[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



এসডিজি অর্জনে শিশু ও নবজাতক মৃত্যুহার কমাতে হবে


প্রকাশিত: October 22, 2016 , 8:21 pm | বিভাগ: আপডেট,ন্যাশনাল


GAD

লাইভ প্রতিবেদক: বাংলাদেশের সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষমাত্রা (এমডিজি) অর্জনে শিশু ও মাতৃমৃত্যু হ্রাস গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখেছে। তবে অপর মাইলফলক জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে শিশু ও নবজাতক মৃত্যুহার আরো কমাতে হবে।

বর্তমানে দেশে অনূর্ধ্ব পাঁচ বছর বয়সী শিশুমৃত্যুর হার প্রতি হাজারে ৪৬ জন। এদের ৬১ শতাংশ মারা যায় মধ্যে নবজাতক অবস্থায়। সে হিসেবে নবজাতক মৃত্যুর হার প্রতি হাজারে ২৮ জন। শিশুমৃত্যুর এ হার হাজারে ২০ এবং নবজাতক মৃত্যুর হার হাজারে ১০ এ কমিয়ে না আনলে ২০৩০ সালের মধ্যে জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে হোচট খেতে হবে।

শুক্রবার রাতে বাংলাদেশ পেডিয়াট্রিক এসোসিয়েশনের (বিপিএ) তিন দিনব্যাপি চতুর্থ আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

বিপিএ’র সভাপতি প্রফেসর মোহাম্মদ সহিদুল্লাহ’র সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ভিসি প্রফেসর কামরুল হাসান খান, সেভ দ্য চিলড্রেন ইউএসএ’র সিনিয়র ডিরেক্টর (নিউবোর্ন হেলথ) জয় রিগস পারলা।

বক্তব্য রাখেন পেডিয়াট্রিক এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি প্রফেসর মো: রুহুল আমিন, সহ-সভাপতি প্রফেসর চৌধুরী ইয়াকুব জামাল, প্রফেসর হামিদুর রহমান, মহাসচিব প্রফেসর এম এ কে আজাদ চৌধুরী, প্রফেসর জাহিদ হোসেন প্রমূখ।

অনুষ্ঠানে শিশুস্বাস্থর বিশেষ অবদানের জন্য জাতীয় প্রফেসর এম আর খানকে লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড ২০১৬ ও প্রফেসর এম কিউ কে তালুকদারকে আউটস্ট্যান্ডিং এশিয়া প্যাসিফিক পেডিয়াট্রিসিয়ান অ্যাওয়ার্ড ২০১৬ প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট, যুক্তরাজ্য, ভারত, শ্রীলংকা, নেপাল ও রাশিয়া থেকে ১২ জন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিশু বিশেষজ্ঞ এসেছেন। তিনদিনব্যাপি এই সম্মেলনে তারা বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ উপস্থাপন সহ বিভিন্ন কর্মশালা ও সেমিনার পরিচালনা করবেন যাতে দেশের কয়েকশ চিকিৎসক অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলন শেষে নবজাতক, শিশু এ মাতৃমৃত্যুরোধ ও তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের নিকট কিছু প্রস্তাবনাও পেশ করা হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, মা, শিশু ও কিশোরীদের স্বাস্থের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। আমরা ইতিমধ্যে মা ও শিশু মৃত্যুর হার রোধ করে এমডিজি চার অর্জন করেছি।

তিনি বলেন, আমাদের সামনে এখন বড়ো চ্যালেঞ্জ এসডিজি অর্জন। এজন্য তিনি সরকারের পাশাপাশি শিশু চিকিৎসক সহ উন্নয়ন সহযোগীদের যথার্থ পদক্ষেপের মাধ্যমে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

প্রফেসর কামরুল হাসান খান বলেন, শিশু চিকিৎসায় বিএসএমএমইউ’র সিন্ডিকেট মিটিংয়ে এই প্রথমবারের মতো পেডিয়াট্রিক ফ্যাকাল্টি খোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইতিমধ্যে চালু হয়েছে শিশু পেডিয়াট্রিক নিউরোলজি ও পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজি বিভাগ।

প্রফেসর মোহাম্মদ সহিদুল্লাহ বলেন, হাসপাতালে ডেলিভারি অথবা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ধাত্রীর দ্বারা ডেলিভারির বিষয়টি নিশ্চিত করা গেলে মৃত্যুহার কমানো সম্ভব হবে। তাছাড়া আরো শিশু চিকিৎসক, সেবিকা ও ধাত্রীদের নিয়োগ ও উন্নত প্রশিক্ষন দিয়ে কাজের পরিবেশ তৈরি করা উচিত।

তিনি বলেন, অন্তত: তারা যদি সঠিকভাবে সন্তান প্রসব করানো, বুকের দুধ পান, নাভি কাটা সহ আনুষাঙ্গিক কাজগুলো সঠিকভাবে করে তবে মা ও নবজাতক মৃত্যুহার রোধ হবে। রবিবার শেষ হচ্ছে এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন।

ঢাকা, ২২ অক্টোবর, (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// আইএইচ