[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



বীর উত্তম পরিবারের সম্পত্তি দখলের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন


প্রকাশিত: October 7, 2016 , 9:36 pm | বিভাগ: ক্রাইম এন্ড 'ল


Bangladesh
লাইভ প্রতিবেদক: প্রবীন এক মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলা, অগ্নিসংযোগ, লুট ও দখলরে অভিযোগ উঠেছে এবং সুপ্রীমকোর্টের আদেশ ভঙ্গ করে ওই সম্পত্তির উপর বাড়ি নির্মাণের জন্য উঠে পুরে লেগেছেন ভোলা পৌরসভার মেয়র মনিরুজ্জামান মনির।

এমন ঘটনা দেখা যায় ভোলার পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড নিবাসির বীরউত্তম শাহ আলম ও তার ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা ইউনুছ মিয়ার পরিবারে। এখানে উল্লেখ্য যে, একই পরিবারের দুইজন ব্যাক্তি দেশ মাটি ও মানুষের ভালবাসায় জীবনের সর্বোউচ্চ ত্যাগ করার পরও কি তিনারা বা তাদের পরিবার একটুকু শান্তিতে বসবাসের সুযোগ কি পাবেন না?

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে পরিবারের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মলেন করে এ অভিযোগ করেন ওই মুক্তিযোদ্ধার ছেলে মোঃ সেলিম আহমেদ।

এ সময় তিনি সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানিয়ে বলেন, এই মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে আমরা ন্যায় বিচার এবং সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের হাত থেকে রেহাই পেতে চাই।

লিখিত বক্তব্যে সেলিম জানান, তার বাবা ইউনুছ মিয়া নায়েক সুবেদার থেকে অবসর গ্রহণ করে ১৯৮৫ সালে ভোলাতে একটি সম্পত্তি ক্রয় করনে। বাড়িটি ক্রয় করার পর ভোলা পৌরসভার মেয়র মনিরুজ্জামান মনিরের নেতৃত্বে তাদের নামে বিভিন্ন মামলা দেন।

উক্ত মামলায় তারা জয়লাভ করেন এবং মামলাটি সুপ্রীমকোর্ট পর্যন্ত গড়ালে স্থিতিশীল রাখার আদেশ দেন। সুপ্রীমকোর্টের আদেশ ভঙ্গ করে মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট চালিয়ে জায়গা দখলকরে নেয়।

এদিকে, মামলা দায়েরের পরও প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সদস্যরা শঙ্কায় রয়েছেন। জালিয়াতির মাধ্যমে তাদের ভূমিহীন করার চেষ্টা চলছে বলেও সংবাদ সম্মলেনে অভিযোগ করেন উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধার ছোট সন্তান মোঃ রাজিব।

শুক্রবার বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতি’র চেয়ারম্যান ওসমান গণি ও মহাসচিব মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈসা বলেন, বীরউত্তম শাহ আলম পরিবারের সদস্যরা আজ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সরকারের আমলেই চরম নিরাপত্তাহীনতায় জীবনযাপন করছেন যা গভীর উদ্বেগের বিষয়।

তিনি আরও বলেন, সেখানে এই পরিবার সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়েও সংখ্যালঘুদের মতো জীবন যাপন করছে। ক্রয়কৃত এই সম্পত্তির পাশে শ্রী শ্রী কালীমাতার মন্দিরের নাম ভাঙ্গিয়ে ভূমিদস্যুরা এই পরিবারের উপর চরম নিষ্ঠুরতা প্রদর্শন করছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা ইউনুছ মিয়া ৮৫ বছরে পা রেখেছেন। তিনি চলতেও পারেন না। তার শেষ সম্বল এই বাড়িটুকু যদি কেড়ে নেওয়া হয়, রাস্তায় নামা ছাড়া তার আর কোন উপায় থাকবে না।

এ বিষয়ে সরকারের জরুরি ভিত্তিতে হস্তক্ষেপ করা উচিৎ। তাঁরা মহামান্য রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে এগিয়ে আসার আহ্ববান জানান।

জাতীয় প্রেসক্লাবে ৬ অক্টোবর সাংবাদিক সম্মেলন করার কারণে প্রতিপক্ষ আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ২৪ ঘন্টার মধ্যে ঐ সম্পত্তির উপর বাড়ি নির্মাণ করারও হুমকি দেন। কেউ যদি বাঁধা দেয় তাহলে তাকে হয়তো জীবন নিয়ে ফিরে আসতে পারবে না এমন আশংকাও রয়েছে।

এঘটনায় স্থানিয় প্রশাসন নিরব ভূমিকা পালন করছে। এতে ৮৫ বছর বয়সের বৃদ্ধা বীর মুক্তিযোদ্ধা ইউনুস মিয়ার চেয়ে চেয়ে দেখা, অশ্রু ফেলা ছাড়া আর কোন কিছু করার নেই।

স্বাধীন বাংলাদেশে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ সম্মানদানে বর্তমান সরকার জাতির কাছে অঙ্গিকার বদ্ধ, তাই এই ঘটনার নিষ্পত্তি করে অসহায় বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মানের সাথে তাঁর নিজের সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ঠ সকলের প্রতি আকুল আবেদন জানাই।
ঢাকা, ০৭ অক্টোবর, (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// আইএইচ