[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



জাবিতে ইয়াবা শিশিরের কান্ড‍!


প্রকাশিত: October 25, 2016 , 9:24 pm | বিভাগ: আপডেট,এক্সক্লুসিভ,ক্যাম্পাস,ঢাকার ক্যাম্পাস,পাবলিক ইউনিভার্সিটি


yaba+ju

শারমিন রহমান, জাবি: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থী শরিফুল ইসলাম শিশিরকে নিয়ে তোলপাড় চলছে। কিভাবে সে নেশার জগতে এলো, কার হাত ধরে সামনে যাচ্ছে, এমনকি কখন থেকে নেশা কেনাবেচা শুরু এনিয়ে চলছে নানান হিসাব-নিকাশ। অন্যদিকে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ও পুলিশ এ বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোন ছাড় দিতে রাজি নন। তাদের সাফকথা, সে যেই হোক বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট করতে দেয়া যাবে না।

সংশ্লিস্টরা জানিয়েছেন, শিশির একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের ছাত্রসংগঠনের সদস্য। আগে থেকেই শিশিরের নেশা কাহিনী অনেকেই জানতো। কিন্তু মুখ খুলতে কেউ রাজি ছিলনা। ভয়েও কেউ সাহস করতো না। জানাগেছে গাঁজা ও ইয়াবা এবং এসব খাওয়ার সরঞ্জামাদী উদ্ধার হলেও শিশিরকে কেউ ধরতে পারছে না।

কে ওই শিশির তার রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও নানান গুঞ্জন চলছে ক্যাম্পাসে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শহীদ সালাম বরকত হলের ১৪৮ নম্বর রুমে অভিযান চালিয়ে গাঁজা ও ইয়াবা খাওয়ার সরঞ্জামাদী জব্দ করলেও কাউকে পায়নি হল প্রশাসন। ওই অভিযানে কাউকে আটকও করতে পারেনি হল প্রশাসন।

জানা যায়, গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রোববার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে শহীদ সালাম বরকত হল প্রশাসন ১৪৮ নম্বর রুমে অভিযান চালিয়ে গাঁজা ও ইয়াবা খাওয়ার সরঞ্জামাদী জব্দ করে। ওই রুমে বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম করতো শিশির ও তার ৩/৪ জন সহযোগী। এছাড়া ওই শিশির তার নেশার জগত বড় করতে বেশ কয়েকজনকে টার্গেট করে আসছিল। ওই টার্গেটকৃতদের নেশা ও টাকা দিত বলেও তথ্য মিলেছে। তবে ছাত্রলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে সে দাবড়ে বেড়াতো হল ও ক্যাম্পাস।

ju+yaba

হল প্রশাসন জানান, এ রুমে মীর মশাররফ হোসেন হলের অর্থনীতি বিভাগের ৪২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শরিফুল ইসলাম শিশির নামে একজন ছাত্রকে প্রাথমিকভাবে সনাক্ত করা গেছে।এ বিষয়ে হল প্রাধ্যক্ষ অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর সিকদার মো. জুলকারনাইন ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, ওই শিক্ষার্থীকে হলে অবাঞ্ছিত ঘোষণা কর হয়েছে। এছাড়া অবৈধভাবে হলে অবস্থান করে এ ধরণের কর্মকান্ড করায় বিশ্ববিদ্যালয় শৃঙ্খলা বিধি অনুয়াযী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ দিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক আবু সুফিয়ান চঞ্চলের এলাকার ছোট ভাই এই শিশির। তার অনুমতিতেই তিনি মীর মশাররফ হোসেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী হয়েও সালাম বরকত হলে অবস্থান করতো। এই রুমে অবস্থানকারী শিক্ষার্থীদের কোন তালিকা হল প্রশাসনের কাছে নেই বলে জানা যায়। শিশির ওই ছাত্রলীগ নেতার নাম ভাঙ্গিয়ে নানান অপকর্ম করে বেড়াতো। সাধারণ শিক্ষার্থীরা এ ব্যাপারে কোন উচ্চ বাক্য করতো না। বরং শিশিরকে সমিহ করে চলতো।

হল প্রশাসননের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সালাম বরকত হলের সাংগঠনিক সম্পাদক কার্তিক ঘোষ নীরব, আইআইটি বিভাগের মাহবুব, দর্শন বিভাগের মাহিন শাহরিয়ার ও হাসান ইশতিয়াক হৃদয়ের সঙ্গে শিশিরের ভাল সখ্য ছিল। তারা একইসঙ্গে নেশা করতো বলেও নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা যায়। তারা কেবল নেশা করতো না তারা ইয়াবা ও গাঁজাসহ নেশা জাতীয় বিভিন্ন জিনিষ সাপ্লাই দিত। বিনিময়ে বেশ টাকার লেন-দেনও হতো বলে সংশ্লিস্টরা জানিয়েছেন।

শিশিরকে সহায়তার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক আবু সুফিয়ান চঞ্চল ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, ওই হলে থাকার সমস্যা হচ্ছিল তাই শিশিরের বড় ভাই আমাকে বলেছিল ওর জন্য একটি থাকার ব্যবস্থা করতে। তাই ওকে হলে উঠিয়েছিলাম। পরবর্তীকে শিশির গোপনে কি করছে এটা তো দেখভাল করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর প্রফেসর তপন কুমার সাহা ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, শিশিরের ব্যাপারে এখনো পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ হাতে পাই নাই। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

ঢাকা, ২৫ অক্টোবর(ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এএসটি