[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



‘পর্নো তারকাকে ১০ হাজার ডলার প্রস্তাব, কিন্তু সম্মতি মিলেনি’!! ভিডিও


প্রকাশিত: October 24, 2016 , 9:27 am | বিভাগ: ইন্টারন্যাশনাল,খবর


jasika_drake_

ইন্টারন্যাশনাল লাইভ: পর্নো তারকাকে ১০ হাজার ডলার প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। সম্মতি মিলেনি। রাজি হননি ওই পর্নো তারকা। পাল্টা অভিযোগ টুকে দেন ডনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। এনিয়ে সে সময় তোলপাড় হয়েছিল। এবার যৌন হয়রানির অভিযোগ এনেছেন পর্নো তারকা ও পরিচালক জেসিকা ড্রেক। তিনি বলেছেন, শারীরিক সম্পর্কের জন্য তাকে ১০ হাজার ডলার প্রস্তাব করেছিলেন ট্রাম্প। এ নিয়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মোট ১১ জন নারী একই রকম অভিযোগ আনলেন।

জেসিকা বলেছেন, এক দশক আগে ট্রাম্প তার ফোন নম্বর চান। ২০০৬ সালের যেদিন তাদের সাক্ষাৎ হয়েছিল সেদিন রাতেই জেসিকাকে তার স্যুটে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। তার আমন্ত্রণ রক্ষা করে ওই স্যুটে হাজির হয়েছিলেন জেসিকা। সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন আরো দু’জন নারীকে। কারণ, একা একা সেখানে যেতে তিনি সাহস পাচ্ছিলেন না। এ বিষয়ে শনিবার লস অ্যানজেলেসে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জেসিকা। তিনি বলেছেন, আমরা তার স্যুটে যাওয়ার পরই ট্রাম্প আমাদের প্রত্যেককে জড়িয়ে ধরলেন। ‘হাগ’ (আলিঙ্গন) দিলেন। আমাদের অনুমতি না নিয়েই তিনি আমাদের চুমু দেয়া শুরু করলেন। জেসিকা এতে সেখানে এক অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়েন। তিনি ৩০ থেকে ৪৫ মিনিটের মধ্যে ট্রাম্পের অফিস ত্যাগ করেন। এর পরেই ট্রাম্পের এক সহকর্মীর কাছ থেকে তিনি একটি ফোন কল পান।

তিনি জেসিকাকে ট্রাম্পের রুমে একা যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান। কিন্তু সেই আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেন জেসিকা। এ খবর দিয়েছে অনলাইন সিএনএন। এতে বলা হয়েছে, এখন থেকে এক দশক আগে এসব ঘটনা ঘটে যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদায় লেক তাহোতে একটি চ্যারিটি গলফ টুর্নামেন্টে। ২০০৫ সালের ‘এক্সেস হলিউড’ টেপ প্রকাশ হওয়ার পর একের পর এক নারী ডনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনছেন। তাতে যা দেখা যায় তাহলো, ওই টেপে ট্রাম্প নারীদের নিয়ে তার যে নোংরা মানসিকতার প্রকাশ ঘটিয়েছেন, অভিযোগকারী নারীদের বর্ণনাও তার সঙ্গে মিলে যায়। তিনি নারীদের ভোগ করার ক্ষেত্রে তাদের অনুমতির প্রয়োজন নেই- এমন একটি মনোভাব প্রকাশ ঘটিয়েছেন।

333

অভিযোগকারী নারীরাও তাই বলেছেন, ট্রাম্প তাদের অনুমতি না নিয়েই তাদের সঙ্গে অশালীন কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার চেষ্টা করেছেন। এমন অভিযোগকারী নারীর সংখ্যা কমপক্ষে ১১ জন। তার মধ্যে সর্বশেষ হলেন জেসিকা ড্রেক। শনিবার তিনি এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তার চিবুক গড়িয়ে ঝরতে থাকে অশ্রু। জেসিকা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সহকর্মীর প্রত্যাশামতো তিনি আমাকে না পেয়ে নিজে আমার ফোনে ফোন করেন। আমাকে তার অফিসে ফিরে যেতে আহ্বান জানান। বলেন, চলো আমরা রাতের খাবার খেতে বাইরে যাই। অথবা তার সঙ্গে কোনো এক পার্টিতে যোগ দেয়ার আহ্বান জানান। কিন্তু এবারও আমি তার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করি। তখন ট্রাম্প আমাকে বলেন, তুমি কি চাও? কত (ডলার) চাও? তার আমন্ত্রণ আমি প্রত্যাখ্যান করার পর তিনি আমাকে বলেন, আমি তোমাকে ১০ হাজার ডলার দেবো। যদি আমার প্রস্তাব রাখো তাহলে আমার প্রাইভেজ জেট ব্যবহার করতে পারবে।

ওই সংবাদ সম্মেলনে ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে জেসিকা ড্রেককে একসঙ্গে একটি ছবিও দেখানো হয়। এ সময় জেসিকার পক্ষ অবলম্বন করেন নারী বিষয়ক অধিকারকর্মী গ্লোরিয়া অলরেড। এর আগে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যেসব যৌন হয়রানির অভিযোগ আনা হয়েছে তা জোর দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে ট্রাম্প শিবির। এবার জেসিকার অভিযোগও তারা প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দেয়া হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, এ কাহিনী সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে অনেক মানুষ এ রকম ছবি তুলে থাকেন। এমন হাজারো ছবি আছে। জেসিকা যে ছবি দেখিয়েছেন সেটা তেমনই একটি ছবি। জেসিকা ড্রেককে চেনেন না ট্রাম্প। তার কথা তার স্মরণেও নেই। তাকে চেনার কোনো আগ্রহও তার মধ্যে নেই। ট্রাম্পের অবমাননা করার জন্য এটা হলো হিলারি ক্লিনটনের প্রচারণা শিবিরের আরেকটি কৌশল।

jessica-drake-donald-trump+clbd

এর মধ্য দিয়ে হিলারির প্রচারণা শিবির নির্বাচনে জালিয়াতির আরেকটি কৌশল অবলম্বন করেছে। ওদিকে যেসব নারী ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এনেছেন তাদের বিরুদ্ধে নির্বাচনের পর মামলা করার হুমকি দিয়েছেন ডনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার তিনি এমন হুমকি দিয়েছেন। তবে এদিন তিনি ক্লিভল্যান্ডে প্রচারণায় ব্যস্ত ছিলেন। জেসিকা ড্রেকের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি কিছু বলেন নি। এর জবাবে গ্লোরিয়া অলরেড বলেছেন, ট্রাম্প যদি ভেবে থাকেন যে, এসব কৌশলের মধ্য দিয়ে তিনি অভিযোগকারীদের কণ্ঠ স্তব্ধ করে দিতে পারবেন, অন্য নারীদের এমন অভিযোগ নিয়ে সামনে আসা বন্ধ করে দিতে পারবেন তাহলে তা হবে তার জন্য হতাশাজনক। ডনাল্ড ট্রাম্প ভয় দেখিয়ে নারীদের কণ্ঠ স্তব্ধ করে দিতে পারবেন না।

যৌন হয়রানির অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে মামলা
যেসব নারী ডনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনেছেন তাদের সবার বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দিয়েছেন তিনি। পেনসিলভ্যানিয়ায় গেটিসবার্গে প্রথম ১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করার সময় তিনি বলেছেন, আমার প্রচারণাকে বিঘ্নিত করতে বা প্রচারণায় আঘাত হানতে এমন অভিযোগকারী প্রতিটি নারী মিথ্যা বলেছে। তাদের অভিযোগ পুরোপুরি বানানো। তারা যে অভিযোগ এনেছে তা কখনো ঘটেনি। কক্ষণও না। নির্বাচন শেষ হয়ে যাওয়ার পর এসব মিথ্যাবাদীর সবার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। ট্রাম্প আরো অভিযোগ করেন বড় বড় সব সংবাদ মাধ্যমের সাধারণ একটি ফোন কলের মাধ্যমে তাদের সব কথা ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে, কার্যত যার কোনো বাস্তবতা নেই।

গত ৭ই অক্টোবর ২০০৫ সালের একটি রগরগে অডিও-ভিডিও প্রকাশ পাওয়ার পর এ পর্যন্ত কমপক্ষে ১১ জন নারী ডনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনেছেন। ওই টেপে তিনি নিজে স্বীকার করেছেন, বিবাহিত এক নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য তিনি বেপরোয়াভাবে চেষ্টা করেছিলেন। তিনি সুন্দরীদের দেখলে অপেক্ষা করতে পারেন না। তাদেরকে ধরে চুমু দিতে থাকেন। তাছাড়া কেউ একবার তারকা হয়ে গেলে নারীদের সঙ্গে যা খুশি তাই করতে পারেন বলে তিনি মন্তব্য করেন। অন্য একটি টেপে তিনি হলিউড কাঁপানো অভিনেত্রী লিন্ডসে লোহানকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, লিন্ডসে লোহান বিছানায় খুব উপভোগ্য হবে। এ ছাড়া ডনাল্ড ট্রাম্প নিজের মেয়ের শারীরিক গঠন নিয়ে মন্তব্য করতে ছাড়েননি। তার মেয়ে ইভানকা স্তন স্ফীতকরণ করাননি বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। বলেছেন, সে খুব সুন্দরী, আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। যেসব নারী ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনেছেন তাদের মিথ্যাবাদী বললেও টেপের কথাগুলোর বিষয়ে ক্ষমা চেয়েছেন ট্রাম্প। এ বিষয়ে তিনি সামনে ঠেলে দিয়েছেন স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পকে। মেলানিয়া বলেছেন, তিনি ট্রাম্পকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।

maxresdefault

মার্কিনিদেরও তাই করা উচিত। তবে ট্রাম্প যেসব কথা বলেছেন তা অগ্রহণযোগ্য। অসংযত। তবে অভিযোগকারী বা সত্য তুলে ধরা ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলার ভয় দেখানো ট্রাম্পের জন্য নতুন কিছু নয়। এ মাসের শুরুতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দিয়েছেন। তাদের অপরাধ তারা তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। মামলার হুমকি দেয়ার দু’সপ্তাহ পরে তিনি মামলা করা থেকে পিছিয়ে যান। ২২শে আগস্ট শনিবার তিনি যৌন হয়রানির অভিযোগ ছড়িয়ে দেয়ার জন্য দায়ী করেন প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারি ক্লিনটন শিবিরকে। বলেছেন, এসব নারীকে দিয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করিয়েছে হিলারি ক্লিনটনের প্রচারণা শিবির।

ট্রাম্প বলেন, এসব করেছে সম্ভবত ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটি ও হিলারি ক্লিনটনের প্রচারণা শিবির। তারাই বানোয়াট গল্প নিয়ে এসব নারীকে সামনে এগিয়ে দিয়েছে। ট্রাম্পের এ অভিযোগের বিষয়ে হিলারি ক্লিনটনের কাছে জানতে চেয়েছিলেন সাংবাদিকরা। শনিবার রাতে তিনি বলেছেন, ট্রাম্প যে কথা বলেছেন তার কোনো সত্যতা নেই।

মামলার হুমকিতে ভীত নন নারীরা
যৌন হয়রানির অভিযোগকারী নারীদের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দিয়েছেন ডনাল্ড ট্রাম্প। তার এ হুমকির জবাবে মুখ খুলেছেন অভিযোগকারী কিছু নারী। তারাও দমে যাওয়ার পাত্রী নন। ট্রাম্পের হুমকির জবাব দিয়েছেন আরো জোরালোভাবে। বলেছেন, যদি ট্রাম্প অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করেন তাহলে শুধু ট্রাম্প একা নন, তার সঙ্গে থাকা সবার বিরুদ্ধে মামলা করার শক্তি আমাদের আছে। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির শিকার জিল হার্থ অন্যতম। তার হয়ে প্রতিনিধিত্ব করছেন লিসা ব্লুম।

তিনি অভিযোগ করেছেন, ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে দুটি আলাদা ঘটনায় জিলের দিকে অপ্রত্যাশিত যৌন সুবিধা নিতে চেষ্টা করেছিলেন ট্রাম্প। তিনি ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্যের জবাবে টুইটারে শনিবার বিকালে লিখেছেন, যদি ট্রাম্প অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করেন, তাহলে শুধু ট্রাম্প নন, তার সহযোগীদের বিরুদ্ধেও আদালতে যাওয়ার শক্তি আছে তাদের। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনেছেন ক্যাথি হেলার। গত সপ্তাহে তিনি বলেছেন, ২০ বছর আগে তার অনুমতি না নিয়ে তাকে চুমু দিয়েছেন ডনাল্ড ট্রাম্প। মামলার হুমকি দেয়ার পর তিনি সিএনএনকে বলেছেন, আমি মনে করি এ হুমকি অন্যদের (নির্যাতিত নারীদের) বিরত রাখতে পারবে না। আরো অনেক নারী তাদের গোপন কথাগুলো খুলে বলে দেবেন। অনুমতি ছাড়া ট্রাম্পের বিরুদ্ধে চুমু খাওয়ার আরো অভিযোগ করেছেন টেম্পল তাগার্ট। তিনি সিএনএনকে বলেছেন, ট্রাম্পের মামলার হুমকিতে তিনি মোটেও বিস্মিত নন। তাগার্ট বলেছেন, ট্রাম্প তার বিরুদ্ধে পরিষ্কার অভিযোগগুলো থেকে নিজেকে মুক্ত করতে, সত্য মেনে নিতে, অভিযোগকারীদের কণ্ঠ রোধ করতে মমলার হুমকি দিতেই পারেন। এটা তার একটি হতাশাজনক কর্মকাণ্ড। ডনাল্ড ট্রাম্পের হাতে যৌন নির্যাতনের শিকার তিন নারীর প্রতিনিধিত্ব করছেন মানবাধিকার বিষয়ক আইনজীবী গ্লোরিয়া অলরেড। তিনি মনে করেন, ট্রাম্পের ওই হুমকি অন্য নারীদের অভিযোগ প্রকাশ করে দিতে বিরত রাখতে পারবে না।

শনিবার লস অ্যানজেলেসে এক সংবাদ সম্মেলনে গ্লোরিয়া অলরেড বলেন, যদি ট্রাম্প মনে করে থাকেন হুমকি দেয়ার কৌশলের মাধ্যমে তিনি অভিযোগকারী নারী ও যারা সামনের দিনগুলোতে তাদের কথাগুলো বলতে চান তাদের থামাতে পারবেন তাহলে পুরোপুরিই হতাশ হতে হবে তাকে। ডনাল্ড ট্রাম্পের হুমকিতে, ভয়ভীতিতে নারীদের কণ্ঠ কখনও স্তব্ধ হবে না।

ট্রাম্পকে সমর্থন দেবে না শীর্ষ সমকামী সংগঠন
যুক্তরাষ্ট্রে রিপাবলিকানপন্থি শীর্ষ সমকামী বিষয়ক সংগঠন সমর্থন দেয়নি ডনাল্ড ট্রাম্পকে। এ সংগঠনটির নাম ‘দ্য লগ কেবিন রিপাবলিকানস’। তারা রিপাবলিকানপন্থি সমকামী গ্রুপগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রভাবশালী। এ খবর দিয়েছে অনলাইন সিএনএন। ট্রাম্পের প্রশংসা করলেও কিছু বিষয়ে, বিশেষ করে সমকামী ইস্যুতে তার সঙ্গে মতভেদ আছে গ্রুপটির। যেসব মানুষ সমকামী বিয়েতে অমত দেখাবে তাদের শাস্তি দেয়ার বিষয়টি দীর্ঘদিন সেখানে আলোচনায়। এ বিষয়ে একটি বিল আনা হয়েছে।

সেই বিলের অধীনে যারা সমকামীদের বিয়ের বিরোধিতা করবে তাদের সুরক্ষা দেয়া হবে। এ বিলটিতে ট্রাম্পের অনেক উপদেষ্টা ও সমর্থকের সমর্থন রয়েছে। এ জন্য ট্রাম্পের ওপর ক্ষুব্ধ গ্রুপটি। তাই তারা তাদের সমর্থন প্রত্যাহার করেছে। এক বিবৃতিতে গ্রুপটি বলেছে, লগ কেবিন রিপাবলিকানরা দীর্ঘ সময় ধরে বলে আসছে যে, তারা একটি একক ইস্যুভিত্তিক সংগঠন নয়। তাদের সদস্যদের শুধু ভোটাধিকারের বিষয়ে তারা শুধু কাজ করে না। তারা কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠ রিপাবলিকানদের সুরক্ষা বিষয়ক নির্বাচনী দৌড়ে বরং আত্মনিয়োগ করবে। উল্লেখ্য, ডনাল্ড ট্রাম্প মাঝে মাঝেই এলজিবিটি আমেরিকানদের একজন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে আখ্যায়িত করতেন। বিশেষ করে জুনে অরল্যান্ডোতে সমকামীদের একটি নৈশক্লাবে হামলার পর তিনি এটা বেশি করে বলেছেন। জুলাইয়ে রিপাবলিকানদের জাতীয় সম্মেলনে তার বক্তব্যেও এ কথাটি বলেছেন। এ বিষয়ে দ্য ওয়াশিংটন ব্লেড লিখেছে, এলজিবিটি সমপ্রদায়ের বিষয়ে এতটা ইতিবাচকভাবে তুলে ধরার ক্ষেত্রে ট্রাম্পই প্রথম রিপাবলিকান প্রার্থী।

ট্রাম্পের মন্তব্যকে জীবনের অংশ বললেন তার ছেলে। নারীদের নিয়ে ডনাল্ড ট্রাম্পের নোংরা মন্তব্যকে জীবনের অংশ বলে মন্তব্য করেছেন তার ছেলে ডনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র। এছাড়া তার পিতার মন্তব্যকে তিনি একটি ভুল বলে স্বীকার করে নিয়েছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন সিএনএন। এতে বলা হয়, ডনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র শুক্রবার কেআইআরও ৯৭.৩-এর ‘ডোরি মনসন শো’তে উপস্থিত হয়েছিলেন। সেখানে তার পিতার ২০০৫ সালে নারীদের নিয়ে রগরগে কথাবার্তার বিষয়ে তিনি বলেছেন, ট্রাম্পের ওইসব কথাবার্তার জন্য অবশ্যই তিনি খুশি নন। তিনি বলেন, কিন্তু আমি মনে করি আমরা সবাই হয়তো এমন পুরুষদের চিনি যারা অন্য পুরুষদের সঙ্গে ওই জাতীয় কথাবার্তা বলেন।

এটাতো জীবনেরই অংশ। আমি বিশ্বাস করি আমার পিতা সাধারণ মার্কিনিদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে সক্ষম হবেন। অনেক ক্ষেত্রেই তিনি এমন সম্পর্ক গড়ার মতো মানুষ। তিনি এমন সম্পর্কই গড়ে থাকেন। তিনি যে মন্তব্য করেছেন সারাজীবনে তিনি তেমন মানুষ নন। উল্লেখ্য, ডনাল্ড ট্রাম্প ২০০৫ সালের ওই টেপে নারীদের নিয়ে যে নোংরা মন্তব্য করেছেন তার জন্য তিনি ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি ওইসব মন্তব্যকে ‘লকার রুম টক’ বা বদ্ধঘরের আলোচনা বলে আখ্যায়িত করেছেন। তার স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প এটাকে ‘বয় টক’ বা ছেলেদের উচ্ছ্বসিত আলোচনা বলে চালিয়ে দিয়েছেন। তবে পিতার ওই মন্তব্যকে একটি ভুল বলে মনে করেন তার ছেলে। তিনি বলেন, ডনাল্ড ট্রাম্প হৃদয় দিয়ে যা অনুভব করেন তিনি তা-ই বলেন। তিনি এর মাধ্যমে যে ভুলটি করেছেন তাও স্বীকার করেছেন।

tramp+jasika06
‘ট্রাম্পের হাত আমার বুক স্পর্শ করলো’ আমার দিকে হেঁটে এলেন ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বললেন, একে তো আমরা এর আগে দেখিনি। দেখো তার পা দুটো (কী সুন্দর)! তিনি এসে আমার ডান বাহু আঁকড়ে ধরলেন। তার হাত আমার বুক স্পর্শ করলো। আমি তার আচরণে হতাশ হয়ে পড়লাম। আমি শিউরে উঠলাম। ডনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির এমন অভিযোগ এনেছেন আরেকজন নারী। তার নাম কারিনা ভার্জিনিয়া। বৃহস্পতিবার সকালে ম্যানহাটানে লন্ডন হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ আনেন কারি না।

এ সময় তার পাশে ছিলেন নারীদের অধিকার বিষয়ক এটর্নি গ্লোরিয়া অলরেড। সংবাদ সম্মেলনে কারিনা বলেছেন, এসব ঘটনা ঘটেছে ১৯৯৮ সালে ইউএস ওপেন টেনিস টুর্নামেন্টের সময়। এ নিয়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক এমন অভিযোগ করলেন ১০ জন নারী। এরপর শনিবার আরো একজন নারী জেসিকা ড্রেক, যিনি পর্নো তারকা, একই অভিযোগ করেছেন। এ নিয়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগকারীর সংখ্যা দাঁড়ালো কমপক্ষে ১১। তবে নারীদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের প্রার্থী ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি উল্টো অভিযোগকারী নারীদের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে কারিনা বলেছেন, ১৯৯৮ সাল। কুইন্সের ফ্লাশিংয়ে হচ্ছিল ইউএস ওপেন টেনিস টুর্নামেন্ট। সেখানে উপস্থিত ছিলাম আমি। এক পর্যায়ে গাড়ির জন্য অপেক্ষায় ছিলাম। এমন সময় ডনাল্ড ট্রাম্প আমার দিকে এগিয়ে এলেন। তিনি কে তা আমি জানতাম। তবে এর আগে কখনও তার সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়নি। তার সঙ্গে তখন আরো দু’একজন পুরুষ ছিলেন। এক পর্যায়ে ট্রাম্প বললেন, ‘এই সবাই, ওর দিকে দেখ।

আমরা তো ওকে এর আগে দেখিনি। তার পা দুটি কি সুন্দর, দেখ!’ তার কাছে আমি যেন একটি দর্শনীয় বস্তু ছিলাম। এরপর ট্রাম্প আমার দিকে এগিয়ে এলেন। ডান বাহু আঁকড়ে ধরলেন। তার হাত আমার বুক স্পর্শ করলো। এতে আমি হতাশ হয়ে পড়লাম। গা শিউরে উঠলো। তিনি বলে উঠলেন, ‘আমি কে তুমি চেন? আমি কে তুমি জান?’ তিনি আমাকে এটাই বলেছিলেন। এ সময় তার কথায় আমি ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ি। আমার শক্তি ক্ষয়ে আসে। পরে আমি লজ্জা অনুভব করতে থাকি।
সেসব প্রসঙ্গ টেনে কারিনা বলেছেন, আমাকে এই সংবাদ সম্মেলন করতে কেউই আহ্বান জানাননি। হয়তো এ জন্য ট্রাম্প আমাকে মিথ্যাবাদী বলতে পারেন। অথবা তিনি আমাকে আরেকজন ‘ন্যাস্টি ওম্যান’ বলে আখ্যায়িত করতে পারেন। তবুও ৫ বছর আগে তিনি ট্রাম্পের মুখোমুখি হয়েছিলেন। সরাসরি তার মুখের ওপর বলেছিলেন, মিস্টার ট্রাম্প, হয়তো আপনি আমাকে মনে করতে পারছেন না। এখন থেকে কয়েক বছর আগে আমার সঙ্গে কি করেছিলেন তাও হয়তো স্মরণ করতে পারছেন না। কিন্তু আমি নিশ্চিত, আমি সেই দিনটির কথা স্মরণ করতে পারছি। আমি বুঝতে পারছি সেই দিনটি যেন গতকাল ছিল। যেন গতকালই ঘটেছিল তা।

আপনি যৌনতা নিয়ে মন্তব্য করে যে সুখানুভব করেন তা আমাকে মারাত্মকভাবে আহত করেছে। টেপেই তার সত্যিকার চরিত্র ফুটে উঠেছে। তবে ট্রাম্পের প্রচারণা শিবিরের এক মুখপাত্র এক ইমেইল বার্তায় এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেছেন, গ্লোরিয়া অলরেড হলেন হিলারি ক্লিনটনের আরেকজন রাজনৈতিক অপারেটর, সমন্বয়ক। তিনি হিলারির প্রচারণার কাজ করছেন। তার এ চেষ্টা ট্রাম্পের কোন ইমেজ ক্ষুণ্ন করবে না। এসব কথা বলছেন ট্রাম্পের প্রচারণা বিষয়ক ডেপুটি কমিউনিকেশন্স ডাইরেক্টর জেসিকা দিত্তো। তিনি বলেন, এবার ক্ষান্তি দিন। এসব সার্কাস দেখতে দেখতে ভোটাররা ক্লান্ত। তারা কল্পিত এ গল্প প্রত্যাখ্যান করেছে। এতে হিলারি ক্লিনটন সুবিধা পাচ্ছেন।

ভিডিও:

ঢাকা, ২৫ অক্টোবর(ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এএসটি