[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



গার্মেন্টস কর্মী থেকে যে ভাবে রাসেল ঢাবি শিক্ষার্থী


প্রকাশিত: October 11, 2016 , 6:20 pm | বিভাগ: এক্সক্লুসিভ,কলেজ,ঢাকার ক্যাম্পাস


du st+ garments

রফিক মজিদ, শেরপুর: অভাবের সংসার। ভাই বোন নিয়ে বাবা-মায়ের সাথে বসবাস। দিনমজুর বাবা যা আয় করেন সে আয় দিয়ে কোন রকমে চলে তাদের পরিবার। শুধু তাই নয় সীমান্তের হাতির অত্যাচারে গৃহহারাও হয়েছে তার পরিবার। বর্তমানে রাসেল ও তার পরিবার থাকেন চাচার আশ্রয়ে। অভাবের তাড়নায় বড় ভাই শেরপুর ছেড়ে কাজ নেন গাজিপুরে । টানাপোরেনের সংসার থেকেই চুকিয়ে চুকিয়ে পড়া শুনা করে এসএসসি পাশ করেন রাসেল। পরিবারের সিদ্ধান্তানুযায়ী পড়া শুনাছেড়ে যোগ দেন গার্মেন্টসে। আর হয়তো পড়াশনা হবেনা।

রাসেল জানালেন, ২০১৪ সালে এসএসসি পরীক্ষায় শমশ্চুড়া উচ্চবিদ্যালয়ের মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পাওয়ার পরও খুশি হতে পারেনি রাসেল। কারণ ভালো কলেজে ভর্তি এবং আরো পড়াশোনার জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন। যা তার দিন মজুর পিতার পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। তাই সে এসএসসি’র ফলাফল প্রকাশের আগেই অভাবের তাড়নায় অনেকটা পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে ময়মনসিংহের ভালুকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ নেন।

মেধাবী রাসেলে দুরাবস্থার কথা জেনে যান স্থানীয় এক হৃদয়বান মানুষ। তার নাম হাকিম। তিনি কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যায়ের এক শিক্ষার্থীর মাধ্যেমে দরিদ্র ও অসহায় শিক্ষার্থী উন্নয়ন সংস্থা’র প্রতিষ্ঠা পরিচালক সেনা সদস্য শাহিন মিয়ার নজরে আনেন। শাহিন মিয়া রাসেলকে অনেক বুঝিয়ে এবং সহযোগীতার আশ্বাস দিয়ে তার প্রতিষ্ঠিত সংগঠন ‘ডপ্স’ এর সহযোগীতায় গার্মেন্টস থেকে ফিরিয়ে এনে ভর্তি করেন শেরপুর সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে।

রাসেল এবার জিপিএ-৫ পেয়ে ‘ডপ্স’ এর সহযোগীতায় তাকে ঢাকায় একটি ভার্সিটি কোচিং সেন্টারে ভার্তি করে দেয়া হয়। পরে গত ২৩ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের খ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় ৭১৭ নন্বরে উর্ত্তীন হন রাসেল।

রাসেলের গ্রামের বাড়ি নালিতাবাড়ি উপজেলার পশ্চিম শমশ্চুরা গ্রামের সীমান্ত এলকায়। ২০০৫ সালে এক দল বন্য হাতির আক্রমণ চালিয়ে বন বিভাগের জমিতে তোলা তাঁদের ঘরবাড়ি তছনছ করে দেয়। পরে সেখান থেকে তারা চলে যায় ওই গ্রামের পাশ্ববর্তী চাচার বাড়িতে। এখানে তার মা, বাবা এবং ৪ ভাইবোন নিয়ে দিন মজুরের কাজ করেন রাসেলের বাবা ইজ্জত আলী।

এলাকবাসী জানান, ভাইবোনদের মধ্যে সবাই পড়াশোনা করেন। রাসেলের বাবার একার পক্ষে সংসারের খরচের পাশপাশি পড়াশোনার খরচ জোগানো সম্ভব হয় না। রাসেলের বড় ভাই জুয়েল গাজিপুরে একটি প্রাইভেট পলিটেকনিক কলেজে ভর্তি হয়েছে। তার পড়াশোনার খরচ জোগাতে সেখানে একটি টেক্সটাইল মিলে চাকুরি করছেন সে। রাসেলের ছোট বোন গ্রামের শমশ্চুরা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি এবং আরেক বোন জেএসসি পরীক্ষা দিবে।

রাসেল এ পর্যন্ত দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে পড়াশোনা চালিয়ে এসেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগও পেয়েছেন। কিন্তু ভর্তি হওয়ার মতো টাকা নেই অদম্য মেধাবী ছাত্র রাসেল মিয়ার। তাই তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার স্বপ্ন পূরণ হবে কি না, তা নিয়ে তাঁরা শঙ্কায় আছেন।

রাসেল বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ হলেও ভর্তি হতে যে টাকা লাগবে, তা তাঁর পরিবারের নেই এবং তার স্বপ্ন পুরণে এখন চিন্তায় আছি।
রাসেলের বাবা ইজ্জত আলী ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ। হাতে কোনো টেহা-পইসা নাই। কেমনে কী করমু, বুঝতাছি না।’

‘ডপ্স’ এর পরিচালক সেনা সদস্য শাহিন মিয়া বলেন, ‘সমাজের সহৃদয় ও বিত্তবান মানুষের একটু সহযোগিতা পেলে রাসেলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির স্বপ্নপূরণ হবে।’

 

ঢাকা, ১১ অক্টোবর, (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// এএম