[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



খাদিজার জন্যে মসজিদ-মন্দিরে দোয়া-প্রার্থনা (ভিডিও)


প্রকাশিত: October 7, 2016 , 10:53 pm | বিভাগ: এক্সক্লুসিভ,ক্যাম্পাস,সিলেটের ক্যাম্পাস


khadija-fameli

আশরাফুল ইসলাম শান্ত, সিলেট: মা তুই সুস্থ হয়ে উঠো। তোর জন্যে আমরা গরু, খাশি মান্নাত করেছি। সদকা দিচ্ছি। তোর মুখে আমরা আবারও হাসি দেখতে চাই। তোকে তোর চাচার সাথে বেবিতে করে কলেজে যেতে দেখতে চাই। কবে ফিরবি মা। আমরা তোর পথপানে চেয়ে আছি। এভাবেই গ্রামবাসি ও খাদিজার মা কাঁদছেন আর বিলাপ করছেন। সিলেটের মসজিদ, মন্দির আর গির্জায় খাদিজার জন্যে দোয়া ও প্রার্থনাও হয়েছে শুক্রবার।

মর্মান্তিক এমন খবর শোনার পর স্বজনরা শুত্রবারও খাদিজাদের বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন। কেউ কেউ কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। আবার কেউ কেউ দুই হাত তুলে খাদিজার সুস্থতা কামনা করে মোনাজাত করছেন। অনেকেই কোরআন পড়ছেন। তাসবিহ-তাহলিল পড়ছেন তাদের প্রিয় খাদিজার জন্যে। শুক্রবার ওই এলাকার সকল মসজিদে মসজিদে খাদিজার জন্যে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

হাউসা গ্রামের আবদুল্লাহ জানান, আমাদের গ্রামের প্রতিটি মানুষ খাদিজার জন্যে দোয়া করছেন। হিন্দু-মুসলমান সকলেই। তিনি সুস্থ হয়ে আবারও আমাদের মাঝে আসবে বলে তার বিশ্বাস। এজন্যে অনেকেই বিভিন্ন জিনিষ মান্নাত করেছেন। রোজা রাখছেন গ্রামের অনেক বৃদ্ধ মহিলা।

mother of kadiza
চাচাতো ভাইয়েরা ব্যক্তিগত কাজে শহরে এসে জানতে পেরেছিলেন তাদের বোন খাদিজা আক্তার নার্গিস হামলার শিকার হয়েছেন। যে হামলার খবর পৌঁছে গেছে সারাবিশ্বে। প্রথমে এই খবরটি খাদিজার মা’কে জানাতে চাননি তারা। কিন্তু হামলার পরপরই যখন সাংবাদিকরা খাদিজার বাড়ি যাওয়া শুরু করলেন, তখন এই খবরটি আর চেপে রাখা যায়নি।

খাদিজার গ্রামের বাড়ি হাউসায় গিয়ে দেখা গেছে, খাদিজার মা মনোয়ারা বেগম বার বার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। বাবা মাসুক মিয়া সৌদি আরবে অবস্থান করলেও মোবাইলে তিনিও কান্নাকাটি করছেন। আর বারবার বলছেন ‘যত টাকা লাগুক, খাদিজাকে যেখানে নিয়ে গেলে সে ভালো হবে সেখানে নেয়া হোক। যত টাকা লাগবে আমি দেব। এমন কথা বলছেন আর বিলাপ করছেন বাবা মাসুক মিয়া।

গণমাধ্যম কর্মীদের মাধ্যমে খাদিজার মা মনোয়ারা বেগম তার মেয়ের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে বলেন, আমার কলিজার টুকরার ওপর হামলাকারী বদরুলের ফাঁসি চাই। খাদিজার তিন ভাই। এক মাত্র বোন তিনি। বড় ভাই শাহীন আহমদ চীনে এমবিবিএস পড়ছেন। ছোট দুই ভাইয়ের মধ্যে সালেহ আহমেদ সিলেট সেন্ট্রাল কলেজে পড়ছেন। সবার ছোট ভাই জুবায়ের স্থানীয় একটি মাদরাসায় দ্বিতীয় শ্রেণিতে অধ্যয়নরত।

এদিকে বর্তমানে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে খাদিজা চিকিৎসাধীন। অপারেশনের পর চিকিৎসকরা তাকে ৭২ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। এ ঘটনায় বদরুলকে একমাত্র আসামি করে শাহপরান থানায় খাদিজার চাচা আব্দুল কুদ্দুস বাদী হয়ে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেছেন।

ওদিকে গত বৃহস্পতিবার চিকিৎসকরা জানালেন, খাদিজার সর্বশেষ অবস্থা জানা যাবে শনিবার। এ খবর প্রচারের পর থেকে সবার মুখে একটিই প্রশ্ন, খাদিজার কী খবর? তিনি ভালভাবে বাড়ি ফিরবেন তো? কবে আসবেন তিনি? সিলেটের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনরত অবস্থায় মাঠে রয়েছে। এলাকাবাসী মোবাইলে, বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকায় চোখ রাখছেন। সর্বশেষ তথ্য জানার চেষ্ঠা করছেন সকলেই।

masuk mia f kadiza

সিলেটের প্রবেশদ্বার কীনব্রীজ থেকে শুরু জিন্দাবাজার, আম্বরখানা, সুবিদবাজার, মদিনা মার্কেট, টিলাগড়, এমসি কলেজ ক্যাম্পাসসহ সকল জায়গাতেই খাদিজার সর্বশেষ খবর নিচ্ছেন স্থানীয় মানুষ। শহরের আনাছে-কানাছে, অলিতে-গলিতে, চায়ের দোকানে সর্বত্রই একই আওয়াজ, একই রব। খাদিজার খবর টিভিতে দেখার জন্য কেউবা রিমোট চেপে এক চ্যানেল থেকে অন্য চ্যানেলে যাচ্ছেন। বার বার ফোন বাজলেই প্রথমে জানতে চান কি খবর খাদিজার।

প্রসঙ্গত, গত সোমবার বিকেলে দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা দিতে এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে গিয়েছিলেন সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ডিগ্রির (পাস) ছাত্রী খাদিজা। পরীক্ষা দিয়ে বেরিয়ে আসার সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে জখম করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক বদরুল আলম (২৭)।

ভিডিও: সিলেটের কলেজছাত্রী খাদিজার বাবার বক্তব্য, সৌদি আরব থেকে।

 

ঢাকা, ০৭ অক্টোবর, (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// এএসটি