[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



রাবির লিপু মৃত্যু নিয়ে ক্রমেই রহস্যে দানা বাঁধছে!


প্রকাশিত: October 20, 2016 , 9:28 pm | বিভাগ: এক্সক্লুসিভ,ক্যাম্পাস,পাবলিক ইউনিভার্সিটি,রাজশাহীর ক্যাম্পাস


lipu-2

মনিরুল ইসলাম নাঈম, রাবি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থী লিপুর মৃত্যু নিয়ে ক্রমেই রহস্যের দানা বাঁধছে! হিসাব মিলাতে পারছে না পুলিশ ও গোয়েন্দারা। তারা অনেকটাই হিমশিম খাচ্ছে। সংশ্লিস্ট সূত্রে জানা গেছে একজন তরুণীর সঙ্গে প্রেম ও রাজনৈতিক কান্ডের নানা কিছু। কেউ বলছেন, প্রেমের জের ধরেও ওই মৃত্যুর ঘটনা ঘটতে পারে। তবে লিপুর বন্ধুরা এসব মানতে নারাজ। তারা বলছেন, লিপুর সঙ্গে এলাকার একজন মেয়ের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু তা বেশীদুর গড়ায়নি। এ নিয়ে কোন দ্বন্দ বা সমস্যার কথা কখনও শুনতে পাইনি কেউ। অন্যদিকে লিপু রাজনৈতিক আশ্রয়ে হলে উঠলেও তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না। সব সময় ছিলেন নিরব দর্শক। পুলিশ এসব কিছু নিয়ে তদন্তে নেমেছে বলে সংশ্লিস্টরা জানিয়েছেন।

এদিকে লিপুর বাবার কান্না যেন থামছে না। তিনি কান্না ভেজা কন্ঠে বলেন, এমন কি অপরাধ করেছিল আমার ছেলে? কেন আমার সাজানো স্বপ্নের সংসারকে ভেঙ্গে তছনছ করেদিল? অপরাধ করলে তার জন্য তো আইন ছিল। সে তো আর আমাকে ফোন দিয়ে বলবে না ‍’আব্বু তুমি কেমন আছো? আব্বু কিছু টাকা লাগবে সকালে খাওয়ার টাকা নাই। এমনই কান্নাজড়িত কন্ঠে কথাগুলো বলেন, মোত্তালিব হোসেন লিপুর বাবা বদরউদ্দিন।
তিনি ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কমকে জানান, আমার সবই গেল। আমার সংসারের কে হাল ধরবে? কে আমাকে টেনে নিয়ে যাবে সফলতার দিকে।

মৃত্যুর সংবাদ শুনে মুকিমপুর গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে। এভাবেই আরো একটা স্বপ্ন নষ্ট হয়ে গেল একটি পরিবারের।

লিপুর বাবা আরও বলেন, আশা ছিল লেখাপড়া শেষ করে ভালো একটা চাকরি করবে। বাবা মায়ের দুঃখ কষ্ট দুর করে তাদের মুখে হাসি ফুটাবে। কিন্তু সে আশা আশাই রয়ে গেল । পূরণ আর করা সম্ভব হলো না লিপুর।
তার বাবা কান্নাবিজরিত কন্ঠে আরো বলেন, আমার ছেলে শান্ত প্রকৃতির ছিল। সে কারো সাথে কোন বিবাদে যেত না। বাসায় এসে ছোট ভাই বোনদের নিয়মিত লেখাপড়ার খোঁজ খবর নিতো। সবসময় তাদেরকে ভালো উপদেশ দিত। কিন্তু এখন কে নিবে খোঁজ?
শান্তশিষ্ট ওই ছেলেটি গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। নিহত লিপু রাবির নাবাব আব্দুল লতিফ হলের ২৫৩ রুমের আবাসিক ছাত্র ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার হরিনাকুন্ড উপজেলার মুকিমপুর গ্রামে। তিন ভাই বোনের মধ্যে লিপু ছিলো সবার বড়। ছোট বোন দশম শ্রেণিতে আর ছোট ভাই এখনো স্কুলে যাওয়া শুরু করেনি। লিপুর বাবা কৃষক। কাজ করে কোনরকম দিনাতিপাত করে।
সংস্কৃতমনা লিপু রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন না। তবে ছাত্রলীগের রেফারেন্সেই তিনি হলে উঠেছিলেন।

এদিকে তার এ হত্যাকান্ডের খবর শুনে বিভাগ ও সহ-পাঠিদের মধ্যে শোকের ছায়া বিরাজ করছে। সহ-পাঠিরা চোখের পানি আগলে রাখতে পারছে না। সকলের আখিঁ যেন ছল ছল। আবার কেউ আবেগে আপ্লুত হয়ে হাউমাউ করে কেদেঁ উঠেছেন। তবে মোত্তালিব হোসেন লিপুকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হযেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ নিয়ে রহস্যের আধাঁর থেকেই যাচ্ছে। তবে কে বা কারা রাতের আধারে তাকে হত্যা করে ফেলে রেখে গেছে তা এখনো জানা যায়নি। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে এটি একটি হত্যাকাণ্ড।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার আমীর জাফর ক্যাম্পাসলাইভকে জানান,‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওই শিক্ষার্থীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। লিপুর পিঠে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। নাকে মুখে রক্তের চিহৃ পাওয়া গেছে। এদিকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য তার রুমমেটসহ দুইজনকে পুলিশ আটক করেছে ।
তবে অনেকে এটাকে আত্মহত্যা বলে দাবি করলেও কি জন্য তিনি আত্মহত্যা করেছেন এ হিসাব মেলানো যাচ্ছে না। এলাকায় লিপুর সঙ্গে একটি মেয়ের হালকা প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও তবে এটা কোন বড়ো সমস্যা না বলে জানা গেছে। তার বন্ধুরা এমনটিই জানিয়েছেন।

এ নিয়ে তার ফেইসবুকেও এমন কোন তথ্য নেই। ফেইসবুকে এমন কোন স্ট্যাটাসও নেই। কিংবা ফেইসবুকে হতাশাগ্রস্থ কোন স্ট্যাটাস নেই।
লিপুর পাশের রুমে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে জানা যায়, সে আগে নিচে থাকতো। ৫ থেকে ৬ মাস হয়েছে উপরে উঠেছে। তাকে তেমন কোন রাজনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত থাকতে দেখা যায়নি। সবার সাথে হাসি মুখে কথা বলতো। কোন দিন তার সাথে কারো বাকতিন্ডতা হয়নি।
এদিকে মতিহার থানার ওসি হুমায়ুন করিব ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, তার হত্যাকান্ড নিয়ে একটা রহস্য থেকেই যাচ্ছে। পুলিশ এ নিয়ে তদন্ত করে যাচ্ছে। আশা করি এ রহস্য উদঘাটন হবে।

 

ঢাকা, ২০ অক্টোবর, (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// এএম