[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



বখাটের বর্বরতা: কে ওই বদরুল (ভিডিও)


প্রকাশিত: October 4, 2016 , 9:32 pm | বিভাগ: এক্সক্লুসিভ


hgg

আশরাফুল ইসলাম শান্ত, সিলেট: নিষ্টুর। বর্বরতা। বখাটের কান্ড। দেখলে চোখে জল আসে। মনে বেদনা জন্মায়। একই ভাবে ঘৃণা ও ধিক্কার জাগে। একদিকে নার্গিসের বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার অন্যদিকে বখাটের কোপ। কিন্তু তখনও কেউ এগিয়ে আসেনি। ওমাই গড বলে আওয়াজ করলেও কেউ সামনে আসেনি। নার্গিসের চিৎকারে আকাশ-বাতাস ভাড়র হয়ে আসে। প্রত্যক্ষদর্শি আব্দুল্লাহ ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, ১০/১২ মিনিট পর লোকজন এগিয়ে আসতে থাকে।

প্রত্যক্ষদর্শি ও বান্ধবীদের বর্ণনা: 

খাদিজার কয়েকজন বান্ধবী জানিয়েছেন, সোমবার পরীক্ষা শেষ করে যখন তারা হেঁটে পুকুরপাড়ে আসেন তখন মূল ফটক এলাকা দিয়ে আসছিল বদরুলও। সে এসে খাদিজার মুখোমুখি দাঁড়ায়। বিষয়টি ব্যক্তিগত বলে সহপাঠীরা একটু এগিয়ে যান। এমন সময় তারা দেখেন বদরুল খাদিজাকে কয়েকটি চড় মারে। এরপর সে কোমরের পেছন থেকে চাপাতি বের করে মাথায় কোপ দেয়। এ সময় বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার শুরু করে খাদিজা। দৌড়ে নিজেকে রক্ষার চেষ্টা চালায়। কিন্তু অল্প দূরে গিয়েই মাটিতে লুটে পড়েন।

আর ওই সময় কালো বোরকা পরা খাদিজাকে মাটিতে ফেলে নির্মমভাবে কোপাতে থাকে বদরুল। এ কোপানোর দৃশ্য দেখে ছাত্রীরা চিৎকার করে দৌড়াতে থাকেন। এক সময় খাদিজার দেহ নিথর হয়ে পড়লে বদরুল পুকুরের পাশ দিয়ে হেঁটে হেঁটে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় হাতে থাকা চাপাতিও ছুড়ে ফেলে পুকুরের পাশে। আর চাপাতি ফেলে দেয়ার পরপরই ক্যাম্পাসে থাকা ছাত্ররা ধাওয়া করে তাকে আটক গণপিটুনী দিয়ে পুলিশে দেয়।

আর রক্তাক্ত খাদিজাকে নিয়ে আসা হয় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। রাতে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার প্রায় ৪ ঘণ্টা অস্ত্রোপচার হয়। কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাতেই তাকে ঢাকায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। এদিকে, রাতেই পুলিশ আহত অবস্থায় বদরুলকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে হাতকড়া পরানো অবস্থায় পুলিশি প্রহরায় চিকিৎসা দেয়া হয়।

সাজনা নামক আরেকজন জানান, নার্গিস কথা বলছিল পরীক্ষা নিয়ে। এমন সময় বদরুল নামের এক যুবক তার কাছে যায়। গিয়েই এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে নার্গিসকে। বাঁচাও বাঁচাও বলে আর্তনাদ করে উঠে নার্গিস। দৌড়ে পালাতে যায়। কিন্তু থেমে থাকেনি হামলাকারী বদরুল। পিছু ধাওয়া করে নার্গিসের মাথা, দেহে উপর্যুপরি কোপায়। আর এ দৃশ্য দেখে উপস্থিত ছাত্রীরা চিৎকার করলে ছাত্ররা এগিয়ে আসেন। তারা আটক করে বদরুলকে পিটুনি দেয়।

পরে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সোমবার সিলেটের এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে আলোচিত এ ঘটনা ঘটে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। নার্গিসের অবস্থা সঙ্কটাপন্ন। সন্ধ্যায়ই তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়েছে। রাত ৯টা পর্যন্ত নার্গিসের শরীরে অস্ত্রোপচার চলছিল। এমসি কলেজের ক্যাম্পাসে এর আগে এতো বর্বরোচিত ঘটনা ঘটেনি। ঘটনায় ক্ষোভ বিরাজ করছে সিলেটে। রাতেই অপারেশন থিয়েটারে নার্গিসকে দেখতে যান সিলেটের সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান, এমসি কলেজের প্রিন্সিপাল নিতাই চন্দ্র চন্দসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সিলেট সরকারী মহিলা কলেজের স্নাতক (পাস) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী খাদিজা বেগম নার্গিসের উপর হামলাকে বর্বব ও পৈচাশিক হামলা উল্লেখ করে কলেজের প্রিন্সিপাল নুরুল ইসলাম বলেছেন, একজন শিক্ষার্থীর উপর এমন হামলা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। এমন বর্বর অপরাধের শাস্তি মৃত্যুদন্ড হওয়া উচিত। মঙ্গলবার দুপুরে খাদিজার উপর হামলার ঘটনায় প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। যদি এ ধরনের ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া না হয়, তবে এর পুনরাবৃত্তি ঘটার সম্ভাবনা থাকে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এলাকাবাসী জানান, তখন বিকেল ৫ টা। চলছে ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা। খাদিজা আক্তার নার্গিস সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী। মহিলা কলেজের কেন্দ্র হচ্ছে এমসি কলেজ। এ কারণে পরীক্ষা দিতে নার্গিস দুপুরে এমসি কলেজে যায়। দুপুর ১ টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সে এমসি কলেজের পরীক্ষা দেয়। পরীক্ষা দিয়ে বের হয়ে এমসি কলেজের ঐতিহাসিক পুকুরপাড়ে দাঁড়িয়ে আরেক বান্ধবীর জন্য অপেক্ষা করছিল।

এ সময় নার্গিসের সঙ্গে আরো কয়েকজন ছাত্রী ছিল। এমন সময় বদরুল বদরুল আলম গিয়ে নার্গিসের সামনে দাঁড়ায়। কোনো কথা না বলেই পেছন থেকে চাপাতি বের করে নার্গিসকে এলোপাতাড়ি কোপানো শুরু করে বদরুল। পরপর দুটি কোপ মাথায় দেওয়া মাত্র বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার শুরু করে নার্গিস। প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ও দেয়।

খানিক দৌড়ানোর পর বদরুল তার শরীরে আরো কয়েকটি কোপ দেয়। উপর্যুপরি কোপানোর কারণে মাটিতে পড়ে যায় নার্গিস। এ দৃশ্য দেখে নার্গিসের সঙ্গে থাকা ছাত্রীরা ভয়ে দৌড়াতে থাকে। তবে, কয়েকজন ছাত্র এগিয়ে আনে। ঘটনার পরপরই বদরুল পালানোর চেষ্টা করলে ছাত্ররা এসে তাকে আটক করে পিটুনি দেন। পরে এমসি কলেজের ফটকে থাকা পুলিশ এসে তাকে আটক করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসে।

আর নার্গিসকে গুরুতর অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। ইমার্জেন্সি বিভাগ থেকে নার্গিসকে দ্রুত পাঠিয়ে দেয়া হয় অপারেশন থিয়েটারে। সন্ধ্যা ৭টায় তার অপারেশন শুরু হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, নার্গিসের মাথায় দুটি কোপ রয়েছে। মাথার দুটি স্থান থেকে অঝোরে রক্ত ঝরছে। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে তার।

এ কারণে তাকে রক্ত দেয়া হচ্ছে। সে আশঙ্কাজনক। চিকিৎসকরা তাকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা যাচ্ছেন। নার্গিসের বাড়ি সিলেট শহরতলীর মোগলগাওয়ের আউসা গ্রামে। তার পিতা মাসুক আহমদ সৌদি প্রবাসী। মা গুরুতর অসুস্থ। তার ওপর হামলার খবর শুনে খালা সাজনা বেগম আত্মীয়স্বজনরা হাসপাতালে ছুটে আসেন। তারা অপারেশন থিয়েটারের সামনে দাঁড়িয়ে আহাজারি করছিলেন।

সাজনা বেগম ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, নার্গিসকে কখনোই তারা একা কলেজে পাঠাতেন না। সব সময় পরিবারের লোকজন কলেজে নিয়ে যেত। পরে এসে বাসায় নিয়ে যেতো। পরীক্ষার সময়ও পরিবারের লোকজন সঙ্গে থাকেন। কিন্তু তার মা গুরুতর অসুস্থ থাকায় নার্গিস একাই কলেজে আসে। হামলাকারী ছাত্রলীগ নেতা বদরুল ইসলামের সঙ্গে নার্গিসের কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানান তিনি।

এদিকে, সিলেট মহানগর পুলিশের দক্ষিণের উপ-কমিশনার বাসুদেব বণিক ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, হামলাকারী একজনই। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গণপিটুনি দেয়ার কারণে তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলাকারী বদরুল সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। তার বাড়ি ছাতক উপজেলায় বলে জানা গেছে।

সন্ধ্যায় যখন হাসপাতালে নার্গিসের দেহে অস্ত্রোপচার চলছিল তখন সেখানে ছুটে যান সিলেটের সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান। তিনি অপারেশন থিয়েটারে গিয়ে নার্গিসকে দেখেন আসেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, মেয়েটিকে একবার দেখে আমি আর তাকাতে পারেনি। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপানো হয়েছে। চিকিৎসকরা তার অস্ত্রোপচার করছেন। তিনি সবার কাছে মেয়েটির জন্য দোয়া চান। বলেন, হামলাকারীর যাতে শাস্তি পায় সে ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। হামলাকারীরা কোনোভাবে ছাড় পাবে না।

সিলেট এমসি কলেজের প্রিন্সিপাল নিতাই চন্দ্র চন্দও সন্ধ্যায় এসে অপারেশন থিয়েটারে মেয়েটিকে দেখে গেছেন। তিনি বলেন, এমসি কলেজের শিক্ষক, ছাত্র সবাই হামলাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চায়। ক্যাম্পাসে পুলিশ ছিল। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় যাতে বিঘ্ন না ঘটে সে ব্যাপারে নির্দেশনা ছিল। হামলাকারী গ্রেপ্তার হয়েছে সেটা ভালো দিক। এখন তার বিচার করতে হবে।
যেভাবে চিকিৎসা চলছে:
মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটে অস্ত্রোপচার শেষে তাকে আইসিইউতে রাখা হয় বলে জানিয়েছেন স্কয়ার হাসপাতালের মেডিসিন অ্যান্ড ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিভাগের কনসালটেন্ট এবং হাসপাতালের অ্যাসোসিয়েট মেডিক্যাল ডিরেক্টর ড. মির্জা নাজিম উদ্দিন। এর আগে বিকেল আড়ইটার দিকে পরিবারের সম্মতি নিয়ে খাদিজার অস্ত্রোপচার শুরু হয়। সে সময় ড. মির্জা নাজিম উদ্দিন জানিয়েছিলেন, ‘খাদিজার মাথায় খুবই জটিল অপারেশন হওয়ায় সেটি শেষ হতে সন্ধ্যা ৬টা বাজতে পারে। তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ‘আজ সকাল খাদিজাকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার অবস্থা খুবই ক্রিটিক্যাল। মাথায় অসংখ্য আঘাত। যে গুলো কোপানোর চিহ্ন। তাকে এমনভাবে কোপানো হয়েছে যে খুলি ভেদ করে ব্রেইন ইনজুরি হয়েছে। কোপানোর সময় হাত দিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করায় তার দুই হাতের রগ কেটে গেছে।’

তিনি আরও জানিয়েছিলেন, ‘তার কন্ডিশন (অবস্থা) খুবই খারাপ। অপারেশনের পরে যদি সে বেঁচে থাকে, তাহলে তাকে আইসিইউ’র ভেন্টিলেশনে রাখা হবে। যাকে আমরা লাইফ সাপোর্ট বলি।’স্কয়ার হাসপাতালের নিউরো সার্জন ডা. এ এম রেজাউস সাত্তারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি দল খাদিজার অস্ত্রোপচার করে।

badrulalam

কে ওই বদরুল: এলাকাবাসী সূত্রে জানাগেছে  খাদিজার ওপর হামলাকারী বদরুলের বাড়ি ছাতক উপজেলায়। সে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। সে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদকও।

bcl+sust

টুকেরবাজার এলাকার একটি বেসরকারি স্কুলে শিক্ষকতা করতো। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কয়েক বছর আগে বদরুল আলম আউশা গ্রামের খাদিজাদের বাড়িতে লজিং থাকতো। ওই সময় খাদিজা তার ছাত্রী ছিল। কিন্তু বদরুল খাদিজাকে প্রায়ই প্রেমের প্রস্তাব দিতো। এতে সাড়া দেননি খাদিজা। বিষয়টি তিনি জানান পরিবারকে। পরবর্তীতে বদরুলকে তাদের বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়। এরপর বদরুল টুকেরবাজার এলাকায় বসবাস করছিল। খাদিজার প্রতি তার নজর ছিল। কলেজে যাওয়ার আসার পথে প্রায়ই বদরুল খাদিজাকে উত্ত্যক্ত করতো।

ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদকের দাবি:  নার্গিসকে দেখতে স্কয়ার হাসপাতালে যান ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন। তিনি বলেন, নার্গিসের চিকিৎসার ব্যাপারে যা করা প্রয়োজন আমরা তাই করবো। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। হামলাকারী সম্পর্কে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, কারো মধ্যে যদি পশুত্ববোধ জেগে ওঠে তাহলে ছাত্রলীগ কী করবে। কারো ব্যক্তিগত অপরাধের দায় ছাত্রলীগ নেবে না। অভিযুক্ত বদরুল আলম এখন ছাত্রলীগের কেউ নয় জানিয়ে তিনি বলেন, অভিযুক্ত বদরুল সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক ছিল। সে ছাতকের আলহাজ আয়েজুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক পদে চাকরি করতো। ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কেউ যদি চাকরি করে অথবা বিয়ে করে তাহলে সে ছাত্রলীগের ওই পদে আর থাকবে না। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তার পদ এমনিই বাতিল হয়ে যাবে। সুতরাং সে এখন ছাত্রলীগের কেউ না।

ভিডিও :

 

ঢাকা, ০৪ অক্টোবর, (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// এএম