[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



‘আমি ক্যাম্পাসে আসছি, তুই যা পারিস করিস’


প্রকাশিত: October 21, 2016 , 6:53 pm | বিভাগ: আপডেট,পাবলিক ইউনিভার্সিটি,রাজশাহীর ক্যাম্পাস


lipu-5

রাবি লাইভ: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মোতালেব হোসেন লিপুকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর চাচা মো. বশির। তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পাসে যাওয়ার আগে বাড়ি থেকে ১০০ গজ দূরে বাগানে ফোনে কথা বলছিল লিপু। ওই সময় ফোনে বলতে শোনা যায়, ‘আমি ক্যাম্পাসে আসছি তুই যা পারিস করিস।’

এ কথা লিপুর দাদি ও রোস্তম নামে পরিবারের একজন শুনেছেন বলেও দাবি করেন মো. বশির।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় রাবির নবাব আবদুল লতিফ হলের ডাইনিংয়ের পাশের নর্দমা থেকে লিপুর লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গতকাল মো. বশির রাজশাহী নগরীর মতিহার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

এ বিষয়ে মো. বশির আরো বলেন, ‘লিপুর সব ঘটনা তো আর জানতাম না। তবে কিছু দিন আগে সে আমাকে বলেছিল, লিপু যে নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি করতে গিয়ে ধরা পড়েছিল, ওই চক্রের কে বা কারা তাকে নিয়মিত ফোন করত। তাকে ফোনে বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দিত। এই বিষয়টা নিয়ে লিপু খুব টেনশন করত। সে আমাকে এ রকম একটা ঘটনা বলেছিল।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক লিপুর এক সহপাঠী বলেন, ‘গত বছরের মাঝামাঝি অন্যজনের হয়ে নিয়োগ পরীক্ষা (প্রক্সি) দিতে গিয়ে ধরা পড়েছিল লিপু। সে জন্য লিপুকে জেলও খাটতে হয়েছিল। পরে ও আমাকে বলেছে, এসব আর সে কখনো করবে না। কিন্তু সমস্যাটা হলো লিপু ওই জালিয়াত চক্রকে চিনে ফেলেছিল। এ জন্য তাকে মাঝেমধ্যেই হুমকি দেওয়া হতো। তবে এ বিষয়ে ওর আইনজীবী আরো ভালো বলতে পারবে। মামলার স্বার্থে আইনজীবীকে সে অনেক কিছুই বলে থাকতে পারে।’

ওই সহপাঠী আরো বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবারও একটা চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা ছিল রাজশাহীতে। সে জন্য হলগুলোতে অনেকেই ছিল। ও মঙ্গলবার এসেছে ক্যাম্পাসে। ওই জালিয়াত চক্র তাকে আবার জোর করে থাকতে পারে। সে এতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে মেরে ফেলতে পারে।’

লিপুকে হত্যা করা হয়েছে, এমন আশঙ্কা থেকে মামাতো ভাই মো. সজীবউদ্দিন বলেন, ‘লিপু একটু সহজ-সরল ছিল, ভয়ও পেত। এ জন্য ওর মাজায় একটা মাদুলি বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। ওই মাদুলিটা ওর ঘরের মেঝেতে ছেঁড়া অবস্থায় পড়েছিল। লিপুর রুমের বাইরে অতিরিক্ত দুই জোড়া জুতা পাওয়া গেছে। যেগুলো ওই রুমের কারো না। আর লিপুর পায়ের একটি জুতা ওর ঘরে পাওয়া গেছে, আরেকটি যেখানে ওর লাশ পাওয়া গেছে সেখানে।’

সজীবউদ্দিন আরো বলেন, ‘ওর লাশ যেখানে পাওয়া গেছে ওই জায়গাটা আমরা দেখেছি। লাশের পাশেই একটা পেঁপেগাছ আছে। যদি সে ওপর থেকে পড়ে যেত তাহলে সেখানে পেঁপেগাছটার ছেঁড়া পাতা পাওয়া যেত। কিংবা অন্য কোনো উপসর্গ পাওয়া যেত। কিন্তু এসবের কিছুই পাওয়া যায়নি। আমার বিশ্বাস, ওর মাথায় হাতুড়ি কিংবা শক্ত কিছু দিয়ে মেরে, পরে সেখানে নিয়ে ফেলে রাখা হয়েছে।’

‘এটা কখনোই আত্মহত্যা না, পরিকল্পিত একটা হত্যাকাণ্ড। একটা ছেলে হলের ভেতর মারা যাচ্ছে, হল কিংবা রুমের কেউ জানে না এটা হতে পারে না।’ বলেন সজীবউদ্দিন।

এদিকে আর্তনাদ করতে করতে নিজের সন্তানকে যে হত্যা করা হয়েছে তার যুক্তি তুলে ধরে লিপুর মা হোসনে আরা বলেন, ‘রাজশাহী যাওয়ার আগে ও বলল, ফরম ফিলাপ করতে হবে টাকা লাগবে। আমি ওকে চার হাজার টাকা দিলাম। টাকা না দিতে পারলে তো ও রাগারাগি করত, মন খারাপ করত। কিন্তু আমার মনি তো ভালোভাবেই গেল। ওর চাচা ওকে গাড়িতে তুলে দিয়ে আসল। পরে শুনেছি ও ফরম ফিলাপও করছে। আমার মনি আত্মহত্যা করে নাই, ওরে মেরে ফেলা হইছে।’

মা হোসনে আরা আরো বলেন, ‘ওর নরমাল একটা ফোন ছিল। সেটা ও রাগ করে ভেঙে ফেলে। সে জন্য ও ওর রুমমেটের ফোনে সিম তুলে কথা বলত। গত মঙ্গলবার রাত ৮টায় আমার মনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছে, রুম-টুম পরিষ্কার করে আমার সঙ্গে কথা বলে। পরের দিন সকালে ক্লাসে যাওয়ার আগে আমায় বলল, ‘লিয়ন কই? আমি বলছি, লিয়ন আমার পাশে আছে। ও বলল, লিয়নকে স্কুলে পাঠাও। আমি বললাম ও যেতে চায় না। ও তখন বলল, বলো আমি আসতেছি, তাহলে ও ভয়ে স্কুলে যাবে। পরে রেখে দেওয়ার সময় ও বলল, এই নাম্বার তুমি রেখো না। পরে আমি তোমারে আরেকটা নতুন নাম্বার দিব। এই বলে ও ক্লাসে যায়। এরপর আর হয়নি।’

‘আমার মনিরে অতিরিক্ত চাপা মাইর দিয়েছে। মাথায় মাইরেছে। মাথায় মাইরে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে। আমার মনিরে কীভাবে আঘাত কইরে মাইরেছে। আমার মনিরে খুব আঘাত কইরেছে। আমার মনিরে আমি কোনো দিন একটা থাপ্পড়ও দেই নাই। আর আমার এই দেখতি হলো। আমার মনিরে যারা মারছে, আমি তাদের বিচার চাই। আর কিছুই চাই না।’ বিলাপ করতে করতে মা হোসনে আরা এভাবেই সন্তান হত্যার বিচার চান।

ঢাকা, ২১ অক্টোবর, (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// আইএইচ