[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



মেডিকেল ভর্তি: ডিভাইসের তথ্য, সচ্ছতা আর জবাবদিহিতাই পুঁজি


প্রকাশিত: October 11, 2016 , 12:03 pm | বিভাগ: ইন্টারভিউ


prof azad

মেডিকেলে ভর্তি। অনেকটাই সোনার হরিণ। কে না চায় ধরতে। কিন্তু ধরা দুস্কর। কষ্টসাধ্য। তবে চলচাতুরী, তদবীর, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠে প্রতি বছরেই। প্রশ্ন উঠে জাল জালিয়াতির। কিন্তু এ থেকে বেরিয়ে আসতে চায় সংশ্লিস্টরা। তাদের সাফ কথা আমরা সচ্ছতা আর জবাবদিহিতাকেই প্রাধান্য দিব। যাতে সব কিছু হয় ফেয়ার এদিকটা রয়েছে আমাদের সকলের আবেগ আর অনুভূতিতে। প্রফেসর ডা. আবুল কালাম আজাদ ক্যাম্পাসলাইভকে জানালেন, এটি ডি ভাইস কিভাবে পথ চলাতে সহায়তা করছে। জালিয়াত চক্র ও প্রতারকদের ধাপ্পাবাজি রোধেই এই ব্যবস্থা চালু করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়। আমাদের মন্ত্রী মহোদয় সরাসরি মনটরিং করছেন প্রতিটি কাজ। এই সাক্ষতকারটি নিয়েছেন আমাদের লাইভ প্রতিবেদক তামিম চৌধুরী:

এক আলাপচারিতায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক প্রফেসর ডা. আবুল কালাম আজাদ জানালেন, পরীক্ষা শেষের পর প্রশ্নপত্রবাহি গাড়িটিও আমরা মনিটরিং করেছি। শুধু তাই নয়, গাড়িটি কোথায় অবস্থান করছে, কোন পথ দিয়ে যাচ্ছে, কোন স্থানে কতটুকু দেরি করছে তাও মনিটরিং করা হয়। গাড়িটি কিভাবে যাচ্ছে কোথায় যাচ্ছে সবই ছিল আমাদের জানা।

মহাপরিচালক ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, আমরা কাউকে কোন শিথিলতার সুযোগ দেব না। মন্ত্রীমহোদয় আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার আগে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্যরাতের ঘটনা। (কর্মকর্তাদের তিনি জানতে চান) ‘এই গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে কেন? স্যার, এই যে দেখেন, গাড়ি সিগন্যালে আটকা পড়েছে। স্যার, ড্রাইভার একটু চা খেতে চায়, আমরা কি চা খেতে পারি? আচ্ছা, ঠিক আছে, চা খেতে আবার অনেক সময় নিওনা।’ এভাবেই লক্ষ্য রাখা হয়েছিল।

প্রফেসর আজাদ বলেন, প্রশ্নপত্র বহনকালে যেখানেই গাড়ি থেমেছে সেখানেই লাল বাতি জ্বলে উঠেছে। প্রতি পাঁচ সেকেন্ড পর পর সিলগালা প্রশ্নপত্রের ট্রাংকের অবস্থান জানাতো ডিভাইস। আমরা সতর্ক অবস্থানে ছিলাম।

তিনি আরও জানান, ম্যাজিষ্ট্রেট ও সংশ্লিষ্ট সরকারি মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল ও তাদের প্রতিনিধি ছাড়াও স্বাস্থ্য অধিদফ্তরের একজন করে কর্মকর্তা প্রতিটি গাড়িতে দেয়া হয়। প্রতিটি গাড়িতে একটি করে স্মার্ট ফোন দেয়া হয়। ইমো ও ভাইবারের মাধ্যমে গাড়িতে অবস্থানকারীরা প্রশ্নপত্র ভর্তি ট্রাংক, যাতায়াতকারী রাস্তার ভিডিও দেখাতেন।

স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা গ্রহণের সাফল্য সম্পর্কে প্রশ্ন করলে প্রফেসর আজাদ বলেন, সকলের সদিচ্ছা, সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারই ছিল এবারের স্বচ্ছ ও বিতর্কহীন মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণে সাফল্যের মূল কারণ। এর বাইরে আমাদের চেষ্টা তো রয়েছেই।

তিনি জানান, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের নির্দেশনায় এবার ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণের আগে থেকেই দেশের স্বাস্থ্য সেক্টরের সৎ, দক্ষ ও অভিজ্ঞ সিনিয়র প্রফেসরদের সমন্বয়ে প্রশ্নপত্র প্রণয়নে মডারেটর নিয়োগ করা হয়েছিল। তারা ভাল ভাবেই তাদের দায়িত্বপালন করছেন।

সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা গ্রহণের লক্ষ্যে গঠিত হয় ভর্তি পরীক্ষা কমিটি অনেক সতর্ক ছিল। এ কমিটিতে বিএমডিসি ও বিসিপিএসের প্রতিনিধি সংযুক্ত করা হয়। এছাড়া দেশের খ্যাতনামা লেখক, সাংবাদিক, চিকিৎসক নেতাসহ সকলের সমন্বয়ে ওভারসাইট কমিটি গঠিত হয়।

তিনি আরও বলেন, শুধু তাই নয়, সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা গ্রহণের লক্ষ্যে স্বাস্থ্য অধিদফ্তর, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, মডারেটর ও ওভারসাইট কমিটির সদস্যদের সমন্বয়ে পৃথক চারস্তরের পরীক্ষাকেন্দ্র তদারকি কমিটি গঠন করা হয়। প্রতিটি টিম সরেজমিন পৃথকভাবে পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন করে একটা সুন্দর পরিবেশ তৈরী করে দিয়েছেন। তিনি জানান, এবার ভর্তি পরীক্ষার ওএমআর শিটও দুটি বিশেষজ্ঞ গ্রুপকে দিয়ে ওএমআর মেশিনে স্ক্যানিং করা হয়। দুটি গ্রুপের স্ক্যানিংয়ের ফল যখন মিলে যায় তখনই ফল প্রকাশ করা হয়। সম্পূর্ণ বিতর্কহীনভাবে পরীক্ষা গ্রহণ ও ফলাফল প্রকাশিত হওয়ায় তিনি খুব খুশি।

মহাপরিচালক জানান, বিগত বছরগুলোতে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি সংঘবদ্ধ চক্র প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ও প্রশ্নপত্র বিক্রির অফার দিয়ে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের প্রলুব্ধ করতো।

এবছর বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নজরদারি করেছেন পুরো প্রক্রিয়াটি। এছাড়া অধিদফতর থেকে এ ধরনের খবর পেলে অবহিত করতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রদান করে টেলিফোন ও মোবাইল নম্বর দেওয়া হয়।

প্রফেসর আজাদ জানান, এবার অধিদফতর, মন্ত্রণালয়, মডারেটর, ওভারসাইট কমিটি ছাড়াও শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরাও অনেক সচেতন ছিলেন। ফেসবুকে নানা অফার সংক্রান্ত ব্যাপারে ২৬/২৭ জন অভিভাবক অধিদফতরে টেলিফোন ও মোবাইল করে তথ্য দেয়। সেই তথ্যের ভিত্তিতে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যবস্থা নিয়েছেন।

আমার বিশ্বাস সচ্ছতা আর জবাবদিহিতা আ আন্তরিকতা থাকলে যে কোন কঠিন কাজ সহজেই করা সম্ভব। এই কৃতিত্বের দাবিদার সকলে এবং ভর্তি পরীক্ষাগ্রহণ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত সকলকে তিনি আন্তরিক মোবারকবাদ ও ধন্যবাদ জানান।

স্যার, আপনাকে ধন্যবাদ,
ক্যাম্পাসলাইভকেও ধন্যবাদ

 

ঢাকা, ১১ অক্টোবর, (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// এএম