[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



রাবিতে ভর্তি যুদ্ধ শুরু কাল থেকে; সক্রিয় প্রতারক চক্র!


প্রকাশিত: October 23, 2016 , 9:34 pm | বিভাগ: আপডেট,পাবলিক ইউনিভার্সিটি,রাজশাহীর ক্যাম্পাস


RU-live-cl

রাবি লাইভ: আগামীকাল সোমবার থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) শুরু হচ্ছে প্রথম বর্ষ (সম্মান) ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা। ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে প্রতারক চক্রগুলো। যেকোন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা আসলেই এক ধরনের অসাধু বা প্রতারক চক্র জালিয়াতির মাধ্যমে বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়ে থাকে। এতে করে কম মেধাবীরা টাকার জোরে ভর্তির সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে মেধাবীরা কম মেধাবীদের টাকার কাছে হার মানতে হয়। এদিকে পরীক্ষা শুরুর আগেই ১১ অক্টোবার বিকেলে রাব্বুল আরশীল আজিম (রাশেদ) নামের এক শিক্ষার্থীকে হাতে-নাতে ধরে পুলিশের হাতে সোপার্দ করেছিল শিক্ষার্থীরা।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছরের মতো এ বছরও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী মেসগুলোতে অবস্থান নিয়েছে প্রতারক চক্রের একটি শক্তিশালী গ্রুপ। তারা তূলনামুলক কম মেধাবী ভর্তিচ্ছুদেরকে ভর্তি করার নামে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ফন্দি পেতেছে।

জালিয়াতি চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন মেসে গিয়ে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে চান্স পাওয়ার শতভাগ গ্যারান্টিও দিচ্ছে বলে একাধিক ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী জানিয়েছে। তাছাড়া ভর্তি পরীক্ষার সময় আবাসিক হল ও পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে এসব চক্র ভূয়া প্রশ্নপত্র কেনা বেচা করে বলে বিশ্বস্থ সূত্র জানিয়েছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ভর্তি পরীক্ষায় অনলাইনে আবেদন করার সুযোগ নিয়ে অন্যান্যবারের ন্যায় এবার নতুন কৌশল এটেছে প্রতারক চক্র। আবেদনের সময় নামে-বেনামে বিভিন্ন শিক্ষার্থীদের কাগজ পত্র দেখিয়ে বাড়তি ফরম উঠায় এসব চক্র। পরীক্ষার দিন এসব বাড়তি ফরমে প্রতারক চক্রের সদস্যরা প্রবেশপত্রে ভর্তিচ্ছুর ছবি পরিবর্তন করে সেখানে রাবি ও ঢাবিসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের ছবি লাগিয়ে প্রক্সির মাধ্যমে নিরাপদে পরীক্ষা দেয়।

ভর্তি পরীক্ষার আবেদন পত্র দুই পার্ট বিশিষ্ট হওয়ার কারণে তারা সহজেই এসব বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে বলে জানা গেছে। অথচ ঢাবিসহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশপত্রের তিনটি অংশ করা হয়। একটি অংশে লেখা থাকে পরীক্ষার হলে যাচাই করার জন্য। শিক্ষক মন্ডলী পরীক্ষার হলে যাচাই করে থাকে। কিন্তু রাবিতে এই পদ্ধতি অবলম্বন করা হয় না বিধায় প্রতারক চক্র সুযোগ পাচ্ছে বলে অনেকেই মনে করছেন।

তবে এ বছর ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট আসন উল্লেখ করা হয়েছে। যা অন্যান্য বারের পরীক্ষাগুলোতে এমনটি করা হয়নি। বিগত বছরগুলোর জালিয়াতি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এসব জালিয়াতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা টাকার বিনিময়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে থাকে। এসব জালিয়াতিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দেয় ভ্রাম্যমান আদালত।

এ বছর পরীক্ষা শুরুর আগেই গত ১১ অক্টোবর রাশেদ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতির নাম করে জালিয়াতির মাধ্যমে ভর্তি করার জন্য এক লক্ষ ২৫ হাজার টাকার চুক্তি করে নাটোরের সদর থানার ভর্তিচ্ছু জোবায়েরের সাথে। চুক্তি মোতাবেক জোবায়েরের কাছ থেকে রাশেদ ৫ হাজার টাকা নেয়। বাকি টাকা নেওয়ার জন্য জোবায়ের তার বড় ভাই বাপ্পীর কাছ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে টাকা নিতে বলে।

রাশেদ বিকেলে কাজলায় বাপ্পীর সাথে দেখা করে টাকা চাই। এসময় বাপ্পী জালিয়াতির বিষয়টি বুঝতে পেরে ছাত্রলীগের সভাপতিকে জানায়। ঘটনাস্থলে সভাপতিসহ অন্যরা উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞাসাবাদে সে জালিয়াতির কথা স্বীকার করে। পরে তাকে মতিহার থানা পুলিশের কাছে তুলে দেয়।

২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির দায়ে রাবি শাখা ছাত্রলীগ কর্মী দেবাষিশ কর্মকারকে এক বছরের কারাদন্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। মাসুদ রানার প্রবেশপত্র ব্যবহার করে রাবির হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতা দেবাষিশ কর্মকার ‘ডি’ (ব্যবসায় অনুষদ) ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় চার্চিল নামের এক ভর্তিচ্ছুকে সহায়তা করছিল।

সাজা প্রাপ্ত দেবাষিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ মখদুম হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন ওই হলের ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন বলেও জানা যায়। ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় মোবাইল ডিভাইসে জালিয়াতির অভিযোগে রাবি শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আতিকুর রহমান সুমনের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়।

ছাত্রলীগ নেতা সুমন মাহমুদুল আলম নামের এক ভর্তি পরীক্ষার্থীর ফোনে উত্তরপত্রের ম্যাসেজ দেয়। তবে এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপাওে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টও প্রফেসর ড.মুজিবুল হক আজাদ বলেন, ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতের কারণে অভিযুক্তদের বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তির লক্ষ্যে ভ্রাম্যমান আদালত কাজ করবে। বিগত বছরগুলোতে ভর্তি পরীক্ষার সময় অস্থায়ী ভ্রাম্যমান আদালত কাজ করেছে। প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও সব ধরনের জালিয়াতি ঠেকাতে ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ভ্রাম্যমান আদালত কাজ করবে বলে তিনি জানান।

ঢাকা, ২৩ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// আইএইচ