[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



যে ভাবে ছাত্রীদের গোপন ভিডিও ফাঁস করতো ‌’ডিএসইউ’


প্রকাশিত: October 14, 2016 , 11:21 am | বিভাগ: আপডেট,ক্রাইম এন্ড 'ল


 

porno

লাইভ প্রতিবেদক: নানা কায়দা কৌশলে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীদের ভিডিও ফাঁস করতো একটি চক্র। অন্যের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে পর্নোগ্রাফি,লাইভ পর্নোসহ যৌনতার বিকৃতি প্রচার করতো। মাঝে মধ্যে বিভিন্ন কারণে অকারণে ফাসিঁয়ে দেয়া হতো নিরিহ লোকদের। একটি শক্তিশালী সাইভার অপরাধ কর্মীরা এই কাজ করে আসছিল দীর্ঘদিন থেকেই। এরা আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার করে আসছে ডেসপারেটলি সিকিং আনসেনসরড (ডিএসইউ) নামে একটি ফেসবুক গ্রুপ খুলেই এই অপকর্ম চালাতো। তারা বিশিষ্ট ব্যক্তি ও দেশের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্রীদের ব্যক্তিগত ভিডিও ফাঁস করতো। এদের সঙ্গে দেশী বিদেশী একটি চক্র কাজ করতো। তথ্য প্রযুক্তিতে খুবই পারদর্শি এই গ্রুপের এডমিনরা।

পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্রে জানাগেছে এই গ্রুপের সদস্য সংখ্যা ১ লাখ ২২ হাজারের অধিক। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশের মেয়েদের প্রতি তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহার করে সাইবার অত্যাচার চালিয়ে আসছিল গ্রুপটি। ডেসপারেটলি সিকিং আনসেনসরড নামের গ্রুপের সকলেই কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এদেরকে কারা অর্থ যোগান দিত, কোন সাইভার ক্রাইম চক্রের সঙ্গে তাদের যোগযোগ, তাদের এডমিনদের বিস্তারিত পরিচয় জানতে ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছে গোয়েন্দারা। তারা খতিয়ে দেখছেন এই চক্রটির নেপথ্যের নায়কদের বিষয়টি। ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপের কয়েকজন সদস্য ওই ডিএসইউ এর সাধারণ সদস্যদের বিষয়েও তথ্য তালাশ শুরু করেছেন।

dse33

যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) আব্দুল বাতেনআব্দুল বাতেন ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, গ্রুপটিতে ১৮/২০ জন রয়েছে শুধু এডমিন দেখার জন্য। মালয়েশিয়া থেকে রাহুল চৌধুরীই মূলত এই ফেসবুক গ্রুপটি পরিচালনা করে আসছে। তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা ওই রাহুল চৌধুরীর ব্যাপারে তদন্ত শুরু করছে।

তিনি জানান, অবাধে ব্যক্তিগত আক্রমণ, লাইভ পর্নোসহ যৌনতার বিকৃত প্রচার করতো। তারা যে কোনো অপরিচিত মানুষের ছবি, গোপনে ধারণকৃত ভিডিও লিংক ফেসবুকে শেয়ার করে তাতে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে। এদের দ্বারা সমাজের প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি, শিল্পপতি, ব্যবসায়ী, খেলোয়ার, মডেল, অভিনেতা, অভিনেত্রী থেকে শুরু করে সাধারণ জনগণ অনলাইনে লাঞ্ছনার শিকার হচ্ছেন হর-হামেশা।

ডিএমপি কর্মকর্তা আরও জানান, আমরা জানতে পেরেছি, এই কাজে তাদের একটি বিশাল ওয়েবসাইট রয়েছে। ইদানিং এই গ্রুপটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ পড়ুয়া এক ছাত্রীর ব্যক্তিগত ভিডিও অনলাইনে ফাঁস করে দেয়। মেয়েটির পরিচয় ও তার ভিডিওর লিংক এক লাখ বাইশ হাজার সদস্যের এই বিশাল গ্রুপ হতে একের পর এক শেয়ার হয়ে ফেসবুকে মূহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।

তোলপাড় শুরু হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েটসহ আশে পাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে। ওই ছাত্রীটির অভিযোগের পর থেকেই কাজ শুরু করেন ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপ। তিনি আরো বলেন, ফেসবুক পেজটি বন্ধ করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ডিএসইউর মূল ওয়েবসাইট বন্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

rape44
এসব নানান অভিযোগে ওই গ্রুপের সক্রিয় তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তথ্য প্রযুক্তি অপব্যবহারের দায়ে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপ তাদের গ্রেফতার করে। গত বুধবার দুপুরে কলাবাগান থানার গ্রিন রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় জুবায়ের আহম্মেদ (২১), তৌহিদুল ইসলাম অর্নব (১৯) ও মো. আসিফ রানা (১৮) নামে ডিএসইউর তিন অ্যাডমিন সদস্যকে। এ সময় তাদের কাছ থেকে কম্পিউটার হার্ডডিস্ক ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

dse-Arnob+Xobair+Asif
তিনি বলেন, গ্রুপটির বিরুদ্ধে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু করে কাউন্টার টেরোরিজম। প্রাপ্ত গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গ্রুপের এডমিনের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের গ্রেফতারে অভিযান পরিচালিত হয়। গতকাল দুপুর পর্যন্ত ঢাকার কলাবাগান থানাধীন গ্রিন রোডের পান্থপথের ১৫২/৭ নম্বর বাড়ির ষষ্ঠ তলার ফ্ল্যাটে অভিযান পরিচালনা করে তিন এডমিনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাচ্ছে বলে একটি দায়িত্বশীল সূত্রে জানা যায়।

 

ঢাকা, ১৪ অক্টোবর, (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এএসটি