[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



৩৪তম বিসিএস প্রতারণা এবং পিএসসি


প্রকাশিত: October 6, 2016 , 11:28 am | বিভাগ: অপিনিয়ন,আপডেট


jinia
জিনিয়া রাইমা : প্রিয় বঞ্চিত নন ক্যাডার, আমিও আপনাদের মত পদ বঞ্চিত প্রার্থী। কিন্তু আমারা যেভাবে facebook/messenger/phone মাধ্যমে প্রতিদিন কিছু পোস্ট পাই যেমন বিকাশ পার্টি বলছে টাকা দাও টাকা দাও অন্যথায় আপনি চাকরি পাবেন না, আমার এই ক্ষমতা আছে সেই ক্ষমতা আছে, এই মন্ত্রণালয়ে ওমুকে তমুক সময়ে একাকী কিছু টাকা দিতে হবে তাহলে সবার চাকরি হবে তাই বিকাশ দাও-১০০০/২০০০/৫০০০০ টাকা ইত্যাদি।

দীর্ঘ এক বছরে টাকার জন্য প্রচুর পোষ্ট পেয়েছেন। বিপুল প্রার্থী নির্দিষ্ট সময় পর পর টাকাও দিয়েছেন নন ক্যাডার চাকরি পাওয়ার জন্য। আজ শূন্য আর খালি হাতে চাকরি আর হল না। জয় বিকাশ পার্টির। আমার খুব খারাপ লেগেছে যখন দেখি কোন এক ভাই এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে সেই টাকা দিছে বিকাশ পার্টিকে কিন্তু টাকা দিয়ে শুধু মিথ্যা আশার বাণী দিনের পর দিন শুনছেন। আমরা বেকাররা কত অসহায়। প্রতিদিন চাকরির নামে বেকারা কত প্রতারণার শিকার হচ্ছি। আমরা খুব বেশী আবেগপ্রবণ হই যখন কেউ চাকরির কথা বলে।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর “লালসালু” উপন্যাস এর চরিত্র আব্দুল মজিদ মূলত গ্রামীণ সমাজের সাধারণ দরিদ্র মানুষের সরলতাকে কেন্দ্র করে ধর্মকে ব্যবসার উপাদানরূপে ব্যবহার করে কিভাবে সমাজের কর্তা ব্যক্ত্বিত হয়ে ওঠেন, সেই কাহিনী আমরা জানি । Majid occurs very extraordinarily making his intention clear that this village is full of foolish and religious illiterates. Majid than starts scolding the villagers that they haven’t took care of the grave of the Mudassir Pir (fake name given by Majid to make his intention come true). And tells them a fake story that the PIR showed him dream that the place where his grave is situated is not taken care and in the place the people are irreligious so he came here to preach Islam. গ্রামে যাতে সুষ্ঠু শিক্ষার প্রয়াস ঘটতে না পারে, তাই শিক্ষিত যুবক আক্কাসেরর স্কুল বানানোর প্রয়াস সে কৌশলে দূর করে, এভাবে নিজের অস্তিত্ব কে টিকয়ে রাখবার জন্য সে কুসংস্কার, শঠতা ও অন্ধবিশ্বাস এর আশ্রয় নেয়,, একজন কিশোরী মেয়ে ২য় বিয়ে করে মেরে ফেলা এবং অনুশোচনায় জর্জরিত হলেও গড়ে তোলে তার মিথ্যার সাম্রাজ্য। (Source: Wikipedia)

আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি আমরা ৩৪ নন ক্যাডাররা লালসালু উপন্যাস এর চরিত্র আব্দুল মজিদের শিকার।

১। আমার বাড়ি প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রীর এলাকায়। আমি জানি উনি আমাদের নেয়ার ব্যাপারে খুব আন্তরিক ছিলেন যেমন আন্তঃ মন্ত্রণালয় বৈঠকের ৩৪তম থেকে নেয়ার সিদ্ধান্ত ফেব্রুয়ারী ২০১৬ তে নিয়েছিলেন। আমরা শিক্ষামন্ত্রীকেও জানি। শিক্ষকের অভাবে প্রচুর স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম। যেখানে পিএসসির মত প্রতিষ্ঠান এই দেশে আছে সেই দেশে বিসিএস পাস করে মেধাবীরা ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চা হয়ে থাকা ছাড়া কি করবে? যেখানে মন্ত্রী সচিব কিছুই করার নাই আর বিকাশ -১০০০/২০০০/৫০০০০ টাকার যোগফল কয়েক লাখ তাদের ঘুষ দিয়ে আমাদের নাকি সবার জব দেবে।

কিন্তু যারা টাকা দিয়েছেন তারা আনেকেই চাকরি পাননি। যারা চাকরি পেয়েছেন, তারা হয়ত অনেকে ভাবছেন ওঝায় সাপের বিষ নেমেছে। কিন্তু এত নিরঙ্কুশ ক্ষমতা আপনারা শুধু fb তে দেখেছেন কিন্তু এমন কাউকে পাবেন না যে নিজ চোখে ক্ষমতা দেখেছেন। সব শোনা কাহিনী, কেউ চোখে দেখিনি। সেই রাখাল বালকের গল্প-বাঘ আর আসে না। আর যেদিন বাঘ আসল সেদিন কিন্তু রাখালের ই ধ্বংসপ্রাপ্ত হল। যাহোক আমর মনে হয় ৩৫তম নন ক্যাডাররা নিজ চোখে কেউ না কেউ এদের দেবতা ক্ষমতা দেখেবে।

তারা আর যাই হোক মিথ্যা টাকার গল্প অন্তত বুজতে পারবে। ৩৫ তম ভাইদের কাছে আমার বিশেষ অনুরোধ আপনারা অনর্থক ভাবে দরিদ্র বেকারদে কাছে বিকাশ নিবেন না। যদি টাকা লাগে অন্ততপক্ষে হিসাব সবাইকে দিবেন। তবে সাবধান নিজ চোখে কেউ না দেখে মিথ্যা বা বানানো কারোও গল্প বিশ্বাস করবেন না। তারা শুধু মিথ্যা গল্প করে যাতে বেশি বিকাশ সংগ্রহ করা যায়। ফেসবুক যে আয়ের ভাল উৎস। একজন যাবে আর এক নতুন প্রতারক আসবে। এ যেন এক নিয়ম হয়ে গেছে।

২। এখন পর্যন্ত কত টাকা বিকাশ সংগ্রহ করা হল তা ঐ আব্দুল মজিদ চরিত্র ছাড়া কেউ জানে না। হিসাব জিজ্ঞাসা করা যাবে না। যেখানে ব্যয় হবে তা রহস্যপূর্ণ। এটা কেউ জানে না। কারন আমি জানি না। আপনি জানেন কি?

৩৪ তম বিসিএস নিয়ে রিটঃ
আমি তাদের স্যালুট জানাই যারা রিট করে দিন রাত কাজ করেছেন। তাদের অনেকে আমি রিট করতে influence করেছি। রিট ৮-১০ জনের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফল। আমি শুনে অবাক হয়েছি যে আব্দুল মজিদ চরিত্রর নাম রিটে নাই কারণ তার রিটে বিশ্বাস নাই। যার নাম রিটে নাই সে আবার ৫০০০ টাকা বিকাশ নেয় সবার আগে। এখানে নাকি কোনো কমিটি নাই, সাব কমিটি নাই। আর টাকার হিসাব? আব্দুল মজিদ চরিত্র ছাড়া কেউ জ়ানে না। জানাও যাবে না কোন দিন হিসাব জিজ্ঞাসা করা যাবে না। যতদিন টাকা তোলার উপায় আছে ততদিন বলবে ৫০০০ টাকা দাও চাকরি নাও। আর কাউকে মাগনা চাকরি দিব না ইতাদি ইতাদি।

তাহলে রিট করতে যে টাকা লাগে সেটা কে দিবে? আপনারাই দিবেন। কিন্ত যেখানে ১০ টাকা লাগে সেখানে কেউ যদি ১০০ টাকা চায় আর দরিদ্র অসহায় ছাত্রদের নিয়ে ব্যবসা করে তা কতটুকু যুক্তিসম্মত? আপনারা অবশ্যই টাকা দিবেন কিন্তু জেনে বুঝে যদি প্রয়োজন হয়। আপনাদের কেউ জ়োড় করে না।

কিন্তু বিকাশপার্টি অভিনব কায়দায় নতুন নতুন প্রতরণায় নেমেছে যেমনটা সোনালী ব্যাংকের রিটে দেখেছি এখানেও দেখছি। এমন কাউকে টাকা দিবেন না যাতে সমাজে নতুন নুতুন আব্দুল মজিদ চরিত্র সৃষ্টি হয়। অবশ্যই টাকার হিসাব থাকা উচিত আর যদি তা না হয় এই প্রতারণা চলছে আরও চলবে। আপনার বিবেক কি বলে?
অনেকে ভয়ে আছেন যে যদি রিট এ positive রায় আসে তাহলে কি হবে? আমি বলছি তখন সবাই চাকরি পাবেন মেধা তালিকা অনুযায়ী। তখন দেখবেন আপনাদের নিয়ে আরও ব্যবসা করবে। আপনাদের উচিত হবে তখন সরাসরি ব্যারিস্টারের সাথে দেখা করে রিট করা অথবা সৎ ব্যক্তিত্ব দিয়ে টাকা খরচ করা/কমিটি গঠন করা।

আমার আত্মবিশ্বাস ৩৪তম বিসিএস নন ক্যাডার নিয়ে পিএসসি যে বেআইনী সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা আদালতে যুক্তি দ্বারা প্রমাণিত হবে। সবার চাকরি হবে। এটা সুস্পষ্ট যে তাদের সাথে অন্যায় করা হয়েছে যেমন পিএসসি কোনভাবে প্রাথমিক স্কুলে ২০০০ নিচে সুপারিশ করতে পারে না। যদি নন ক্যাডার বিধি ২০১০ অনুযায়ী দিত তাহলে ২১০০ জন সুপারিশ পেত আর যদি প্রাথমিক স্কুল শিক্ষক নিয়োগ বিধি ২০১৩ অনুযায়ী দিত তাহলে ২৫ বছর+সবাই চাকরি পেত। রিকুইজিশন থাকার পরেও কেন তারা চাকরি পাবে না। সত্যিই পিএসসি অদ্ভুত।

৩৪তম নন ক্যাডার পদ বঞ্চিত সবার উচিত সবাই এক হয়ে আইনজীবীকে তথ্য আর প্রয়োজনীয় ফি দিয়ে সহযোগিতা করা যা অনেক সময় করা হচ্ছে না।

(এটা আমার নিজস্ব মতামত, আপনি চাইলে উপেক্ষা করতে পারেন। আমি আপনাদের মত শোনা কথা বিশ্বাস করি না)

ঢাকা, ০৬ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//জেএন