[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



প্রতিবন্ধীদের জন্য ৬০৬টি বিশেষ স্কুল


প্রকাশিত: October 23, 2016 , 8:26 am | বিভাগ: ন্যাশনাল


otizom
লাইভ প্রতিবেদক: অটিস্টিক ও সব ধরনের প্রতিবন্ধী শিশুর শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসনের অধিকার নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য সারা দেশে ৬০৬টি বিশেষ স্কুল নির্মাণ করবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। এসব স্কুলে প্রতিবন্ধী শিশুদের সহজভাবে শিক্ষা দেয়ার মাধ্যমে সাধারণ স্কুলে যাওয়ার উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে। জীবন দক্ষতা উন্নয়নে বৃত্তিমূলক ও কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে পুনর্বাসন করা হবে। আর স্কুল প্রতিষ্ঠা, পরিচালনা, নিয়ন্ত্রণ, পাঠদান পদ্ধতি, পাঠ্যসূচি, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগসহ সকল বিষয়ে নিয়ন্ত্রণের জন্য ‘প্রতিবন্ধিতা সম্পর্কিত সমন্বিত বিশেষ শিক্ষা নীতিমালা-২০১৬’-এর খসড়া চূড়ান্ত করেছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়।

খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতি উপজেলায় একটি, সিটি করপোরেশন এলাকায় তিনটি, পুরাতন জেলা সদরে দুটি, নতুন জেলা সদরে একটি বিশেষ স্কুল নির্মাণ করা হবে। এছাড়া, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় পাঁচটি করে দশটি এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় দুটি স্কুল নির্মিত হবে। নতুন স্কুল নির্মাণের জন্য সিটি করপোরেশন এলাকায় ৫ শতক বা দুই হাজার বর্গফুটের ফ্ল্যাট।

জেলা সদরের জন্য ১০ শতক এবং উপজেলা পর্যায়ে ১৫ শতক জমি থাকতে হবে। ব্যক্তির নামে স্কুল নির্মাণ করতে হলে প্রতিষ্ঠানের নামে ৫ লাখ টাকা এককালিন দিতে হবে। দাতা সদস্যের জন্য এককালিন এক লাখ টাকা দিতে হবে। স্কুল নির্মাণের জন্য স্বেচ্ছাসেবী সমাজকল্যাণ সংস্থাসমূহ (রেজিস্ট্রেশন ও নিয়ন্ত্রণ) বিধি ১৯৬২-এর নির্ধারিত ফরমে সমাজসেবা অধিদপ্তরে আবেদন করতে হবে। সরজমিন পরিদর্শন প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় স্বীকৃতি প্রদান করবে।

নীতিমালায় আরো বলা হয়েছে, প্রত্যেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে ৫০ জন শিক্ষার্থী থাকতে হবে। তবে হাওর, বাওড়, চরাঞ্চল, পশ্চাৎপদ এলাকা ও পার্বত্য জেলাসমূহের জন্য অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী থাকতে হবে। শ্রবণ ও বাক এবং দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর অনুপাত হবে ১:১০।

বুদ্ধি এবং সেরিব্রাল পালসি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ১:৭। অটিস্টিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ১:৫। সেরিব্রাল পালসি ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ১:১০। অন্যান্য প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ১:১৫। এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মতো এসব স্কুলের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রদান করবে। শিক্ষকদের বেতন-ভাতা নির্ধারণের জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব বা অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠিত হবে।

এতে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি থাকবে। এ কমিটি নতুন স্কুলের অনুমোদন দেবে। শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসরভাতা প্রদান করবে। এ জন্য পাঁচ সদস্যের একটি বোর্ড গঠন করা হবে।

পাঠ্যসূচি সম্পর্কে নীতিমালায় বলা হয়েছে, জাতীয় পর্যায়ে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য সমন্বিত শিক্ষাক্রম তৈরি না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক অনুমোদিত শিক্ষাক্রম সমভাবে প্রযোজ্য হবে। শ্রবণ ও বাক এবং দৃষ্টি প্রতিবন্ধী স্কুলে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের শিক্ষাক্রম অনুসরণ করতে হবে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য প্রাথমিক ও বার্ষিক মূল্যায়ন প্রতিবেদন থাকতে হবে।

শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ভাষার বিকাশের জন্য স্পীচ থেরাপি বাধ্যতামূলক। ৬ বছরের কম বয়সী শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শ্রবণ যন্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে মৌখিক পদ্ধতিতে শিক্ষাদানের ব্যবস্থাসহ ইশারা ভাষা প্রয়োগ এবং সমন্বিত শিক্ষাদান পদ্ধতি ব্যবহার করে এনসিটিবি’র পাঠ্যসূচি অনুসরণ করতে হবে। বর্তমানে ৬৪ জেলায় একটি করে সমন্বিত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী স্কুল, ৭টি শ্রবণ প্রতিবন্ধী স্কুল, পাঁচটি দৃষ্টি প্রতিবন্ধী স্কুল ও ৫৬টি বুদ্ধি প্রতিবন্ধী স্কুল রয়েছে।

বুদ্ধি প্রতিবন্ধী স্কুলের মধ্যে সুইড বাংলাদেশ পরিচালিত ৪৮টি, বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশন পরিচালিত ৭টি ইনক্লুসিভ স্কুল এবং প্রয়াস পরিচালিত একটি অটিস্টিক স্কুল রয়েছে। এছাড়া, রাজধানীর মিরপুরে ‘জাতীয় বিশেষ শিক্ষা কেন্দ্র’ রয়েছে।

 

ঢাকা, ২৩ অক্টোবর, (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// এএসটি