[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



‘দেশে কোন দরিদ্র-গৃহহীন মানুষ থাকবে না’


প্রকাশিত: October 22, 2016 , 4:43 pm | বিভাগ: আপডেট,পলিটিক্স


PM

লাইভ প্রতিবেদক: দেশকে শতভাগ দারিদ্রমুক্ত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশে আর দারিদ্র ও গৃহহীন মানুষ থাকবে না। সরকার তাদের ঘর করে দেবে। দরিদ্রদের সহযোগিতা করবে যাতে তারা স্বাবলম্বী হতে পারে।

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে দেয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সকালে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী। শুরুতেই তিনি দেশি-বিদেশি সকল অতিথিসহ বিভিন্ন জেলা ও তৃণমূল থেকে আগত নেতৃবৃন্দের প্রতি অভিনন্দন জানান।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণের শুরুতেই মহান মুক্তিযুদ্ধের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ একাত্তরে জীবনদানকারী সকল শহীদ ও জাতীয় চার নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
পরে সম্মেলন সংগীত ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা শেষে শোক প্রস্তাব ও সাধারণ সম্পাদকের রিপোর্ট পেশ করা হয়।

বক্তব্য রাখেন বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা। সম্মেলনে ১০টি দেশের প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলনে প্রথম অধিবেশনে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী দলের নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে বলেন, স্ব স্ব এলাকায় কতোজন দরিদ্র মানুষ আছে, গৃহহারা মানুষ আছে, কারা হতদরিদ্র তাদের তালিকা বানান, তাদের জন্য বিনা পয়সায় ঘর করে দেবো। জনগণের কল্যাণ করা আমাদের দায়িত্ব।

২০৪১ সালের মধ‌্যে বাংলাদেশে ‘দারিদ্র্য’ বলে কিছু থাকবে না মন্তব‌্য করে শেখ হাসিনা বলেন, “আওয়ামী লীগ জনগণের দল। জনগণের দায়িত্ব আমাদের।” সম্মেলনকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন আগে দলের জাতীয় কমিটির বৈঠকেও তিনি বলেছিলেন, “সরকার তো দারিদ্র্য বিমোচনে কাজ করবেই।

দলের পক্ষ থেকেও সহযোগিতা করতে হবে, যাতে আমরা এই কাজগুলো সুষ্ঠুভাবে করতে পারি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আজ পর্যন্ত দেশে যা অর্জন হয়েছে তার সবই আওয়ামী লীগ এনে দিয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাই জীবনের বিনিময়ে দেশের মুক্তি এনে দিয়েছে।’

আমরা কাজ করলে দেশে আর দারিদ্র থাকবে না। দারিদ্রের হার এখন ২২ ভাগে কমিয়ে এনেছি। বাংলাদেশে দারিদ্র বলতে কিছু থাকবে না। প্রতিটি মানুষ সুশিক্ষায় শিক্ষিত হবে। বাংলাদেশ থেকে পুষ্টিহীনতা দূর করবো। শতভাগ স্যানিটেশন নিশ্চিত করবো। বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করবো। সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাশ রুম করে দেবো। কর্মক্ষেত্রে নারী পুরুষ বৈষম্য থাকবে না।

Council

প্রধানমন্ত্রী ১৫ই আগস্টের স্মৃতিচারণ করে বলেন, বঙ্গবন্ধু দেশকে যখন এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন, ৭৫ এর ১৫ই আগস্ট হত্যা করা হলো বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের। আমার ১০ বছরের ছোট ভাই রাসেলও রেহাই পেলো না।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ উপ মহাদেশের মধ্যে প্রাচীন রাজনৈতিক দলগুলোর একটি। বাংলাদেশ একটি জাতি রাষ্ট্র। দেশের যা অর্জন হয়েছে তা আওয়ামী লীগের মাধ্যমে হয়েছে। আওয়ামী লীগই মানুষকে ঐক্যব্ধ করে এ অর্জন এনে দিয়েছে। ৫২‘ ভাষা আন্দোলন ৬৬’র ছয় দফা, নানা আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

তিনি বলেন, এই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতির পিতা স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দিয়েছিলেন। তার ডাকে বাঙালি জাতি ঝাপিয়ে পড়েছিল মুক্তি সংগ্রামে। ২৬শে মার্চ তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। অনেক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র আমরা প্রতিষ্ঠিত করেছি। বলেই ২১বছর পর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করতে পেরেছিল।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু যখন দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন ঠিক তখনই ঘাতকরা আমার পরিবারকে নির্মমভাবে হত্যা করে। আমার ছোট ভাই শিশু শেখ রাসেলও ঘাতকদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি।’ ‘বঙ্গবন্ধুকে বাঁচাতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কর্নেল জামিল এগিয়ে এসেছিলেন। ঘাতকরা তাকেও হত্যা করে। আমরা দুই বোন দেশের বাইরে ছিলাম বলে সেদিন প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলাম’ বলেন তিনি।

জাতির পিতার রাজনৈতিক দূরদর্শিতার কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি জাতির পিতার কাছ থেকে গণতন্ত্রের শিক্ষা নিয়েছি। তাঁর কাছ থেকেই দেশের মানুষকে ভালবাসতে শিখেছি। তিনি বলেন, ‘একাত্তর পরবর্তী বিশেষত জাতির পিতাকে হত্যা করার পর আমাদের আশ্রয় দিয়েছিলেন শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী। ’৮১ সালে আওয়ামী লীগ আমাকে সভাপতি নির্বাচিত করে দেশে ফেরার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিল।’

“আওয়ামী লীগের কাছে আমি কৃতজ্ঞ- অন্তত মুক্তিযুদ্ধের পর তারা আমাকে এদেশে আসার সুযোগ করে দিয়েছিল।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে আমার তৃণমূলের নেতাকর্মীরাই আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছে।’ প্রধানমন্ত্রী এ সময় আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন প্রধান হিসেবে মাওলানা ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীসহ জাতীয় নেতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর মানুষ স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল। ২০০১ সালে যখন বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসে তখন মানুষের সেই স্বপ্ন ভেঙে যায়। ২০০৮ সাল পর্যন্ত এদেশের মানুষের জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ২০০৯ সালে আবার আমরা সরকার গঠন করি। এরপর থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আবার বাংলাদেশ গড়ে উঠছে। আমরা সংবিধান সংশোধন করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রতিষ্ঠা করি।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, আমি জাতির পিতার সন্তান হিসেবে শিক্ষা নিয়েছি। দেখেছি তিনি কিভাবে এদেশের মানুষকে ভালবেসেছেন। পিতার কাছ থেকে শোনেছি এদেশের শোষিত বঞ্চিত মানুষের কথা। তাদের কথা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বার বার জেলে গেছেন। কিন্তু কখনও তিনি আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। যে শিক্ষা পিতার কাছ থেকে পেয়েছিলাম সেই শিক্ষা নিয়েই আমি আমার কার্যক্রম শুরু করি। এবং কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, আমি দেশে এসেছিলাম সব হারানোর ব্যাথা নিয়ে। দেশে ফিরে আমি বাংলার মানুষের ভালবাসা পেয়েছি। তাদের কাছে আমি পিতা, মা, ভাইয়ের স্নেহ পেয়েছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আর কোন দরিদ্র মানুষ যাতে না থাকে সেজন্য আমরা ৯৬ সালে সামাজিক নিরাপত্তা বলয় গড়ার উদ্যোগ তৈরি করেছিলাম। যার শুভফল এদেশের মানুষ পাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের স্থান বাংলাদেশের মাঠিতে হবে না। বাংলাদেশকে শান্তির দেশ হিসেবে গড়ে তুলব।

এবার নিয়ে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন শেখ হাসিনা। ২০৪১ সালের মধ‌্যে বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ দেশের কাতারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ‌্য তাদের। ওই লক্ষ‌্য পূরণের পরিকল্পনা নিয়ে ২০তম সম্মেলন করছে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দেওয়া দলটি। দুদিনের সম্মেলনে নতুন নেতৃত্বও গঠন করা হবে। সভাপতির ভাষণের পর সম্মেলন মুলতবি করেন শেখ হাসিনা। দুপুরে খাবারের বিরতির পর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে রুদ্ধদ্বার কাউন্সিল অধিবেশন বসবে, যেখানে নতুন নেতৃত্ব গঠিত হবে।

তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকেই নিজ নিজ ধর্ম পালন করবে। ধর্মের নামে কেউ যেন মানুষকে নির্যাতন অত্যাচার না করতে পারে। কেউ যেন সাম্প্রদায়িক অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে না পারে।’ তিনি বলেন, ‘একুশটা বছর এদেশের মানুষ নির্যাতিত হয়েছে। অনেক সংগ্রামের পথ পাড়ি দিয়ে গণতন্ত্র আমরা প্রতিষ্ঠা করেছি।’

তিনি বলেন, ‘২১ বছর পর ক্ষমতায় আসায় দেশের মানুষ আবারও নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। কিন্তু ২০০১ সালে আবারও পটপরিবর্তন হয়। আবার পেছনের দিকে ধাবিত হতে শুরু করে দেশ।’ সরকারপ্রধান বলেন, ’৭৫ পরবর্তী যারা পাকিস্তানের দোসরদের ক্ষমতায় বসিয়েছিল তাদের কারণেই দেশের কোনো উন্নতি হয়নি।’

‘যে সংবিধানের মূল স্তম্ভগুলোকে ধ্বংস করা হয়েছিল আমরা সেই সংবিধান সংশোধন করে আবার দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছি’ বলেন হাসিনা।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘শোষিত-নিপীড়িত মানুষের কথা বলতে গিয়ে বারবার আমার পিতাকে নির্যাতন ও হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। সন্তান হিসেবে আমরা তা দেখেছি। পিতার কাছ থেকেই দেশের মানুষকে ভালবাসার শিক্ষা পেয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার বরাবরই কৃষি ও কৃষকবান্ধব। আমরা কৃষককে তাদের জীবনমান উন্নয়নে সর্বোচ্চ সুযোগ তৈরি করে দিয়েছি। মাত্র ১০ টাকায় কৃষককে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ করে দিয়েছি। আমরা কৃষকের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবস্থা তৈরি করে দিচ্ছি। যেন কৃষকরা আরও আগ্রহী হয়।’

“আমার দেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করতে চাই। সেই লক্ষ্যে বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান করে দিয়েছি। আমরা ভূমিহীনদের জন্য আবাসন নিশ্চিত করেছি।’

“আমরা শিক্ষা ক্ষেত্রে বিনা পয়সা ১৯৩ কোটি বই বিনামূলে বিতরণ করেছি। আমরা শিক্ষা ক্ষেত্রে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম তৈরি করে দিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আজ দেশে মাতৃ মৃত্যুহার কমেছে। শিশুমৃত্যু হার কমেছে। আমরা দেশে জন্মনিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করেছি।’ “আজকের ডিজিটাল বাংলাদেশ আর স্বপ্ন নয়। আমরা দেশের মানুষের হাতে মোবাইল ও কম্পিউটার তুলে দিয়েছি। দেশে শক্তিশালী ইন্টারনেট সার্ভিস চালু করে দিয়েছি।’

“আমরা যুগোপযোগী নারী নীতিমালা তৈরি করেছি। যাতে করে নারীরা বঞ্চিত না হয়। আমাদের পার্লামেন্টে ২০ ভাগ নারী রয়েছে। যা বিশ্বের কাছে অনন্য উদাহরণ।” “জলবায়ু পরিবর্তন থেকে এদেশকে মুক্ত করার জন্য আমরা নিজেদের অর্থায়নে পদক্ষেপ হাতে নিয়েছি। জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করেছি।’

“২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে আমরা মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে উন্নীত করতে চাই। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে আমরা বিশ্বের উন্নত দেশে পরিণত করতে চাই।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সিদ্ধান্ত, জঙ্গি ও সন্ত্রাস নিমূর্লে আমাদের জিলো টলারেন্স। এক্ষেত্রে কোনো প্রকার ছাড় দেয়া হবে না। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের জন্য দেশের ভূখন্ড বিদেশিদের ব্যবহার করতে দেয়া হবে না। সন্ত্রাসবাদ-জঙ্গিবাদ এর কোনো স্থান বাংলাদেশে হবে না। এবং কোন ভাবেই ‘প্রতিবেশী কোনো দেশের স্বার্থে আমরা আমাদের ভূখন্ডকে কোনোভাবেই ব্যবহার করতে দেবো না।’ এই বাংলাদেশ হবে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ।’

তিনি বলেন, ‘জেলা-উপজেলা-ইউনিয়ন-ওয়ার্ড কাউন্সিলর এমনকি সংসদ সদস্য সকল নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রতি আমি একটিই আহ্বান জানাবো- বাংলাদেশকে আমরা দারিদ্র্যমুক্ত করতে চাই। এটাই আমাদের প্রতিজ্ঞা। আপনারা নিজ নিজ এলাকায় দারিদ্র্যমুক্ত, হতদরিদ্র, নিঃস্ব, প্রতিবন্ধী, বয়োঃবৃদ্ধ, গৃহহীন মানুষ রয়েছে তাদের তালিকা তৈরি করুন। আমরা তাদের জন্য গৃহ নির্মাণ সহ সব ধরনের সহযোগিত করবো। আমরা দারিদ্র্যের হার ১২ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনবো। বাংলাদেশে দারিদ্র্য বলে কিছু থাকবে না।’

“প্রত্যেকের মাথাপিছু আয় আরও বৃদ্ধি করবো। দারিদ্র্যের হার শূণ্যের কোঠায় নামাবো। মাথাপিছু আয় এমনভাবে বাড়াবো যাতে মানুষ আর দরিদ্র না হয়।”

“বাংলাদেশ থেকে আমরা পুষ্টিহীনতা দূর করবো। পুষ্টিহীনতা সমগ্র দেশের মানুষ যেন সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হয় আমরা সেই ব্যবস্থা করে দেবো। আমরা মাতৃত্বকালীন ভাতা দিচিছ। যেসকল মা শিশুকে দুগ্ধ পান করাচ্ছেন সেসব মায়েদেরও আমরা সহায়তা দিচ্ছি। এবং সেসকল শিশু স্কুলে যাচ্ছে তাদের জন্যও আমরা স্কুল ফিডিং করেছি।” কর্মক্ষেত্রে কোনো নারী-পুরুষের বৈষম্য থাকবে না বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশের সব পরিবারে বিদ্যুৎ দেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কোনো ঘর আর অন্ধকার থাকবে না। আমরা কোটি ঘরে আরো জ্বালাবো।’ “আমরা দেশের সুনির্দিষ্ট স্থানে একশ শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলবো। আমরা সড়ক, রেল ও বিমান পথকে এমনভাবে উন্নত করবো যাতে বিশ্বের সঙ্গে সেতুবন্ধন তৈরি হয়। যোগাযোগ যেন আন্তর্জাতিক মানের হয়।”

“আমরা চাই সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়। এটাই আমাদের নীতি। আজকের এই সম্মেলনেই তার বড় প্রমাণ।” এই সম্মেলনে যারা উপস্থিত থাকতে না পেরে দূর থেকে বাণী পাঠিয়েছেন আমি ব্যক্তিগতভাবে ও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

এমসময় প্রধানমন্ত্রী দেশি-বিদেশি ডেলিগেটসদের প্রতি ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়ে সম্মেলনের প্রথম পর্বের মূলতবি ঘোষণা করেন।
ঢাকা, ২২ অক্টোবর, (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// আইএইচ