[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



ভর্তি ফি শিক্ষকদের মধ্যে বন্টন হয় : ড. জাফর ইকবাল


প্রকাশিত: October 18, 2016 , 3:07 am | বিভাগ: আপডেট,এডমিশন,পাবলিক ইউনিভার্সিটি


jafor-ikbal

শাবি লাইভ : জনপ্রিয় লেখক ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রফেসর ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেছেন ভর্তি পরীক্ষার আবেদনের টাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের মধ্যে বন্টন হয়। এভাবে শিক্ষকদের অধিক আয় করার ইচ্ছার কারণে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের উপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়।

শুধু শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় নায় অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্রও একই রকম। শিক্ষকদের আয় কমে যাবে তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

ভর্তি ফরমের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবিতে শাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সোমবার নানা বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ড. জাফর ইকবাল।

তিনি বলেন, একাডেমিক কাউন্সিলে যদি আমি উপস্থিত থাকতাম তাহলে নিশ্চিতভাবে শাবিতে ভর্তি ফরমের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতাম। এতেও ফরমের মূল্য কমাতে না পারলে কাউন্সিল থেকে নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে চলে আসতাম।

উল্লেখ্য, শাবিতে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে ভর্তির আবেদনের জন্য বিভিন্ন অনুষদ ভেদে ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত এ মূল্য ছিল অনুষদ ভেদে ৭৫০ থেকে ৯০০ টাকা; ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষে ছিল ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা।

ভর্তির আবেদনের বর্ধিত মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে গত ১২ অক্টোবর থেকে আন্দোলনে রয়েছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

ড. জাফর ইকবাল বলেন, এখন ভর্তিচ্ছুরা মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে আবেদন করছে, তাই খরচ আগের তুলনায় অনেক কম।

আমি কোনোভাবেই মানতে পারব না শুধু একজন ছাত্র বা ছাত্রীকে ভর্তির আবেদনে ১২০০ টাকা খরচ করতে হবে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ কোথায় খরচ হচ্ছে তা খতিয়ে দেখলে আমরা বিস্ময়ের সঙ্গে দেখতে পাব এসব টাকা শিক্ষকদের মধ্যে নানাভাবে ভাগ করে দেওয়া হয়।

পুরো ব্যাপারটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে যেন শিক্ষকরা কিছু অর্থ উপার্জন করতে পারেন; কিন্তু বর্তমান সময়ে সেই আয়ের পরিমাণ ‘মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে’ বলে তিনি মনে করেন।

দীর্ঘদিন ভর্তি প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৯৪ সালে তিনি যখন কাজ করেছেন তখন কমিটির সদস্য ছিলেন মাত্র পাঁচ জন। কিন্তু এখন ভর্তি কমিটির সদস্য সংখ্যা বিশাল। এছাড়া বিভিন্ন উপকমিটি তো রয়েছেই।

যারা মূল কমিটিতে আছেন তারা দুএকটি মিটিং ছাড়া আর কোনো কাজই করেন না; অথচ সম্মানী হিসেবে অনেক বেশি টাকা নিয়ে নেন। আর নামমাত্র কতগুলো উপকমিটি করা হয়, যার প্রয়োজন খুব বেশি একটা হয় না। এগুলো করার মানে হচ্ছে শিক্ষকদেরকে অর্থ উপার্জনের একটা সুযোগ করে দেওয়া, বলেন তিনি।

তবে শুধু যে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এই কাজ করছেন তা নয়, দেশের সব বিশ্ববিদ্যালযের শিক্ষকরাই একই কাজ করছেন বলে দাবি তার।

বর্ধিত ফি বাতিলের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে যৌক্তিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, একজন সাধারণ ছাত্রের কষ্ট বুঝে তারা আন্দোলন করছে। আমি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানাই। তাদের আন্দোলন সফল হবে কিনা আমি জানি না, তবে তাদের আন্দোলনে আমি সহমর্মিতা প্রকাশ করছি।

আমি চাই ভর্তি ফরমের মূল্য কমানো হোক এবং তা শুধু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে না। দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ফরমের মূল্য কমানো হোক।

শুধু আবেদনের খরচই নয়, পাশাপশি তাদেরকে শারীরিকভাবেও কষ্ট করতে হচ্ছে। এ জন্য সম্বন্বিত ভর্তি প্রক্রিয়ার কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মনে করেন।

এতদিনেও দেশে সম্বন্বিত ভর্তি পরীক্ষা চালু হচ্ছে না। এরও কারণ একটাই, এটা করলে শিক্ষকদের বাৎসরিক একটা উপার্জন কমে যাবে। সমন্বিত পদ্ধতি চালু না হওয়ার পেছনে অন্য কোনো কারণ নেই।

বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কীভাবে ভর্তি পরীক্ষায় আয়ের টাকা খরচ করে তা জানতে চিঠি লিখেও তার কোনো জবাব পাননি উল্লেখ করে তিনি সাংবাদিকদের তথ্য অধিকার আইন প্রয়োগ করে বিষয়টি জানার অনুরোধ করেন।

ঢাকা, ১৮ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//জেএন