[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



গরু খোঁজা


প্রকাশিত: October 11, 2016 , 9:17 pm | বিভাগ: অপিনিয়ন,ক্যাম্পাস,সিলেটের ক্যাম্পাস


mohsina jannat+sust

মুহসীনা জান্নাত যুথি: আমাদের দেশে গবেষনায় আগ্রহী অনেকেরই কমন সমস্যা হলো, জানার আগ্রহ, করার আগ্রহ থাকা স্বত্ত্বে সঠিক নিয়মের জ্ঞান আর দিক নির্দেশনার অভাব।

কি কাজ করব, কিভাবে করব, টপিক সিলেকশন থেকে শুরু করে লিটারেচার রিভিউর সঠিক নিয়ম, কিভাবে একটা আর্টিক্যাল পড়তে হবে, কোন্ কোন্ জিনিসগুলোর উপর জোর দিতে হবে, কোয়েশ্চনিয়ার কিভাবে রেডি করতে হবে, ডাটা কালেকশনের সহজ নিয়ম, কিভাবে লেখার মান বাড়ানো যায় এসব জানার ইচ্ছা গবেষকদের থাকেই। আমরা তখন অমুক তমুককে জিজ্ঞেস করি – এটা কিভাবে করব? ওটা কিভাবে করব? এতে করে যেটা হয়, তা হলো রিসার্চের ভাসা ভাসা একটা জ্ঞান তৈরি হয়। আমাদের কিন্তু স্পষ্ট কোন ধারণাই থাকেনা।

ফলাফল হয় আমরা তখন গরু খুঁজতে গিয়ে ছাগল কিংবা ভেড়া খুঁজে নিয়ে আসি! সেই ছাগল বা ভেড়াও আবার ঠিকমত দাঁড়াতে পারেনা!

কোর্স হিসেবে সব ফিল্ডের স্টুডেন্টদেরই দু’টা বা তিনটা রিসার্চ কোর্স, স্ট্যাটিস্টিক্স, ইকোনমেট্রিক্স কোর্স করতে হয়, রিসার্চ পেপার বা সেমিনার পেপার করতে হয়। তখন দিকনির্দেশনার জন্য কোর্স টিচার থাকেন, সুপারভাইজার থাকেন। যিনি সাপোর্ট দেন, রিসার্চ দুনিয়ার দরজা খুলে আগ্রহীদের স্বপ্ন দেখান। যারা এই দিকে আগ্রহী তারা ওই কোর্সটা বা সেমিনার শেষ হয়ে গেলেই দিক নির্দেশনার অভাবে পড়েন।

মাঝে মধ্যে এক দু’টা ওয়ার্কশপে অংশ গ্রহন করার সুযোগ পাওয়া যায় হয়তো। একই রকম চিন্তাভাবনার মানুষের দেখা মেলে তখন। যাদের সাথে কথা বলে সেই একটা জিনিসেরই অভাব বোধ হয় যে, বাকিটা জানব কোথা থেকে! আর ওয়ার্কশপগুলোতে একসাথে এতোসব জিনিস নিয়ে আলোচনা হয় যে, কোনটা ছেড়ে কোনটা মাথায় রাখবেন সেটাই মহা মুশকিল মনে হবে!

তাই সেল্ফ স্টাডির প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। নিজে নিজে খুঁজে, শিখে, সেটা প্রয়োগ করার মাঝে যে আনন্দ সেটা আর অন্য কিছুতে পাওয়া সম্ভব নয়। আর এজন্য দরকার গবেষণার আগ্রহ ধরে রাখা।

আমাদের দেশে রিসার্চ করার বাঁধা এতো বেশি যে, কিছুদূর গিয়ে হাল ছেড়ে দেয়াটা অস্বাভাবিক কিছু না। আমাদের না আছে পর্যাপ্ত দিকনির্দেশনা, না আছে সুযোগ-সুবিধা। যেটা আছে সেটা হলো অন্য কারো লেখা কপি করা, পাশ করার জন্য, স্কলারশিপের জন্য নামে মাত্র পেপার তৈরি করা যেগুলোর কোয়ালিটি থাকে খুবই নিম্নমানের। এটার দোষও অবশ্য দেয়া যায়না কাউকে কারণ আপনি জানতে চাচ্ছেন ঠিকই কিন্তু একটা নির্দিষ্ট সীমায় গিয়ে দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে আবার ফিরে আসছেন। ওই সীমার বাইরে জানার উপায় পাচ্ছেন না।

তবে আশার কথা হলো, বর্তমানে কিছু কিছু গবেষকের প্রচেষ্টায় বাংলাভাষাতেই অল্প কিছু বই বের হয়েছে। রকমারি ডট কমে গবেষনা রিলেটেড বই সার্চ করলে বাংলাদেশি লেখকদের কিছু বই পাওয়া যায়, যা কিছুটা হলেও শান্তনা।

সম্প্রতি রাগীব হাসানের ‘গবেষনায় হাতেখড়ি’ বইটা পড়লাম। রিসার্চের অনেক কিছু সহজভাবে লিখেছেন। যদিও খুব অল্প করে ব্যাখ্যা দেয়া তবু বইটা পড়ে ভালো লেগেছে। এই বইতেই পেলাম গবেষনায় সফল হতে হলে প্রথম ও প্রধান যে জিনিসটি আপনার মানসিকতায় থাকতে হবে তা হলো ধৈর্য এবং লেগে থাকার ক্ষমতা। আসলেই তাই। বিশেষ করে আমাদের দেশে রিসার্চ হলো একধরনের ধৈর্য পরীক্ষা। নিয়মকানুনের বাঁধা, ফান্ডের অভাব, বইপত্রের অভাব, জটিলতা, ব্যর্থতা, সর্বোপরি “ধ্যাৎ! কিছুই জানিনা আমি!” এরকম হীনমন্যতা, আবার সব কাজ শেষে এমনও হতে পারে যে আপনার পুরো পেপারটাই কেউ কপি করে ফেলতে পারে! এসব নানাকারণে হতাশা আসবেই। যেটার কারণে রিসার্চের আগ্রহ হারিয়ে হাল ছেড়ে দেয় অনেকেই। যা খুবই বাস্তব ও যুক্তিসংগত।

বাইরের দেশের সবাই রিসার্চের দিক দিয়ে কতো আগানো। আর আমাদের মাস্টার্স করা অনেক ছাত্রের কাছেও রিসার্চ মানে হচ্ছে কপি পেস্ট আর পাই চার্ট। আর সেই পাই চার্টও সবাই নিজে বানাতে পারেনা, অমুক তমুককে দিয়ে ট্রিটের বদলে করিয়ে নেয় অথবা ভার্সিটি গেইটের দোকান অথবা নীলক্ষেতের ফটোকপির দোকান তো আছেই! যেখানে যেকোন টপিকের উপর পেপার রেডি করে দেয়ার রমরমা ব্যবসা চলে। বাইরের দেশের ইউনিভার্সিটি লাইব্রেরীর একজন কম্পিউটার অপারেটরের জ্ঞান আমাদের পাশ করা ছাত্রদের থেকে তাই অনেক বেশি। আর ওদের পাশ করা ছাত্রদের কথা আর নাই বললাম। কারণটা হচ্ছে ওদের সুযোগ-সুবিধা, জানার আগ্রহ যার কোনটাই আমাদের নেই।

নিত্য নতুন কত হেল্পিং ম্যাটেরিয়ালের নাম শুনি। খধঞবী, LaTex, BibTex, EndNote, Zotero, ডাটা এনালাইসিসের কতো কতো সফটওয়ার, ইউটিউবে টিউটোরিয়াল, শেখার জন্য কতো কতো ওয়েব সাইট…

গুগল নামে আমাদের ইউনিভার্সাল হেল্পিং হ্যান্ড না থাকলে রিসার্চ করার উপায় আসলেই থাকতোনা আমাদের। তবু সবকিছুর পরেও সেল্ফ স্টাডির কোন বিকল্প নেই আসলে। আর সেজন্য চাই বই। ইন্টারনেটে শত শত ওয়েবসাইট ঘাঁটা, টিউটোরিয়াল দেখে শেখার পাশাপাশি হাতে একটা বই থাকা জরুরি। যেটা শেখানোর পাশাপাশি মনোবলও জোগায়।

সবশেষে শুভকামনা রইলো গবেষনায় আগ্রহীদের প্রতি। আগ্রহ ধরে রাখুন। নতুন কিছু জানা ও সেটার বাস্তব প্রয়োগেই গবেষণার যত আনন্দ। কোন বাঁধা বিপত্তিই যেন আপনার আগ্রহকে দমাতে না পারে।

“জানতে চাই, শিখতে চাই, করতে চাই,
উপায় একটা হবেই হবে, নিশ্চয়ই্”
এই শ্লোগানেই চলতে থাকুক সবার গরু খোঁজার প্রয়াস.

লেখক: মুহসীনা জান্নাত যুথি, থিসিস স্টুডেন্ট, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট।

 

ঢাকা, ১১ অক্টোবর, (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// এএম