[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



ফরাসি নাটকে বাংলার স্বাদ


প্রকাশিত: October 19, 2016 , 11:51 am | বিভাগ: শোবিজ


frose natok

শোবিজ লাইভ: দরজা পার হলেই মোটা পর্দা। টিএসসির সেমিনার ঘরটিতে ঢুকতে হলে এই পর্দা পেরোতে হবে। কিন্তু কীভাবে তা সম্ভব! এখানে যে ঘুরঘুট্টি অন্ধকার। এখানে আবছায়ায় প্রেতের মতো ঘুরতে থাকা মানুষেরা যে নাটকের কুশীলব, অনুমানে তা বুঝে নিতে হয়। দিশেহারা মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসেন একজন।

তাঁকে অনুসরণ করে পৌঁছে যাই ঘরটিতে। সেখানে আলো। সবাই নাটক দেখার জন্য অপেক্ষমাণ। ফরাসি নাট্যকার জ্যঁ রাসিনের লেখা নাটক ফ্রেইদার অনুবাদ করেছেন অসিত কুমার, সাঁঝবেলার বিলাপ নামে। নির্দেশনা দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক ইসরাফিল শাহীন।

আলো নিভে যাওয়ার পর নাটক শুরু হলে আর্তনাদের মতো যে কণ্ঠস্বর ভেসে এল মঞ্চের দুধার থেকে, সেটাই যেন আমাদের নিয়ে গেল ধ্রুপদি এই নাটকের কেন্দ্রে। কী ভয়াবহ কাহিনি। স্বামী থিসিয়াস যুদ্ধে গিয়ে নিখোঁজ। তা নিয়ে রানি ফ্রেইদার মাথাব্যথা নেই। সৎছেলে হিপোলিতাসের একতরফা প্রেমে মশগুল তিনি। ছেলের প্রেমে পড়েছেন, এ খবরটা পৌঁছে দেবেন কেমন করে? এই নিয়েই দ্বিধা-দ্বন্দ্ব।

অবশেষে সেটা জানানোও হয় ছেলেকে। কিন্তু সে সময়ই আসে সংবাদ, রাজা বেঁচে আছেন। তিনি ফিরে আসছেন। কী হবে এরপর? বাংলাদেশে নাটকটির মঞ্চায়ন হবে ডিসেম্বরে। তাহলে এত আড়ম্বর করে এ সময় নাটকটির সাতকাহন কেন? কারণ আছে।

১৯ অক্টোবর মানে আজ থেকে ভারতের নয়াদিল্লিতে ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামায় (এনএসডি) নবমবারের মতো শুরু হচ্ছে এশিয়া প্যাসিফিক নাট্যোৎসব। শেষ হবে ২৬ অক্টোবর। বাংলাদেশ, ভারত, জাপান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, চীন, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়াসহ প্রায় ২০টি দেশের থিয়েটার-পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা অংশ নেবে এই উৎসবে। নাটক মঞ্চায়নেই এদের কাজ শেষ হবে না। অংশ নিতে হবে সেমিনার ও নাট্যকর্মশালায়। বিভিন্ন স্কুলের মধ্যে মতবিনিময়ও হবে।

সাঁঝবেলার বিলাপ নাটকটিতে মূলত থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স বিভাগের এমএ সমাপনী সেমিস্টারের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছেন। শিক্ষকেরাও আছেন সঙ্গে। শিক্ষক সাইদুর রহমান আর কাজী তামান্না হককে তো মঞ্চেই দেখা যাবে, বাজাবেন তাঁরা, গাইবেন তাঁরা, কিছু সময়ের জন্য অভিনয়ও করবেন।

ফরাসি নাটকটি পোশাকে-আশাকে ফরাসি, কিন্তু তার অভিনয়কলা আর সংগীতে বাংলার স্বাদ। দৃশ্যের ঝলকে নানা রকম নিরীক্ষার ছাপ। এক ঘণ্টার নাটকটিতে শরীরকে দুমড়ে-মুচড়ে নানাভাবে উপস্থাপনের যে ছবি দেখা গেল, তাতে বলাই যায়, নয়াদিল্লিতে গিয়ে অন্য দেশ থেকে আসা নাট্যামোদীদের নজর কাড়বে এটি।

আমরা নাটকটি দেখছিলাম ১৫ অক্টোবর বিকেলে। নাটক শেষ হওয়ার পর সংগীতের রেশ সরছিল না কান থেকে। একতারা, গং, হারমোনিয়াম, জিপসি, বেহালা, নাকাড়া, ঢোল, করতালসহ আরও কিছু বাদ্যযন্ত্র নানাভাবে বেজেছিল নাটকে। বিচিত্র সে বাদন। ঘামে ভেজা অভিনয়শিল্পীরা দর্শকের মুখোমুখি হয়েছিলেন, জানতে চাইছিলেন কীভাবে আরও ভালো করা যায় পারফরম্যান্স। ক্লান্ত তাঁরা, কিন্তু চোখেমুখে নতুন কিছু করার ঔৎসুক্য।

গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে তিনটায় যখন ইস্রাফিল শাহীনকে ‘যাত্রা শুভ হোক’ বলার জন্য ফোন করি, তখন তাঁরা দলবলসমেত বিমানে। নাটকের কুশীলব ইলিয়াস বাসেত, আফরিন তোড়া, ইশতিয়াক, ধীমান, রানা, হিমেল, সাফওয়ানেরা নাকি উত্তেজনায় কাঁপছেন, এ কথা জানালেন তিনি।
আমরা জানি, সে উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার নয়। শিল্পের দায়বোধ তো প্রতি মুহূর্তেই নতুন কিছু চায়।

ঢাকা, ১৯ অক্টোবর, (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// এম এইচ