ে পত্র লিখতে হয়েছে। আর জেলে যেতে হয়েছে ১৮ হাজারেরও বেশি নারীকে৷

অ্যাপটি যেভাবে কাজ করে
অ্যান্ডরয়েড ফোন যাঁরা ব্যবহার করেন তাঁরা এই অ্যাপটি ব্যবহার করেন৷ অ্যাপের মাধ্যমে শহরের কোন স্থানে নৈতিকতা পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়েছে তা জানা যায়। ফলে পথচারীরা সহজেই ঐ পথ এড়িয়ে চলতে পারেন।

ব্যবহারকারীরাই তথ্য দেন
অ্যাপের ব্যবহারকারীরাই তথ্য দিয়ে জানিয়ে দেন, কোথায় চেকপোস্ট আছে আর কোথা থেকে চেকপোস্ট উঠিয়ে নেয়া হয়েছে৷ অ্যাপের মাধ্যমে পুলিশকে এড়িয়ে বিকল্প পথে যাওয়ার পথও বাতলে দেয়া হয়।

অ্যাপের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পরপরই ব্যবহারকারীরা এটি তাদের স্মার্টফোনে ডাউনলোড করা শুরু করলে সরকার এটি ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে৷
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি
চলতি বছর ডয়চে ভেলের দ‍্য বব্স প্রতিযোগিতার ‘প্রগতির জন‍্য প্রযুক্তি’ বিভাগে ‘জুরি অ্যাওয়ার্ড’ জিতেছে প্রকল্পটি৷ তবে অ‍্যাপটির নির্মাতারা নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতে চান৷ দ‍্য বব্সের ইরানি ভাষার বিচারক গোলনাজ এসফানডিয়ারিকে তাঁরা জানান, ‘‘এই পুরস্কার অ‍্যাপটির ব‍্যবহারকারীদের প্রাপ‍্য৷ এটা নিঃসন্দেহে যারা নৈতিকতা বিষয়ক পুলিশ বাহিনীকে এড়িয়ে চলতে চান, তাদের উপর ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করবে৷’’

হোসেইন দেরাখশান: আমি ইন্টারনেটে একটা পরিবর্তন লক্ষ্য করি; একটি বিকেন্দ্রিক, বৈচিত্র্যপূর্ণ, লিংক-ভিত্তিক, সংযোগমূলক, কৌতূহলী, বহির্মুখী এবং রচনাকেন্দ্রিক স্পেস থেকে সেটি একটি ইমেজ-কেন্দ্রিক স্পেস হয়ে উঠেছে, যার মূল উপজীব্য আলোচনা, বিতর্ক বা চিন্তাধারা না হয়ে মনোরঞ্জন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইন্টারনেট এখন বেশ কেন্দ্রীভূত ও সোশ্যাল নেটওয়ার্কগুলির দ্বারা প্রভাবিত৷ আগের চেয়ে অনেক কম বৈচিত্র্যপূর্ণ৷ মনোরঞ্জনই এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ৷ রাজনীতি সহ সিরিয়াস কন্টেন্ট কম্

আপনি যে ব্লগারদের সাথে কাজ করতেন, তাদের কী খবর?

অনেক সাবেক ব্লগার আর অ্যাক্টিভিস্ট এই নতুন ‘স্পেসে’ যোগ দিয়েছেন্। তাঁরা যেন ভুলে গেছেন যে, রাজনীতি তাঁদের জীবনে এককালে একটা বড় ভূমিকা নিয়েছিল্ এখন তাঁরা সোশ্যাল নেটওয়ার্কে ছোটখাটো যা কিছু দেখেন, তাই নিয়েই খুশ্৷ ক্রমেই আরো কম লোক সিরিয়াস নিউজ বা সিরিয়াস ডিসকাশনে আগ্রহী, বলে আমার ধারণা্

নব্বই-এর দশকে ইন্টারনেট যখন বেরোয়, তখন তা সিরিয়াস আলাপ-আলোচনা, তর্ক-বিতর্কের জন্য একটা সুযোগ সৃষ্টি করেছিল। ২০ বছর পরে এখন সেই সুযোগ অন্তর্হিত হচ্ছে, ইন্টারনেট টেলিভিশনের মতো হয়ে যাচ্ছে্

সোশ্যাল নেটওয়ার্কগুলি কি কোনো কাজের নয়, বলে আপনি মনে করেন?

কোনো বিশেষ খবর বা ঘটনার প্রতি আবেগ-অনুভূতিগত প্রতিক্রিয়া হিসেবে সোশ্যাল নেটওয়ার্কগুলির উপযোগিতা থাকতে পারে – হয়ত কোনো কোনো ক্ষেত্রে মানুষজনকে পথে বার করে আনতে। কিন্তু একজন মিশরী আন্দোলনকারী যেমন বলেছেন: তার ফলে মিশরী বিপ্লবের কোনো সুবিধা হয়নি৷ সোশ্যাল নেটওয়ার্কগুলি জনতাকে ঘর থেকে বার করে এনে তাদের চলতি পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতিবাদের কণ্ঠ দিয়েছে, কিন্তু সেটা একটি নেতিবাচক কণ্ঠ; তা থেকে ইতিবাচক কিছু আসেনি৷ সকলে পরস্পরের সঙ্গে মারামারি শুরু করেছে..

কাজেই (সোশ্যাল নেটওয়ার্কগুলি) জনতাকে কোনো কিছুর বিরুদ্ধে সংগঠিত করতে পারে, কিন্তু কোনো ইতিবাচক কাজে তাদের ঐক্যবদ্ধ করতে পারে না, কেননা সোশ্যাল নেটওয়ার্ক নেতৃত্বের বিকল্প হতে পারে না৷

ভিডিও:

ঢাকা, ০৩ অক্টোবর, (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// এএসটি